‘গন্তব্য আমাকে উপরে টেনে নিয়ে গেছে’

মনের যত কথা-২

  তারেক আনন্দ

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আঁখি আলমগীর। ১০ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেই পেয়ে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তার পর আর অভিনয়ে দেখা না গেলেও দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে দাপটের সঙ্গে গান গেয়ে যাচ্ছেন। চলচ্চিত্র ও অডিওর গানে যেমন সরব, তেমনই স্টেজ সংগীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই গ্ল্যামারাস গায়িকা। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে বলেছেন অনেক কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেনÑ তারেক আনন্দ

দেলোয়ার জাহান ঝন্টু আঙ্কেল এসেছিলেন। আঙ্কেল বলল, আমাকে কয়েকটা গান শুনাও তো। আমি শোনালাম। তিনি বললেন, দারুণ মিষ্টি গলা। বাবাকে বললেন, এত সুন্দর কণ্ঠের একজন শিল্পীকে ঘরে বসাইয়া রাখছ। আঁখি তুমি কালই গাইবে। আমি তো অবাক! ঝন্টু আঙ্কেল তার ছোটভাই নান্টু আঙ্কেলকে বলল আমার জন্য গান রেডি করতে। আমি কালই ভয়েস দেব এবং আমার গান দিয়েই ছবির মহররত শুরু। সত্যি সত্যি আমি প্রথম প্লেব্যাক করলাম। ‘বিদ্রোহী বধূ’ চলচ্চিত্রে ‘বুকে ধরে রাখব ছবি, আঁকব মনে কত আশা’ শিরোনামের গান। ছবিতে লিপসিং করেছেন বাপ্পারাজ ও মৌসুমী। তার চার বছরের মধ্যে চলচ্চিত্রে আমার গাওয়া ৮০, ৯০টি গান গাওয়া হয়ে গেল। এর মধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হয়ে গেলাম।

অডিওর গানে যাত্রা শুরু হলো কীভাবে?

চলচ্চিত্রের গান যখন হিট হলো, তখন সংগীতার সেলিম খান এলেন বাবার কাছে। বাবার সঙ্গে একসঙ্গে তিনটি অ্যালবামের চুক্তি করলেন। প্রথম অ্যালবামÑ ‘প্রথম কলি’। অ্যালবাম হিট হলো। তখন অডিও গানের কাজও বাড়তে শুরু করে। দেশ-বিদেশে আমার পরিচিতি বাড়তে থাকে। একের পর এক প্রকাশ হয়Ñ ‘বিষেরকাঁটা’, ‘বন্ধু আমার রসিয়া’, ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’, ‘বাবুজি’, ‘শ্যাম পিরিতি’, দ্বৈত অ্যালবাম এসডি রুবেলের সঙ্গে ‘মনে রেখ ভালোবেসেছিলম’ উদিত নারায়ণের সঙ্গে ‘তুমি আর আমি’ প্রমুখ। গন্তব্য আমাকে উপরে টেনে নিয়ে গেছে। নিজে থেকে কিছু করতে হয়নি। বাবা শুধু একটা কথাই বলেছেন, ‘এটা তোমার প্রফেশন, কোয়ালিটি মেইনটেইন করে চলতে হবে। তোমার বাবা-মা হেল্প করবে এটা কখনো মনে করবা না। আমি কখনো নিচু হতে শিখিনি।’ আমাদের পরিবার ছিল আগে থেকেই বিখ্যাত পরিবার। দাদা কলিমউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বড় বিজনেসম্যান। ঢাকা শহরে যখন ১৫-১৬টা গাড়ি তখন আমার দাদারই ছিল ৩টা গাড়ি। ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক ছিলেন। নানা ছিলেন পুলিশ অফিসার। এর পরও বাবা দাদার কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা নেননি। যা করেছেন নিজে করেছেন। এটা বলার অর্থÑ আমিও নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছি এবং আমি সেটা পেরেছি। আমার মা তো বলে তুমি মেয়ে না আমার একটা ছেলেই।

স্টেজ সংগীতে আঁখি আলমগীর মানেই ব্যাপক জনপ্রিয় নাম। স্টেজে আপনি উঠলেই শ্রোতারা উন্মাদ হয়ে যায়। এটা দীর্ঘ বছর কীভাবে ধরে রেখেছেন?

আমি স্টেজে উঠলে আমার মাঝে কি যেন ভর করে। আমি সত্যিই জানি না। সত্যি বলতে কী স্টেজই আমার প্রাণ। স্টেজ আমার পছন্দের জায়গা। আমার ভালো লাগে তখনই আমি সমসাময়িক শিল্পী হয়ে থাকছি। অনেক বছর ধরে গানের জগতে থাকলেও আমাকে বেশিরভাগ মানুষ এ প্রজন্মের শিল্পী মনে করেন। এটাই আমার ভালো লাগা।

বিদেশে গান করার মধুর কোনো ঘটনা যদি থেকে থাকে...

আমি ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। অনেক দেশে যাওয়ার সুভাগ্য হয়েছে। কত স্মৃতি যে রয়েছে কোনটা রেখে কোনটা বলি। একবার ইতালিতে শো ছিল। স্টেজে ওঠার আধা ঘণ্টা আগে জানতে পারি অক্টোপ্যাড যিনি বাজান, পলাশ ভাই। তিনি অক্টোপ্যাডের কাঠি ফেলে গেছেন বাংলাদেশে। এখন কী হবে? আরেকটু পরই শো। ইতালির হাইকমিশনার পুরো পরিবার নিয়ে এসেছে প্রোগ্রাম দেখবে। সেদিন ছিল সান ডে। পুরো শহর ছুটি। আমরা পড়লাম মহাদুশ্চিন্তায়। ওখানকার লোকাল যারা বাজায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো। তারাও একটা শো করছে অনেক দূরে। মজার ব্যাপার হলো, কোনো কিছু না পেয়ে রান্নাঘরে যে কাঠের চামচ থাকে সেটা দিয়েই পলাশ ভাই অক্টোপ্যাড বাজান। আমরা একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছি আর হাসছি। অডিয়েন্স কিন্তু একদমই বুঝতে পারেননি। (চলবে)

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে