গল্প ভালো না হলে প্রিয় মুখেরও দাম থাকে না

  ফয়সাল আহমেদ

১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘অন্তর জ্বালা’। মালেক আফসারী পরিচালিত এই চলচ্চিত্র নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত পরী। কারণ ঈদের আমেজে প্রায় ১৭৫টি সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে এটি। এই চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন প্রসঙ্গে আমাদের সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন পরীমণি।

অভিনয়ে এসেছেন দুই বছর। এখন পর্যন্ত অনেক ছবিই মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু ‘অন্তর জ্বালা’ নিয়ে আপনার উৎসাহ অনেক বেশি। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে?

এখন পর্যন্ত যত ছবি মুক্তি পেয়েছে তার প্রতিটি নিয়েই আমার উৎসাহ ছিল। তবে তার বহির্প্রকাশ খুব একটা হয়নি। ‘অন্তর জ্বালা’ নিয়ে আমি একটু বেশিই আশাবাদী। তাই উৎসাহটা প্রকাশ করছি। আর এই ছবির মাধ্যমে আমি নিজেকে নতুন করে চিনেছি! আমি জেনেছি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু সংলাপ বললেই অভিনেত্রী হওয়া যায় না। অভিনেত্রী হতে হলে পরিশ্রম করতে হয়। গল্পের চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে ফেলতে হয়। এজন্য অবশ্য পরিচালক একটা বড় ভূমিকা রাখেন।

তা হলে আপনার কাছে একটি চলচ্চিত্রের প্রাণ কী?

আমার কাছে মনে হয় গল্প। গল্পই সব। গল্প ভালো না হলে আপনিও নিজের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে যাবেন না। সাধারণ মানুষ হয়তো তার প্রিয় অভিনেতা বা অভিনেত্রীর নাম দেখে সিনেমা হলে যান। কিন্তু গল্প ভালো না লাগলে সেই প্রিয়মুখেরও কোনো দাম থাকে না। সুন্দর একটি গল্পকে যথাযথভাবে পর্দায় তুলে ধরেন গুণী পরিচালক। এমন অনেক ছবিই আছে যেখানে সুন্দর গল্পটি গুণী পরিচালকের অভাবে দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। সবশেষে হচ্ছে অভিনেতা-অভিনেত্রী। মানে আমাদের কাজটা সবার পরে। যদিও পর্দায় আমাদের দেখা যায় কিন্তু আসল কাজগুলো পর্দার পিছনে করেন গল্পকার ও পরিচালক।

এ কারণেই কি আপনি অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন?

তা বলতে পারছি না। এখন আমি পড়ছি, ভাবছি আর দেখছি। মানে, কেউ ছবির প্রস্তাব নিয়ে এলে প্রথমে গল্প পড়ছি। তারপর সেটা নিয়ে ভাবছি। এরপর সেই গল্পের সঙ্গে অন্য কোনো ছবির মিল আছে কিনা সেটা দেখার চেষ্টা করছি। আমাদের এখানে নকল গল্পের ছবিই বেশি হয়। আমি এখন বুঝে-শুনে সেটা করতে চাই না। ফলে ছবি হাতে নিচ্ছি কম। আরও একটি বিষয় কাজ করছে আমার মধ্যে- বছরে একটি ভালো ছবি দিতে পারলেই দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকে। একটি ভালো ছবির পর দর্শক কিন্তু আপনার কাছ থেকে আরও ভালো কিছু আশা করবে। সেটা যদি আপনি না পারেন, তা হলে দর্শক হতাশ হবেন। অভিনয় আমার পেশা, আর দর্শকই হচ্ছে এর শেষ বিচারক।

‘অন্তর জ্বালা’ গুণী পরিচালকই নির্মাণ করেছেন। গল্পটাও নিশ্চয় ভালো হবে?

অবশ্যই। তবে গল্পটা কি সেটা একদমই বলতে চাইছি না। সেটা দর্শক সিনেমা হলে গিয়েই দেখে আসুন। আর মালেক আফসারী সম্পর্কে বলার মতো বড় শিল্পী আমি হয়নি। শুধু বলব, তিনি যা বলেন তার থেকে তিনগুণ ভালো কাজ করেন। তিনি যা ফিল করেন তা ইউনিটের প্রতিটি সদ্যকে ফিল করান। আমি কতটুকু কাজ করতে পেরেছি জানি না। তবে ছবিতে আমার নায়ক জায়েদ খান অসাধারণ করেছেন। এই জায়েদ খানকে এর আগে দর্শক দেখেননি। মালেক আফসারী পেরেছেন জায়েদের মধ্য থেকে আসল অভিনেতাকে বের করে আনতে।

‘অন্তর জ্বালা’ নামটি নাকি আপনার দেওয়া?

কাহিনি পড়ার পর চোখের সামনে পুরো ক্যারেক্টারটা ভেসে উঠেছিল। তখনই নামটা মাথায় আসে। সঙ্গে সঙ্গে নাম দিই ‘অন্তর জ্বালা’। শেষ পর্যন্ত এই নামেই পর্দায় উঠতে যাচ্ছে ছবিটি। এর আগে ‘আপন মানুষ’ ছবিটির নামকরণও আমি করেছিলাম। দর্শক সেটার সার্থকতা খুঁজে পেয়েছিলেন। আশা করি ‘অন্তর জ্বালা’র েেত্রও নামকরণের সার্থকতা থাকবে। ছবিটি পরিবেশনা করছে নায়ক মান্নার প্রযোজনা সংস্থা কৃতাঞ্জলি কথাচিত্র।

চলচ্চিত্রের সহকারী শিল্পীদের জন্য ঈদে কোরবানি দেন, জন্মদিনে পথশিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। বিষয়গুলো অনেকে ভিন্ন চোখে দেখে। অনেকে প্রচার মনে করেন। কিন্তু সত্যটা কী?

অনেকেই অনেক কিছু মনে করেন। সব কিছু নিয়ে ভাবতে চাই না। চলচ্চিত্র আমার কাছে একটি পরিবার। আর আমি সেই পরিবারের একজন সদস্য। আমি চেষ্টা করি পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে। ঈদে আমি হাসিমুখে ঘুরে বেড়াব আর আমার পরিবারের একজন কাঁদবে সেটা তো হতে পারে না। চেষ্টা করি সবার জন্য সাধ্যমতো কিছু করতে। আর জন্মদিনে পথশিশুদের সঙ্গে কেক কাটি কারণ আমারও জন্মদাতা মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। আমিও ওদের মতো এতিম।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে