সাক্ষাৎকার

আগে লেখা পরে অভিনয়

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্কুলে পড়ার সময় মাহফুজা হিলালীর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তারপর থেকে কবিতা, গল্প, ফিচার, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনি, নাটক লিখে আসছেন। তিনি মঞ্চনাটকে কাজ করেছেন ১৬ বছর। আজ ভারতের কলকাতায় যুবনাট্য উৎসবে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে ‘বাংলা নাটকের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে আলোচনা করবেন মাহফুজা হিলালী। এ ছাড়া তার লেখা ‘রাজার চিঠি’ নাটকটি উৎসবে মঞ্চস্থ করবে সাভারের জাগরণী থিয়েটার। বাংলাদেশ থেকে শুধু এ নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। তার বর্তমান সময়ের কাজ ও ব্যস্ততা নিয়ে কথা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেনÑ চপল মাহমুদ

কলকাতার যুবনাট্য উৎসবে মঞ্চস্থ হবে আপনার লেখা ‘রাজার চিঠি’ নাটকটি। এ নিয়ে বলুন।

এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ। এ উৎসবে মোট ১২টি নাটকের মঞ্চস্থ করা হবে। নাটকের কাহিনি সেই ১৯৩৯ সালে শাহজাদপুরের শ্রী হরিদাস বসাকের জীবন রবীন্দ্রনাথের ‘ঠাকুরদা’ চরিত্রের মতো হয়ে ওঠে। এ কাহিনি নিয়েই ‘রাজার চিঠি’ নাটকটি লেখা। রবীন্দ্রনাথের কাছে চিঠি লেখেন হরিদাস। এ নিয়ে তার পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুবান্ধব হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু দেখা যায়, একদিন রবীন্দ্রনাথ সে চিঠির উত্তর দিয়েছেন। এ সময় হরিদাস বসাককে সবাই সমীহ করতে শুরু করে। অন্যদিকে হরিদাস বসাক ও সাহিত্য সংস্কৃতির কাজে নিজেকে সঁপে দেন। সময়ের প্রবাহে আসে ১৯৪৭ সাল। এ সময়ে অনেকেই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। কিন্তু যে ঠিকানায় রবীন্দ্রনাথ তাকে চিঠি লিখেছেন, সে ঠিকানা হরিদাস বসাক বদল করতে চান না।

আপনার শুরুর কথা বলুন...

আমার শুরুটা হয়েছে সিরাজগঞ্জ থেকে সেই ২০০০ সালে। নাট্যদল তরুণ সম্প্রদয়ের ‘বাইতনামা’ নাটকের মধ্য দিয়ে মঞ্চে আমার প্রথম আগমন। এ নাটকে আমি প্রথম মঞ্চনাটকে অভিনয় করি। এ নাটকে আমি একজন বৃদ্ধার চরিত্র অভিনয় করি। যে বৃদ্ধা জমিদারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে। এটি একটি বিদ্রোহী চরিত্র। জমিদারের প্রতিবাদরত অবস্থায় তিনি শহীদ হন।

ঢাকার মঞ্চে কাজ শুরু করার কথা বলুনÑ

আমি ২০০২ সালে ঢাকায় আসি এবং লোকনাট্য দলে অংশ নিই। এরপর আমি ঢাকায় প্রথম মঞ্চে অভিনয় করি নিরীাধর্মী নাটক ‘লীলাবতী আখ্যান’ নাটকে।

নাসরিন জাহানের রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী। নাটকের মূল চরিত্র সিংহলের ভাগ্যবিড়ম্বিত রাজকন্যা লীলাবতী। এ নাটকে আমি লীলাবতী চরিত্রে অভিনয় করছি। এটি একটি চিরন্তন নারী চরিত্র। এই লীলাবতীই পরবর্তী সময়ে কিংবদন্তি জ্যোতিষী খনা নামে পরিচিত হন। নাটকে দেখা যায় লীলাবতীর পিতা সিংহলরাজ শত্রুর হাতে নিহত হলে লীলাবতী শিাগুরু মুঙ্গলসহ শত্রুর হাতে বন্দি হন। এ জন্য আমি লাকী ভায়ের কাছে কৃতজ্ঞ আমাকে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।

আপনি তো লেখালেখিতে বেশি গুরুত্ব দেন। এ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?

লেখালেখি করি ছোটবেলা থেকেই। লেখাটাই আমার মূল। আগে লেখা, পরে অভিনয়। ২০০১ সালে আমি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতার নাট্যরূপ দিই। নাটকটি শ্রোতি নাট্য হিসেবে মঞ্চস্থ করে তরুণ সম্প্রদায়। এটির নির্দশনাও আমি দিয়েছিলাম। এ ছাড়া আমি এ নাটকটিতে সূত্রধর হিসেবে অভিনয় করেছিলাম। এরপর রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘বধনাম’ অবলম্বনে ‘সৌদামিনী’ নাটক লিখি। এটি ২০০২ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি ২৫ বৈশাখে এটি মঞ্চস্থ করে। এরপর ২০০৪ সালে রবীন্দ্রনাথের বড় গল্প অবলম্বনে ‘ভিখারিনি’-এর নাট্যরূপ দিই। এটি মঞ্চে আনে দুর্বার নাট্যগোষ্ঠী। এখনো এই নাটকটি মঞ্চস্থ হচ্ছে। এ ছাড়া আমার মৌলিক লেখা দুটি নাটক ‘অন্তরালে’ ও ‘চুপকথা’ মঞ্চে আনে নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমি। অন্যদিক রবীন্দ্রনাথের ছোটবেলা নিয়ে আমার আরও দুটি মৌলিক নাটক মঞ্চে আনে দৌর শিশু নাট্যদল টঙ্গী। এ ছাড়া কবিগুরুর ছোটগল্প ছুটি আবলম্বনে লিখেছি নাটক ‘ছুটি’। ২০১৭ সালে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি নিয়ে লিখেছি নাটক ‘অসমাপ্ত’। আসছে বইমেলায় আমার তিনটি নাটক নিয়ে একটি বই প্রকাশ করছি।

নাটক নিয়ে পরিকল্পনা কী?

এ ছাড়া ‘জলপদ্ম’ নামে একটি নাটকের লেখা শেষে করেছি। এটি মঞ্চে আনতে কাজ শুরু করে দিয়েছে নাট্যদল নাট্যতীর্থ। এরই মধ্যে নাটকটির মহড়ার কাজ চলছে।

এটি নির্দেশনা দিচ্ছেন তপন হাফিজ। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে একজন নারী বাউলকে। একদিন শহর থেকে একটি ছেলে আসে সেই নারী বাউলের ঘরে। ছেলেটি গান শিখতে এবং সাধন সঙ্গী হতে আসেন। কিন্তু সেই ছেলেটি একদিন প্রতারণা করে নারী বাউলকে ছেড়ে শহরে চলে যান। এ ছাড়া একজন নারী বাউলের সামাজিক জীবনের নানা উত্থান-পতন নিয়ে এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে