মালয়েশিয়া থেকে ফিরে যা বললেন অনন্য মামুন

  বিনোদন সময় প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় দুই সপ্তাহ মালয়েশিয়া পুলিশের কাস্টডিতে থাকার পর শুক্রবার রাতে দেশে ফিরেছেন নির্মাতা অনন্য মামুন। এই দুই সপ্তাহে নানা চড়াই-উতরাইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। দেশে ফিরে এ সব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

মালয়েশিয়াতে আমার এক বন্ধু রয়েছে। ও বললো, ওমানে আপনি একটা শো করছেন, মালয়েশিয়ায় একটা করেন ভালো লাগবে। আমি বললাম ওকে, আমার করতে সমস্যা নেই। আমি যখন শো করতে গেলাম তখন সবাই আমাকে বাধা দেওয়া চেষ্টা করল। শো-এর তিনদিন আগে অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলে, মামুন ভাই মালয়েশিয়াতে শো করতে গেলে ৫০ হাজার রিংগিত দিতে হবে। তখন বললাম, আমি আপনাকে চিনিও না জানিও না। শো করতে এসেছি, কেন টাকা দিতে হবে? তখন ওই প্রান্ত থেকে লোকটি বলল, আচ্ছা ভাই আমি দেখব, আপনি কীভাবে শো করেন।

শো-এর দুদিন আগে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম। সেখানে ৫-৭ জন অপরিচিত লোক আসল, যারা প্রথমেই এসে বললো মামুন ভাই, শো করতে হলে আমাদের ৫০০ টিকিট ফ্রি দিতে হবে। বললাম, এটা কমার্শিয়াল শো। কমার্শিয়াল শো কাউকে টিকিট দেয় না।

আমার আর্টিস্টরা ল্যান্ড করলো ৫টা ২০ মিনিটে। অফিসারদের শিফটিং হয় ৭টায়। এ সময় বাংলাদেশি ইমিগ্রেশনের যে ভিসা দেখেন সেই অফিসার চলে গিয়েছিল। নতুন অফিসার আসলো পৌনে ৮টায়। এটা নিয়ে সবাই একটু বিরক্ত। ইমিগ্রেশন শেষ করে হোটেলে ঢুকতে ঢুকতে প্রায় একটা-দেড়টা বেজে যায়। এরপর সবাই যে যার মতো শো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। ওই দিন রাত ৩টায় এক কণ্ঠশিল্পীর ফাইট ছিল। তাকে বিমানে তুলে দিয়ে বাসায় ফিরে ঘুমাই। পরদিন বেলা ১২টার দিকে ঘুম থেকে উঠলাম। কিন্তু তখন শুনি নীরব-ইমন-রানাসহ আর্টিস্টরা যে অ্যাপার্টমেন্টে ছিল সেখানকার একটা জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলেছে কে বা কারা। এ ঘটনায় অ্যাপার্টমেন্টের মালিক থানায় একটা অভিযোগ করেছে। আমি বিষয়টা স্বাভাবিকভাবেই নেই। আমার লোকাল পার্টনারকে বললাম, তিপূরণ দিয়ে দিতে। তারপর একটা ফোন আসে এবং বলে মামুন ভাই পুলিশ এসে সবার পাসপোর্ট চাচ্ছে। এখানে একটা গুজব ছড়ায় যায় যে, আমরা নাকি সবার পাসপোর্ট আটকে রাখছি। কিন্তু বিষয়টা এমন না। প্রফেশনাল ভিসায় গেলে তারা ভিসায় একটা সিল মেরে দেয়, যেটা মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া শহরের অফিস থেকে নিতে হয়। পুলিশ পাসপোর্ট চেক করলো। রিটার্ন টিকিট দেখলো। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ বলল, যে আয়োজন করছে তাকে আসতে হবে। তদন্ত করার জন্য আসছি, আমরা তদন্ত করব।

এর মধ্যে আমি অ্যাপার্টমেন্টের মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি কোনো পুলিশি অভিযোগ করেছেন? উনি বলল, আমি কেন পুলিশে অভিযোগ করব? তখন আমি পরিষ্কার হলাম। এটা ষড়যন্ত্র। পুলিশ আমাদের বলে, তোমাদের কমিউনিটি (বাঙালি) থেকে এ রকম একটা অভিযোগ করা হয়েছে যে, তোমরা এখানে ই-লিগ্যাল পাসপোর্ট এবং ই-লিগ্যাল ভিসায় আসছ। এটার তদন্ত করব। আমি পুলিশের কাছে গেলাম, পুলিশ আমাকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করল। কিন্তু অনেকেই বিষয়টা এড়িয়ে গেল। এরপর আমি মানবপাচারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করছি বলে ছড়িয়ে পড়ল। এর প্রমাণ কি কেউ দেখাতে পারবে? এরপর পুলিশ ১৪ দিনের রিমান্ড নেয়। এই ১৪ দিনে তারা আমাদের কাগজপত্র বৈধ কিনা এসব বিষয় পরীা করবে। মামলা কোর্টে উঠাবে এবং কোর্টে রিপোর্ট পেশ করবে। এরপর কোর্ট যদি মনে করে অন্যায়কারী, তাহলে শাস্তি দেবে। আবার যদি মনে করে নির্দোষ, তাহলে মুক্তি দেবে। তিনদিন পর আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) অফিসার এসে বললো তোমাদের তো দোষ খুঁজে পাচ্ছি না। তারা আমাদের ছেড়ে দিয়েছে। আমার কথা আমি হেরে যাওয়ার মানুষ না। সব কাগজপত্র রেডি করেছি, এপ্রিলে আবারও শো করব মালয়েশিয়ায়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে