শবনমের প্রতিচ্ছবি

পূজা চেরী

ইমোশনকে নাড়া দেবে ‘নূর জাহান’

  আহমেদ তেপান্তর

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০১ | প্রিন্ট সংস্করণ

এমন শিরোনামের পর পাঠক অনুযোগ করবেন। দৈন্যদশায় ভুগতে থাকা বাংলা চলচ্চিত্র যেখানে দাঁড়াতেই পারছে না, সেখানে শবনমের মতো কিংবদন্তির সঙ্গে সদ্য শিশুশিল্পীর তকমা ছেড়ে চিত্রনায়িকা হওয়ার পূজার তুলনা একটু বেশিই হয়ে গেল কিনা? অনুযোগ তো অনুযোগই। তবে পূজা চেরীকে দেখেই বলছি, সত্যিই তিনি শবনমের প্রতিচ্ছবি। শবনম যখন তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, তখন তিনি ১৪ বছরের এক কিশোরী। অতিরিক্ত শিল্পী হয়ে পর্দায় এসেছিলেন। এরপর ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ দিয়ে বাজিমাত করেন। বাকিটা ইতিহাস। একইভাবে যদি সুজাতার কথা বলি, তবে তার সঙ্গে মেলানো যাবে পূজাকে। মিষ্টি মেয়ে কবরীর কথাও চলে আসবে অবলীলায়। কিন্তু দর্শক কেন মানবেন? সংকটে ভুগতে থাকা চলচ্চিত্র সেকেন্ডে ২৪ ফ্রেম নয়, যেন অস্থির হয়ে ৪৮ ফ্রেম স্পিড নিয়ে ঘুরছে, সেখানে পূজাকে নিয়ে বিশেষণটা বেশি বলে মনে না হওয়ার কোনো কারণও নেই।

কিন্তু পাঠক, এ ধারণা পাল্টে যাবে যদি ‘নূর জাহান’ সিনেমাটি দেখেন। বিজ্ঞাপনের দায়িত্ব নিইনি। ওটা কাজও না। বিনোদন সংবাদকর্মী হিসেবে যখন ছবিটি দেখার আমন্ত্রণ পাই, হ্যাঁ বলতে দ্বিতীয়বার ভাবিনি। পুরো ছবি দেখেছি। পূজার চরিত্র ঘিরে চমৎকার অভিনয়ের সুবাতাস বইছে। অনবদ্য লুক। প্রচ- আত্মবিশ্বাস। ডায়ালগ ডেলিভারি দারুণ। কলকাতার নবাগত চিত্রনায়ক আদৃতর সঙ্গে সমানতালে অভিনয় করেছেন। একবিন্দুও ছাড় দেননি। আদায় করেছেন পুরোটাই। তাই সেই স্বাদ উপস্থিত দর্শক গোগ্রাসে গিলেছেন। বাধ্য হয়েছেন হর্ষধ্বনি দিতে।

সত্যি কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে শাবনূর-পরবর্তী অনেককে আমরা দেখছি নায়িকা হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। ডজন ডজন ছবিতে সাইন করছেন। ফাঁকতালে বিয়ে করছেন কোনো এক প্রযোজককে। এরপর সংসার নিয়ে তাদের ব্যস্ত সময়। অনেকে আবার বিচ্ছেদি হয়ে কূল খুঁজতে শুরু করেন। দর্শক এসবে বিরক্ত। ফলে হলবিমুখ তারা। কিন্তু পূজাকে নিয়ে একটা চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়। কেউ কেউ নায়িকা হতে চেষ্টা চালায়। আর পূজা নায়িকা হয়েই গেছেন এ ছবির মধ্য দিয়ে। সামনে তরুণ নির্মাতা রায়হান রাফির পোড়ামন-টু মুক্তির অপেক্ষায়। রাফির ভাষ্য, ‘নূর জাহান’-এর পূজা চেরী আরও পরিপূর্ণ হয়েছেন ‘পোড়ামন-টু’। নির্মাতা রফিক শিকদার বলেন, ‘সত্যি অভিভূত। আমাদের সিনেমা আস্থা রাখা যায়, এমন কাউকে খুঁজে পেল।’

পূজার অভিনয় দেখে ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জে পড়ে গেছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সম্প্রতি রফিক শিকদারের ‘ওপারে চন্দ্রাবতী’তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ ছবিতে তাকে উৎরে আসতে হলে অবশ্যই তিন চিত্রনায়িকার সঙ্গে টেক্কা দিতে হবে। যার একজন পূজা চেরী। অন্য দুজন পরীমনি ও মাহি। দুজনেরই একাধিক ছবি মুক্তি অপেক্ষায়। এর মধ্যে পরীমনি ভালো অভিনেত্রী, কিন্তু ফ্লপ। মাহি হিট কিন্তু সিরিয়াস নন। আর অপু স্বাস্থ্যবতী। তাকে চ্যালেঞ্জ নিতে হলে অন্তত ১৫ কেজি ওজন ঝরাতে হবে।

ফের আসি পূজার কথায়। হাতে তার বেশ ক’টি সিনেমা। ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে বাংলাদেশ, এমনকি প্রতিবেশী ভারতেও ছড়ি ঘোরাতেও পারবেন। যেটা কিংবদন্তি শবনমকে দেখেছি।

শবনমের মতোই টানা চোখ। আবেদনময়ী ফিগার। মুখে দুষ্টুমির হাসি। গম্ভীর মুখে রহস্য। প্রথম দেখাতেই মনে হবে ‘ডার্লিং’। নির্মাতা ইফতেখার জাহান বলেন, ‘নায়িকাকে প্রথম দেখাতে যদি ডার্লিং মনে না হয়, তবে সে হাজারো চেষ্টায় নায়িকা হতে পারবে না। দর্শকের চোখে সেই অমিতসম্ভাবনামীয় এক ডার্লিং পূজাকে দেখেছি। ওর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া একাধিক প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। হয়তো উৎরে যাবেন। বিগড়াবেন না পূজাও। এবার আসি ছবির অপরাপর প্রসঙ্গে। প্রথম দিককার আবহ সংগীত শ্রুতিমধুর হলেও ঢাকার পর্বে বড্ড অস্থির। কলকাতার সঙ্গে ঢাকার দৃশ্যগুলোর সাদৃশ্যের অভাব প্রকট। কমেডিয়ান কাঞ্চন দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। চিকন আলীকে কাজে লাগানো যায়নি। কমলের মতো খলঅভিনেতাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। পুলিশ অফিসারের (ওসি) ভাষা ও তার ভূমিকা স্পষ্ট বোঝানো হয়নি।

সমাপ্তিটা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর মতো টাচি করা যেত। প্রথম দৃশ্য থেকে প্রত্যাশার পারদ ঊর্ধ্বমুখী করেছেন নির্মাতা। কিন্তু শেষ দৃশ্যের পূজাকে টাচি করে তুলতে পারলেও আদৃতকে পারেননি। এ ত্রুটির দায়ভার নির্মাতার। কোনোভাবেই নায়ক-নায়িকার নয়। তিনটি গান, সবগুলোই শ্রুতিমধুর। ‘নূর জাহান’ ইমোশনকে নাড়া দেবে। আর ইমোশনের অন্তরাত্মা হচ্ছেন পূজা চেরী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে