দেখা থেকে লেখা

দিনে শাকিব-মেহজাবিন রাতে জাহিদ-তিশা

  মঈন আবদুল্লাহ

১৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৮, ০০:৫০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের টিভি অনুষ্ঠানে চমক বলতে কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঈদের আগের দিন থেকে প্রত্যেকটি টিভি চ্যানেলে খুঁজেছি। কিন্তু মনের মতো অনুষ্ঠান পেলাম না। চাঁদরাতে শুধু বাংলাভিশনে মমতাজের গানের অনুষ্ঠান চোখে পড়ার মতো। একটা শিল্পী একটানা এত গান করতে পারেন, সেটা মমতাজ বলেই সম্ভব। বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে ঈদের অনুষ্ঠানের কথা বেমালুম ভুলে যাওয়ার অবস্থা। ঈদের দিন আর্জেন্টিনার খেলা থাকায় অনেকের এ রকম অবস্থা হয়েছে বলেই ধারণা। বিশ্বকাপের আড়ালে পড়েছে ঈদের আয়োজন। তার পরও গত তিন দিন টিভি চ্যানেলগুলোর আয়োজন দেখার চেষ্টা করেছি। যখনই কোনো বাংলা চ্যানেল দেখি, তখনই দেখি বিজ্ঞাপন। আবার দিনের বেলাতে সারা দিনই প্রচার হয়েছে বাংলা সিনেমা। আর এসব ছবির বেশিরভাগই শাকিব খানের। শাকিব-অপুর ডিভোর্সের পর টিভি চ্যানেলগুলো যেন প্রতিযোগিতা করে এ জুটির ছবি দেখাচ্ছে। পুরো দিনই যদি চলে সিনেমা, তা হলে আর বাকি থাকছে কী? এমন প্রশ্ন থাকে প্রতিবছরই। কিন্তু এর উত্তর জানা নেই।

বিশ্বকাপ দেখার পর কিছু নাটক দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সারা দিন শাকিব খানের চিল্লাপাল্লা শুনতে শুনতেই পার। সন্ধ্যায় বিশ্বকাপ। এরপর নাটক। আর এখানেই কিছু আনন্দ আর কিছু ভালোবাসা। কয়েকটি নাটক একেবারেই জোর করে হাসানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জাহিদ হাসান ও অপর্ণা ঘোষ অভিনীত ‘ফুটবল ফারুক’ নাটকটি ধারাবাহিক ছিল। এ যেন হাসানোর নামে চরম বিরক্তিকর। ফুটবল নিয়ে নাটকটি নির্মিত বলে একটু দেখার চেষ্টা। কিন্তু ভাষার ব্যবহার, সংলাপের অতিরিক্ত আঞ্চলিকতা অনেকটাই বিরক্তির সৃষ্টি করেছে। দিনে শাকিব খানের উপস্থিতির মাঝে একটু হলেও ভালোবাসা ছড়িয়েছে ‘জলসা ঘর’ টেলিছবিটি। নতুন মোড়কে দেবদাসের কাহিনি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। জাকারিয়া সৌখিন পরিচালিত টেলিছবিটিতে অভিনয় করেছেন অপূর্ব, মেহজাবিন ও মম। অবনী চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন মেহজাবিন। দেবদাসের অনুকরণে পবন চরিত্রে অপূর্বকে একটু বেমানান লেগেছে। তার পরও স্মার্টখ্যাত নায়ক চেষ্টা করেছেন চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে। মম তো বরাবরই ভালো। এবার আসি রাতের খবরে। ঈদ আয়োজন দেখতে সন্ধ্যার পরই টিভির সামনে বসে দর্শকরা। টিভি চ্যানেলেরও অভাব নেই, নাটক-টেলিছবি ও অন্যান্য আয়োজনেরও কমতি নেই। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানের মধ্যে ন্যানসির একক সংগীতানুষ্ঠানও মুগ্ধ করেছে। এসএ টিভিতে তারকা ফ্যামিলিদের নিয়ে ‘ফ্যামিলি টাইস’ নামের অনুষ্ঠানটি মুগ্ধ করেছে। বরাবরের মতোই দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’। বিটিভির সেরা অনুষ্ঠান এটি। একই চ্যানেল ঈদের দিন রাতে ‘আনন্দমেলা’ তেমন একটা জমেনি। আবার চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান শাইখ সিরাজের ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’। এবারের ঈদেও এটি বেশ উপভোগ্য ছিল। এ ছাড়া এ চ্যানেলে প্রচারিত ‘আলতা বানু’ ছবিটি হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এটিএন বাংলায় ‘নুরুল আমীনের বিয়ে’ নাটকটি হাসির খোরাক জুগিয়েছে। এতে আফজাল হোসেন ও সুবর্ণা মুস্তাফার অভিনয় ছিল দেখার মতো। প্রতি ঈদের মতো এবারও নিউজ চ্যানেলগুলো তারকাদের নিয়ে সাজিয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। শুধু খবর দিয়ে চ্যানেল চলে না, ভিন্ন ধরনের আয়োজনও লাগেÑ এমনটাই বোঝা যায় ওই সব চ্যানেল দেখলে। বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নেই বললেই চলে। কয়েকটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, পুরনো বাংলা সিনেমা, সেলিব্রেটি শো আর নাটক-টেলিছবিই ঈদের ভরসা। বিশ্বকাপে মোড়ানো এবারের আয়োজন দর্শকের মন ভরাতে না পারলেও জিটিভির বিরতিহীন নাটক দেখতে ভালোই লেগেছে অনেকের। মিশ্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিয়েছে, বরাবরের মতোই অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে