চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া

বিরক্তিকর আড়াই ঘণ্টা

চলচ্চিত্র পর্যালোচনা

  মারুফ হাসান আরমান

২১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ জুন ২০১৮, ০০:২৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের চতুর্থ দিনে মিরপুর ‘পূরবী’ হলে উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ ছবিটির ৩-৬টা শো শেষ হলে ছবিটি দেখা কয়েকজন দর্শকের সঙ্গে কথা বলি। ছবিটি প্রসঙ্গে বিরক্তি ও তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে তারা বলেন, ‘একটা থার্ড ক্লাস ছবি। বিরক্তিকর আড়াই ঘণ্টা কাটল।’ যাত্রীবাহী বাসের একজন হেলপার শেষ পর্যন্ত বাস চালাতে পারলেও আমাদের দেশের কিছু মূর্খ ও অর্ধশিক্ষিত পরিচালক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভালো সিনেমা বানানো আর শিখতে পারল না।’ স্বামী-স্ত্রী মিলে ছবি দেখতে আসা এক দর্শক যুগল বলেন, ‘নিজের বাড়ি নোয়াখালী আর শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামে। তাই বউয়ের আবদারে ছবি দেখতে এসেছিলাম। ছবিটি দেখে মনে হলো পরিচালক সম্ভবত দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য ছবিটি বানাননি। নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের হেয়প্রতিপন্ন করতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে সিনেমার নামে নির্লজ্জ ফাইজলামি করেছেন। এসব বাজে পরিচালকের জন্যই আজ দেশের সিনেমার এই দুরবস্থা...।’

ছবিটি নিয়ে দর্শকদের খারাপ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও হলে দর্শক উপস্থিতি একেবারে কম নয়। এ প্রসঙ্গে পূরবী হলের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ ও শাকিব খান এই দুই মিলিয়ে দর্শক উপস্থিতি মোটামুটি ভালো। তবে এ দেশের সিনেমাশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিয়মিতই ভালো ভালো ছবি তৈরি করতে হবে। ভালো ছবির দর্শকদের অভাব নেই। অভাব ভালো নির্মাতা ও অভিনেতা-অভিনেত্রীর। অভাব গুণী গল্পকার, গীতিকার, সুরকার ও গায়ক-গায়িকার।’

ছবিটি দেখে দর্শকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কিছু যৌক্তিক কারণও উপলব্ধি করলাম। অতি গতানুগতিক ও সাদামাটা একটা গল্প। মানুষের জীবনে অতি লোভের পরিণাম ও পরিণতি এ গল্পের মূল বক্তব্য। গল্পের পটভূমি ও ভুল উপস্থাপন কৌশলে গল্পটি মোটেও জমাট বেঁধে ওঠেনি। অতি দুর্বল এবং নিম্নমানের চিত্রনাট্য ও গল্পের গাঁথুনি। সংলাপ একেবারেই যাচ্ছেতাই। বিশেষ করে সাদেক বাচ্চু, ডিজে সোহেল ও বুবলীর কিছু কিছু অশ্রাব্য ও অশ্লীল সংলাপ শিল্পরুচিবোধে বড় ধাক্কা দিয়েছে। আঞ্চলিক ভাষার ভুল উচ্চারণ ও অদক্ষ ব্যবহার এ ছবির অন্যতম দুর্বল দিক। অশৈল্পিক ও অদক্ষ নির্মাণশৈলীর প্রকটতায় ছবিটি কোনো শ্রেণির দর্শকেরই মন কাড়তে পারেনি। রাফাতের সংগীত ও সুদীপ কুমার দীপের কথায় গানগুলো মোটামুটি ভালো হলেও চিত্রায়ণ খুব একটা ভালো লাগেনি। ক্যামেরাওয়ার্ক ও সম্পাদনায় নান্দনিকতার অভাব। লোকেশন বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যে মন ভরেনি। ছবিতে ওমর সানী ও মৌসুমীর চরিত্রের গভীরতা না থাকলেও তাদের অভিনয় খুব মন্দ হয়নি। ওমর সানীকে প্রায় সময়ই শীতের জ্যাকেট পরা অবস্থায় কেন দেখানো হলো তা খুব একটা বোধগম্য হলো না। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা উচ্চারণ ও সংলাপ প্রক্ষেপণে মৌসুমীর জড়তা দর্শকের চোখ এড়ায়নি। তা ছাড়া শাকিব খান, বুবলী, সাদেক বাচ্চু, ফকিরা, কাজী হায়াত ও ডিজে সোহেল যা অভিনয় করলেন সেসবÑ কমেডি? ভাঁড়ামি? যাত্রা? ন্যাকামি? ছাগলামি? তা অভিনয়ের কোন সংজ্ঞায় পড়ে ছবির বিজ্ঞ পরিচালক ছাড়া সম্ভবত আর কেউ ভালো বলতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে একজন দর্শক বলেন, ‘শাকিব খানের শিকারি ও নবাব ছবি দুটি দেখে মনে হয়েছিল আমাদেরও একজন নায়ক আছেন। আজ এ ছবিটি দেখে আবার মনে হচ্ছেÑ আমাদের নায়ক পথ হারাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু টাকা উপার্জনের জন্য সুপারস্টার শাকিব খান যা-তা ছবিতে অভিনয় করবেন তা খুবই দুঃখজনক। আমাদের দর্শকদের ভালোবাসায়ই শাকিব খান আজ সুপারস্টার। তাই দর্শকদের ভালোবাসা ও সমর্থনের কথাটি বিবেচনায় রেখে শাকিব খান ভবিষ্যতে ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ মার্কা ছবি করা থেকে বিরত থাকবেন একজন দর্শক হিসেবে শাকিব খানের কাছে তাই প্রত্যাশা করি।’

সব শেষে বলা চলে, এবারের ঈদ উৎসবে দর্শক গ্রহণযোগ্যতায় ব্যর্থ এক ছবির নাম ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে