‘নিজের গান হোক এটা সবাই চায়’

  তারেক আনন্দ

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:২১ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশি আইডলের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন বৃষ্টি। এর পর কাজ করছেন বেশ কিছু গানে। নতুন গান ও ব্যস্ততা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

গানে হাতেখড়ি কার কাছে?
আমার বাবা নজরুল ইসলাম বাচ্চু ও মা হামিদা ইসলাম। দুজনই সংগীতশিল্পী। বাবা বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। বাবাকে হারিয়েছি ২০০১ সালে। মা এখন সংগীতশিক্ষক। প্রথম গান শেখা হয়েছে বাবার কাছেই। মা এখনো গান শেখান। বাবা নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষক ছিলেন।

এর পর আমি যখন বাংলাদেশি আইডলে এলাম সেখানে এসে শিখেছি ঋতুরাজ সেনের কাছে ২০১৩ সালে। তিনি ইন্ডিয়া থেকে এসেছিলেন। তার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি এ আর রহমানের টিম মেম্বার ছিলেন। এখনো গান শিখছি, তবে মায়ের কাছেই।

বাংলাদেশি আইডলে সেরা ১০-এ জায়গা করে নেবেন। আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন?

এর আগে দেশের কোনো রিয়েলিটি শো আমাকে টানেনি। আমার ভালো লাগত না। কেন লাগত না তা বলতে পারছি না। তবে ইন্ডিয়ান আইডল দেখা হতো। যখন শুনলাম বাংলাদেশি আইডল শুরু হতে যাচ্ছে তখন কাউকে কিছু না বলে নিজে নিজেই রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। জায়গা করে নিতে পারব কিনা তা আমার ভাবনায় ছিল না। তবে প্রত্যেকটি রাউন্ড যখন পার হতাম তখন মনে হতো আমাকে শতভাগ দিতে হবে।

রিয়েলিটি শোতে স্মরণীয় কোনো মুহূর্তের কথা মনে পড়ে?

আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান এই গানটি গেয়েছিলাম ওয়ার্কশপ রাউন্ডে। আমিই প্রথম প্রতিযোগী যে চারজন বিচারক স্ট্যান্ডিং অভিয়েশন জানান। আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল। যা কোনোদিনও ভুলব না।

ছোটবেলা থেকেই কি স্বপ্ন ছিল সংগীতকেই পেশা হিসেবে বেছে নেবেন?

মা-বাবা দুজনই যেহেতু সংগীতের সঙ্গে জড়িত তাই আমিও সংগীতকে বেছে নিয়েছি। একদম ছোটবেলায় ইচ্ছে ছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হব। যেটা সবার ক্ষেত্রেই হয়। তবে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছাটা বেশি ছিল। এর পর যখন বড় হয়েছি তখন ইচ্ছে হলো বিজনেস করার। আমাদের পরিবার বিজনেসের সঙ্গেও জড়িত। এ জন্য আমিও কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করেছি। ম্যানেজমেন্টে অনার্স কমপ্লিট করলাম। মাস্টার্স শেষ করারও ইচ্ছে আছে।

চাকরি করার ইচ্ছা আছে?
না, আমার কখনো চাকরি করতে ইচ্ছে করে না।

আপনাকে কোন ধরনের গান বেশি টানে?
আধুনিক, সেমি ক্ল্যাসিক্যাল, মেলোডি গান আমাকে বেশি টানে।

রেকর্ডিং গানের যাত্রা শুরু হলো কীভাবে?
বাংলাদেশি আইডল ভলিউম ১, ২-তে গান ছিল। এর পর জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরানের ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ অ্যালবামে তার সঙ্গে ডুয়েট গান করেছিলাম। গানের শিরোনাম ছিল ‘আমি নেই আমাতে’। আমি নেই আমাতের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাই। এর পর ইমরানের সঙ্গে ‘বলো সাথিয়া’ গানটি গেয়েছি, এ গানেরও বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।

এ পর্যন্ত কোন কোন শিল্পীর সঙ্গে গান করেছেন?
এখন পর্যন্ত কাজী শুভ, বেলাল খান, ইমরান ও মিলনের সঙ্গে গাওয়া হয়েছে।

ডুয়েট গানেই বৃষ্টিকে বেশি দেখা যাচ্ছে। একক গানে পিছিয়ে কেন?
পিছিয়ে বলব না। করব করব করেই করা হচ্ছিল না। ডুয়েট প্রজেক্টগুলো হাতে চলে আসে, তাই গাওয়া। আমি কিছু দিন থেকে এ ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করছি যে নিজের একক গান করা উচিত।

শোনা যায়, ফিমেল আর্টিস্টরা মেল আর্টিস্টদের ওপর নির্ভরশীল। এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
ইমরান ভাইয়ার সঙ্গে ‘আমি নেই আমাতে’ গাওয়ার পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ভাইয়ার সঙ্গেই ডুয়েট করার প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এগুলো হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের চাহিদায়। কাজী শুভ ভাইয়ের সঙ্গে তিনটি, মিলন ভাইয়ের সঙ্গে চারটি সবই কিন্তু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কারণে। ফিমেল আর্টিস্টরা মেল আর্টিস্টদের ওপর একটু তো অবশ্যই নির্ভরশীল। আমার ক্ষেত্রে বলব, যেগুলোর চুক্তি হয়ে আছে সেগুলো শেষ করেই নিজের একক গানে মনোযোগী হব।

নিজের ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করতে মৌলিক গান জরুরি, এটা কি মনে হয় আপনার?
নিজের গান হোক এটা সবাই চায়, আমিও চাই। সম্প্রতি নিজের একক গানে কণ্ঠ দিলাম। এটা শিগগির প্রকাশ হবে।

কাছাকাছি সময়ে শ্রোতারা কোন গান পেতে যাচ্ছে?
অনেক আগে একটি ডুয়েট প্রজেক্ট করে রেখেছিলাম ইমরান ভাইয়ার সঙ্গে। আমাদের চারটি ডুয়েট গান আসছে সংগীতার ব্যানারে। একটি একটি করে মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হবে।

আর কী নিয়ে ব্যস্ততা?
গানের পাশাপাশি উপস্থাপনা করছি টেলিভিশনে। উপস্থাপনাটা আমার দ্বিতীয় ভালোলাগা। উপস্থাপনা করছি এশিয়ান টিভির ‘মিউজিক্যাল মুভি’ ও ‘মিউজিক্যাল লাইভ’। ঈদে বৈশাখী টিভিতে একটি বিশেষ প্রোগ্রাম করলাম। এই তো।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে