সাক্ষাৎকার

‘মানুষ স্বপ্নের ওপর ভর করেই বাঁচার স্বপ্ন দেখে’

  চপল মাহমুদ

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:০৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

মঞ্চ অভিনেতা আখন্দ জাহিদ। চারুনীড়ম থিয়েটারের আলোচিত নাটক ‘শেষ নবাব’-এ সিরাজ-উদ-দৌলা চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই নাটক ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চপল মাহমুদ

পথচলার শুরুটা কীভাবে?

ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের স্বপ্নটা নিজের সত্তায় কাজ করত, কিন্তু কীভাবে কী কিছুই জানতাম না। একদিন বড় ভাইয়ের বাসায় পত্রিকায় দেখি চারুনীড়ম স্কুলিংয়ের অভিনয় সহায়ক কর্মশালার বিজ্ঞাপন। তখন পেপার কাটিংটা কেটে কয়েক দিন সঙ্গে করে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। তার পর যোগাযোগ করে চারুনীড়ম স্কুল অব অ্যাক্টিংয়ে ভর্তি হই। এর পর স্কুলিং সফলভাবে সম্পন্ন করে বিভিন্ন পরীক্ষায় কৃতকার্যের পর চারুনীড়ম থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাই। এসএসসি পরীক্ষার পর স্বপ্নদলের বিজ্ঞাপন দেখে বাড়ি থেকে না বলে নাটকের দলে কাজ করার জন্য ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু পরে আর কাজ করা হয়নি।

মঞ্চে প্রথম অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমার অভিনয়ের গুরু গাজী রাকায়েত স্যার। তার হাত ধরেই মঞ্চ নাটকে অভিনয় শুরু। দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ৪ মাস পর ২০১৬-এর জানুয়ারির ১৮ তারিখ ‘অবাক দেশ এবং বুড়ো’ নামে আমাদের দলের একটি জনপ্রিয় প্রযোজনায় ছোট্ট একটি চরিত্রে প্রথম মঞ্চে কাজ করার সুযোগ পাই। যদিও এই নাটকটিতে আমার কোনো সংলাপই ছিল না, তবু জীবনের প্রথম কাজ নিয়ে অনেকটা বিচলিত ছিলাম।

ছোট্ট সেই চরিত্র থেকে এখন মঞ্চের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা, কেমন লাগছে?

কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা যে কোনো অভিনেতারই স্বপ্ন থাকে, আর সেটা যদি হয় বাংলার ইতিহাসের ঐতিহাসিক প্রাণপুরুষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার চরিত্রÑ তা হলে তো কথা বলার কোনো অবকাশই থাকে না। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা চরিত্রে অভিনয় করা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। প্রথমেই আমি মহান আল্লাহপাকের নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং আমার গুরু গাজী রাকায়েত স্যারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাকে এই ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

পথচলার অভিজ্ঞতা...

পৃথিবীতে কোনো পথচলাই সহজ নয়। তার পেছনে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। আমি যখন চারুনীড়মের অ্যাক্টিং স্কুলে ক্লাস শুরু করি তখন থেকে পরবর্তী ১০ মাস সপ্তাহের প্রতি শুক্রবারে কুমিল্লা থেকে এসে সারাদিন ক্লাস করে আবার রাতে কুমিল্লায় ফিরে যেতাম। যদিও আমাদের কোর্স ৩ মাসের ছিল তবু আমি থিয়েটারে সুযোগ পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে এসে ক্লাস করতাম। তার পর ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থিয়েটারে যুক্ত হওয়ার পর ঢাকায় চলে আসি। তবে কতদূর কী হবে কিংবা কী করতে পারব তার কিছুই না জানা থাকলেও আমি প্রতিনিয়ত অভিনয়ের স্বপ্নটাকে বুকে লালন করে চলছি।

ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

ভবিষ্যতের কথা তো একমাত্র আল্লাহপাকই জানেন। তবে মানুষ যেমন প্রতিনিয়ত তার স্বপ্নের ওপর ভর করেই বাঁচার স্বপ্ন দেখে, আমিও তাই। স্বপ্নের কথা এখন নাইবা বললাম তবে একজন শিল্পী হয়ে অভিনয় শিল্পে নিজেকে যুক্ত রাখতে চাই আজীবন।

বর্তমানে আর কী কী কাজ করছেন?

আমাদের থিয়েটারের প্রথম প্রযোজনা রাশিয়ান নাট্যকার আন্তন চেখভ রচিত ‘দ্য বিয়ার’ অবলম্বনে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুবাদকৃত এবং গাজী রাকায়েত স্যারের নির্দেশনায় ‘শরতের মেঘ’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছি। পাশাপাশি টিভি নাটক ও মডেলিং করছি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে