দেবী : অনেক প্রথমের মেলবন্ধন

  ফয়সাল আহমেদ

১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:২১ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘প্রথম’ এমন একটি শব্দ, যার সঙ্গে অনেক স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে। সেটা প্রথম স্থান, সন্তান, উপার্জন, প্রেমÑ যা-ই হোক না কেন। আর এমন অনেক ‘প্রথম’ নিয়ে আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে বছরের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দেবী’। তা কী কী ‘প্রথম’ আছে এই চলচ্চিত্রে? ১. কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি মিসির আলি প্রথমবার বড়পর্দায়, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ২. জ-তে এখন এপার ওপারের সবাই জয়াই বোঝে, সেই জয়া আহসানের প্রথম প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘দেবী’। এতে রানু চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি। ৩. জয়ার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সি-তে সিনেমা থেকে নির্মিত এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নির্মাতা হিসেবে নাম লেখালেন অনম বিশ্বাস। যিনি ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। সর্বশেষ ৪. সরকারি অনুদান পাওয়া ‘দেবী’র নীলু হয়ে প্রথমবার বড়পর্দায় হাজির হচ্ছেন ছোটপর্দার প্রিয় মুখ শবনম ফারিয়া।

এত ‘প্রথম’, মানে এত স্বপ্ন ডানা মেলে ওড়ার জন্য প্রস্তুত। তাই কত দূর উড়তে পারবে সেই প্রশ্ন না করাই উত্তম। যদিও কথায় আছে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। কিন্তু আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবেÑ দিনের শুরু দেখে আঁচ করা যায়, দিনটি কেমন যাবে। আর দিনের শুরুটা যে চমৎকার হয়েছে সেটা ‘দেবী’র প্রথম টিজারই বলে দিয়েছে। পাখির কলতান, বারান্দায় আনমনে দাঁড়িয়ে থাকা শাড়ি পরিহিতা রানু, নিঃসঙ্গ দোলনার দোল খাওয়া, অথবা মেঘের গর্জনÑ দুই মিনিটের এই টিজার অনেকেরই মন খারাপ করে দিয়েছে। কিন্তু সেই মন খারাপের মাঝেও উঁকি দিয়েছে রহস্য, মিসির আলির রহস্য। যদিও মিসির আলিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি টিজারে। আর তাকে খুঁজে না পাওয়াটাই মনের তৃষ্ণা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও চঞ্চল চৌধুরীকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আড়াল করে রাখা হয়নি। ছবির ট্রেলারে দেখা গেছে তাকে। আর যতটুকু দেখা গেছে তাতে দর্শকের মনের তৃষ্ণা বেড়ে গেছে বহুগুণ। এটা সবারই জানা যে, চঞ্চল প্রতিটা চরিত্রের জন্য আলাদা আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। ব্যতিক্রম হয়নি মিসির আলির ক্ষেত্রেও।

চঞ্চল বেশ ভালো করেই জানেন, মিসির আলি চরিত্রটা বাংলা সাহিত্যে কতটা জনপ্রিয়। যারা মিসির আলি উপন্যাসগুলো পড়েছেন তারা নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছেন চরিত্রটিকে। চঞ্চল নিজেও সেই চেষ্টা করেছেন। মিসির আলি বেশ চিন্তাশীল আর যুক্তিনির্ভর একটা চরিত্র। চরিত্রটি ধারণ করতে চঞ্চল চৌধুরীকে সাহায্য করেছেন পুরো ‘দেবী’ টিম। তিনি বলেন, ‘সবাই যে যার মতো করে মিসির আলির চেহারাটা এঁকেছেন। আমরাও আপ্রাণ চেষ্টা করেছি চরিত্রটি যেন দর্শকের কাছে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এর জন্য করণীয় সবই করেছি। যে মিসির আলি প্রথমবার বড়পর্দায় আসছে, সেই মিসির আলিকে সবাই পছন্দই করবে।’ তিনি আরও বলেন, “এমন চরিত্রে অভিনয় করাটা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। ‘দেবী’ অনেকের মতো আমারও প্রিয় একটি উপন্যাস। হুমায়ূন আহমেদ আমারও প্রিয় একজন লেখক। তাই আমরা সবাই আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এতটুকু বলতে পারি, খারাপ লাগবে না।”

দেবী নির্মাণের ঘোষণা যখন এসেছিল, তখন অনেকেরই সন্দেহ ছিল, রানু চরিত্রে জয়া আহসান কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন? সতেরো বছরের রানুর চরিত্রে জয়া আহসান কেন? তার প্রতিভার ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহ নেই। যে কোনো চরিত্রে তিনি মানিয়ে নিতে পারেন। ‘দেবী’র টিজার সেটারই প্রমাণ। বইয়ের রানু যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় সেটাও যে কি অদ্ভুত সুন্দর হতে পারে, তা জয়া আহসানকে না দেখলে হয়তো সবাই বুঝতে পারতেন না। তবুও জয়া আহসান বলেন, “আমরা কিন্তু হুবহু বইয়ের মতো করে দেবী বানাইনি। আমি এটা একদম স্পষ্ট করে দিতে চাই। কিছু জায়গা আছে, বইতে পড়তে যেমন ভালো লাগছে, ভিজ্যুয়ালি সেটা করতে গেলে ভালো লাগবে না একদমই, বরং হাস্যকর হয়ে উঠবে। সে জন্যই আমাদেরকে কাছাকাছি রকমের অন্য একটা অ্যাপ্রোচে যেতে হয়েছে। সেটা সব জায়গায় বইয়ের ‘দেবী’র সঙ্গে পুরোপুরি মিলবে না, কিন্তু এটা বলতে পারি যে দর্শকের কাছে অবাস্তব মনে হবে না।”

গল্পে মিসির আলি ও রানুর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নীলু। এমন একটি চরিত্র দিয়েই বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে শবনম ফারিয়ার। তিনি শুরু থেকেই বলে আসছেন, ভালো গল্পের চলচ্চিত্র ছাড়া বড়পর্দায় পা রাখবেন না। ‘দেবী’র মতো চলচ্চিত্র বা নীলুর মতো চরিত্র তার কাছে স্বপ্নপূরণের সমান। তিনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে স্বপ্নের চরিত্রই বলা যায়। তার পরও আমাকে যখন এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বলা হলো

তখন আমি গল্পটি পড়ার জন্য সময় চাইলাম। এর পর চরিত্রটি করতে রাজি হই। এ ছাড়াও বড় কারণ জয়া আপা। আমি সব সময় বলি তিনি আমার অভিনয়ের আইডল। যতদিন কাজ করেছি নীলু চরিত্রটি ধারণ

করেই চলতাম।’

সব শেষ ছবির পরিচালক অনম বিশ্বাস নিজেও হুমায়ূন আহমেদের বড় ভক্ত। তিনি চেষ্টা করেছেন ‘দেবী’-তে নিজের সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিতে। এটা তার প্রথম সিনেমা, ভুল-ত্রুটি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে অনম যে ‘দেবী’ নিয়ে আসছেন, সেখানে হুমায়ূন আহমেদ আছেন, তার ছাপও আছে, কিন্তু পুরোপুরি হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’ নয়।

আগামীকাল সারাদেশের ২৯টি সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে ‘দেবী’। জাজ মাল্টিমিডিয়ার পরিবেশনায় ঢাকার ৭টি ও ঢাকার বাইরে ২২টি হলে দেখা যাবে চলচ্চিত্রটি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে