সাক্ষাৎকার

হাল ছাড়িনি, তাই এ লড়াইয়ে জিতেছি

  অনলাইন ডেস্ক

১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:২৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। তিনি এদেশেরও কোটি মানুষের স্বপ্নের নায়িকা। সেলুলয়েড পর্দার বাইরেও সপ্রতিভ তিনি। আনফেপা গুডউইলের শুভেচ্ছাদূত এবং সামাজিক কর্মী হিসেবে তিনি বিশেষভাবে সুপরিচিত। এ তারকা এখন ঢাকায়। এসেছেন বিশ্বের অন্যতম সাহিত্য উৎসব ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’-এর অতিথি হয়ে। গতকাল বাংলা একাডেমিতে এক আড্ডায় মনীষা কথা বলেন আমাদের সময়ের সঙ্গে...

আপনার প্রথম গ্রন্থ ‘দ্য বুক অব আনটোল্ড স্টোরিজ’ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানের সবচেয়ে বড় অধ্যায় নিশ্চয় মরণঘাতী ক্যানসার জয়?

সবচেয়ে বড় অধ্যায় কিনা বলতে পারব না। অনেকেই বলছেন, এটা আমার পুনর্জন্ম। কিন্তু আমি পুনর্জন্ম শব্দটাকে গুরুত্ব দিতে চাই না। তবে এটা ঠিক, এখানে স্পিরিট থাকাটা খুবই জরুরি।

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে সবচেয়ে কঠিন পর্ব ছিল কোনটা?

আমার পরিবার, বিশেষ করে মা আমাকে প্রতিপদক্ষেপে সাহায্য করেছেন। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যেতাম, কান্নাকাটি করতাম। নিউইয়র্কে যখন চিকিৎসার জন্য ছিলাম, নিজের চোখে দেখেছি সবাই কত একা! হতাশ হয়ে বসে থাকত। মনে মনে ঠিক করেছিলাম, নিজেকে এভাবে শেষ করব না। আমার কথা হচ্ছে, লড়াই করে মৃত্যুবরণ করা উচিত। আমার চুল যখন পুরো উঠে গিয়েছিল, তখন খুব ভেঙে পড়েছিলাম। মা বোঝাতেন যে, আমি নিজেই পারব লড়াই করতে। হাল ছাড়িনি, তাই এ লড়াইয়ে জিতেছি।

পুরো ভারত এখন ‘#মিটু’ জ্বরে আক্রান্ত। এসব অভিযোগের বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

নারীর ক্ষমতায়নে আমি বিশ্বাসী, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়ালে না। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।

এ সময়ে এসেও কিন্তু অনেক পরিবার নিজের মেয়েকে অভিনয় জগতে আসতে দিতে চান না। বিষয়টি নিয়ে আপনি কী ভাবেন?

সব কর্মক্ষেত্রেই এ বিভেদ আছে। অনেক পরিবার তো মেয়েকে বাইরে কোনো প্রকার কাজ করতে দিতেই নারাজ। তাই বিষয়টিকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি। আর আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। তাই এটা নিয়ে আলাদাভাবে ভাবছি না।

এ বয়সে এসে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করা কতটা কঠিন?

এখন আর নাচ-গান করতে আর ভালো লাগে না। এক সময়ে করেছি এবং সেটা উপভোগ্য ছিল। এখন নিজের বয়স অনুযায়ী কাজ করব। এ আর রহমানের প্রযোজিত ‘নাইনটি নাইন সংস’ ছবিটি করছি।

এক সময়ে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পেতেন। এখনকার নায়ক-নায়িকাদের মধ্যে পারিশ্রমিকের বৈষম্য নিয়ে কী বলবেন?

নিজেকে নিয়ে বেশি সচেতন ছিলাম না। এমনও দিন গেছে, যখন আমার বারোটা ছবি ফ্লোরে ছিল। দিনে তিন শিফটেও কাজ করেছি। ভালো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে সব সময় ছিল। দীপিকা, আনুশকা, আলিয়া এরা সবাই পরিশ্রমী ও প্রতিভাবান। তবে এখনো পারিশ্রমিকের বৈষম্য কেন রয়েছে, তা ঠিক জানা নেই।

‘সঞ্জু’ ছবিতে নার্গিস দত্তের চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি কেমন ছিল?

বেশ কঠিন ছিল কাজটি। নার্গিসজির কিছু ছবি, তার ওপর তৈরি হওয়া তথ্যচিত্র দেখেছি। নার্গিসজির হাঁটাচলা, চাহনি, হাসি-এসব পর্দায় ফুটিয়ে তোলা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর কখনো কি তিক্ততা গ্রাস করেছে?

একদমই না। সিঙ্গল স্ট্যাটাস উপভোগ করছি। জীবনের এ পর্যায়ে এসে একটা জিনিস উপলব্ধি করেছি, কাজ মানুষকে সব সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে