সাক্ষাৎকার

‘চলচ্চিত্রের ভালোর জন্য সব কিছু করতে রাজি’

  ফয়সাল আহমেদ

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিনেতা শাকিব খান। দুই দশকের অভিনয়জীবনে কাজ করেছেন শতাধিক ছবিতে। দর্শকের ভালোবাসায় তিনি আজ সুপারস্টার। দেশের মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। ভক্ত, কাজ ও বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

কাজী হায়াৎ অসুস্থ, ‘বীর’-এর শুটিং পিছিয়ে গেছে। কোন ছবি দিয়ে এ বছর শুটিং শুরু করছেন?

ইচ্ছা ছিল, কাজী হায়াতের পরিচালনায় ‘বীর’-এর শুটিং দিয়ে এ বছরের কাজ শুরু করব। কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাধ্য হয়েই ছবির শুটিং স্থগিত করা হয়েছে। আমরা সবাই তার সুস্থতা কামনা করছি। এখন ‘টাইগার’ নামে একটি ছবির কাজ শুরু করব। ইকবালের প্রযোজনায় এটি নির্মাণ করবেন গুণী পরিচালক মালেক আফসারী। ছবিতে আমার বিপরীতে থাকবেন শবনম বুবলী। এখন এটি দিয়েই বছর শুরু করছি। কারণ পরিচালক ছাড়া দুটি ছবিরই কলাকুশলী সব এক।

‘বীর’ নিয়ে আপনি অনেক আশাবাদী ছিলেন?

আমি প্রতিটি ছবি নিয়েই আশাবাদী। তবে ‘বীর’ নিয়ে একটু বেশি আলোচনা হচ্ছে। কাজী হায়াতের ছবিতে প্রথমবারের মতো আমি অভিনয় করতে যাচ্ছি। এটি হতে যাচ্ছে তার পরিচালিত পঞ্চাশতম চলচ্চিত্র। এসকে ফিল্মসের (শাকিব খান ফিল্মস) ব্যানারে নির্মিত হবে এটি। প্রযোজক হিসেবে সঙ্গে আছেন ইকবাল। অ্যারেঞ্জমেন্ট ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে কোনো কমতি থাকবে না। ‘বীর’ হবে চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত ছবি।

কিছু দিন আগে কলকাতার একটি অনলাইন খবর প্রকাশ করেছে- শাকিব খানের দুকূলই গেল! দেখেছেন নিশ্চয়?

হুম, দেখেছি। আমি বিষয়টা পজিটিভভাবেই দেখছি। আমি যদি কলকাতার একটি ছবিতে এক বা দুই কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকি, তবে সেটি আমাদের দেশের জন্য কি সুখবর নয়? টাকাটা তো দেশেই আসবে। আমি একটি কথাই সবার জন্য বলতে চাই- বি পজিটিভ। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ভালো কিছু হবেই।

নতুন বছরে চলচ্চিত্র নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

আগেও বলেছি আমি সব ছবি নিয়েই আশাবাদী। আমাদের এখানে ভালো কাজ হচ্ছে। আমি নিজে আন্তর্জাতিক মানের কাজ করছি। আগামীতেও করব। যত দিন বেঁচে আছি, চলচ্চিত্রের ভালোর জন্য সব কিছু করতে রাজি।

এ বছর কতগুলো ছবিতে কাজ করতে চাচ্ছেন?

সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ভালো গল্পের ছবিতে কাজ করব এটা নিশ্চিত। আর আমার প্রডাকশন হাউস থেকেও ভালো ভালো ছবি নির্মাণ করার ইচ্ছা আছে।

‘নাকাব’-এর পর কলকাতার আর কোনো ছবিতে আপনার অভিনয়ের কথা শোনা যায়নি। নতুন কোনো খবর আছে কি?

এক সঙ্গে চারটি ছবিতে কাজের কথা চলছে। তবে এখনই কিছু বলা যাবে না। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এখনই কিছু না বলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এটুকু বলব, আবারও চমক অপেক্ষা করছে। সত্যি বলতে দেশের শিল্পীদের কলকাতায় কদর বেড়েছে, সেখানে গেলেই এখন তা টের পাই। আমার যে কয়টা ছবি ভারতে মুক্তি পেয়েছে, সব কটি ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য পেয়েছে। এ কারণে সেখানকার প্রযোজক-পরিচালকরা চান আবার ছবির কাজ করাতে।

আমাদের ছবিগুলো এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি পাচ্ছে। মানে আমাদের চলচ্চিত্রের বাজার বাড়ছে। এখন আমাদের কী করা উচিত?

আমরা কথায় কথায় বলে থাকি, ‘চলচ্চিত্রের বাজার খারাপ।’ কেন খারাপ সেটা কেউ বলে না। আমার মনে হয় ভালো সিনেমা হলের অভাব, ভালো গল্পের অভাব, গুণী নির্মাতার অভাব, প্রযোজকের অভাবের কারণেই ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে না। তাই বলে থেমে থাকলে হবে না। যা আছে তাই নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যেহেতু দেশের বাইরে আমাদের চলচ্চিত্র যাচ্ছে তাই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। কারণ দেশের বাইরের মানুষ দেখছেন এবং বাহবাও দিচ্ছেন। সঙ্গে পুরস্কারপ্রাপ্তির মাধ্যমে দেশের সুনামও অর্জন করছে এসব ছবি। আমাদের এখানকার বেশ কয়েকটি ছবি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেয়েছে। এটা চলচ্চিত্রের জন্য সুখবর। আমি উপলব্ধি করেছি, শিল্পীর আসলে কোনো দেশ নেই, কোনো সীমানা নেই। একজন শিল্পীর জন্য পুরো পৃথিবীই খোলা। শিল্পী তার মনের মতো অভিনয় দিয়ে পুরো পৃথিবীতে খেলে যাবেন তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, দেশের সম্মান।

দেশের বাইরে ছবি মুক্তি পাওয়া মানে, আমার মাধ্যমে আমার দেশ সম্পর্কে ধারণা পাবেন বাইরের মানুষ। কিন্তু আগে তো দেশের হলের কথা চিন্তা করা উচিত? সেটি তো অবশ্যই। সিনেমা হল বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে। আর সিনেমা হল বাঁচাতে হলে প্রতি সপ্তাহে ভালো গল্পের, ভালো মানের ছবি মুক্তি দিতে হবে। আমি সব সময় চাই দর্শক ভালো গল্পের সিনেমা দেখুক। হল মালিকরা লাভবান হোক।

এজন্য সবার এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। অনেক সময় দেখা গেছে আমার কোনো ছবি মুক্তির আগে ঝামেলা হয়। আর এ ঝামেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিন্তু হল মালিকরা। আমার কি কোনো ক্ষতি হচ্ছে? না। আমি যদি এখন কাজ না করি তবে ক্ষতিটা কার? আমি কিন্তু নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি। তাই কাজ করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। কাজ করতে হবে সবার কথা চিন্তা করে। আমার দিকে অনেকে তাকিয়ে থাকেন। তাদের কথা ভেবেই কাজ করে যাচ্ছি। আবার বলছি, চলচ্চিত্রের ভালোর জন্য আমার এই নিরলস পরিশ্রম।

ভালো ছবি করতে গেলে ভালো, মৌলিক গল্প দরকার। আপনার কী মনে হয়?

এর কোনো বিকল্প নেই। আমি সব সময়ই ভালো-মৌলিক গল্প খুঁজি। এক সময় সৈয়দ শামসুল হক, মমতাজউদদীন আহমদ, আমজাদ হোসেন, মনিরুজ্জামান, জহির রায়হানের মতো গুণীজনরা আমাদের সিনেমায় মৌলিক গল্প ও চিত্রনাট্য লিখতেন। বড় বড় সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, কবিদের সিনেমায় আনাগোনা ছিল। দেশীয় সিনেমাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে তাদের মতো দেশবরেণ্যদের বর্তমানে সিনেমায় আসা দরকার। আমি আনিসুল হকের গল্পে একটি সিনেমা প্রযোজনা করতে যাচ্ছি। মৌলিক গল্পের সিনেমা হবে এটি। বাজেটে কোনো আপস করব না। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। প্রযোজনা-পরবর্তী কাজ দেশের বাইরে করব। এটি পরিচালনা করবেন শামীম আহমেদ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে