তারারাও নয় আলোকবর্ষ দূরে

প্রকাশ | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ১০:৫১

ফয়সাল আহমেদ

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামÑ এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলে আপনি সব সময়ই আপনজনের কাছাকাছি, তা যত দূরেই থাকুন না কেন। এ তো গেল আপনজনের কথা। কিন্তু যারা স্বপ্নের রাজ্যে বসবাস করেন, মানে আপনার প্রিয় তারকাদের কথাই চিন্তা করুন। এক সময় তাদের খোঁজখবর নিতে হলে তাকিয়ে থাকতে হতো পত্রিকার পাতার দিকে। আর এখন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলে তারকারা এখন আপনার হাতের মুঠোয়! তারারা আর আলোকবর্ষ দূরে নেই।

অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। পুরো দেশজুড়ে রয়েছে তার ভক্ত। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের এই যুগেও তিশার খবর জানতে হলে ভক্তদের তাকিয়ে থাকতে হতো গণমাধ্যমের দিকে। কারণ তার কোনো ফ্যানপেজ ছিল না। অবশেষে তিনিও যোগ দিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফ্যানপেজ খোলার পর তিশা এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন, ‘হ্যালো, অবশেষে আপনাদের ভালবাসা আমাকে ফেসবুকে টেনে আনলো। আজকে থেকে আমার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ খোলা হচ্ছে নুশরাত ইমরোজ তিশা নামে। আমি রেগুলার এটিতে আপডেট দেব। মাঝেমধ্যে আপনাদের সঙ্গে লাইভ কথা বলতে আসব। আমার যাবতীয় তথ্য, আমার কাজের ব্যাপারে সবকিছু আপনারা জানতে পারবেন এই পেজের মাধ্যমে। ফ্যানপেজ খোলার অল্প কয়েক দিনে তার ফলোয়ার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩০৫।

অভিনেত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফ্যান-ফলোয়ার চিত্রনায়িকা পরীমণির। তার ফ্যানপেজ ফলোয়ার সংখ্যা ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৮। এবং ফেসবুক ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার। তারকাদের এসব ফ্যান-ফলোয়ার নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, শাবানা-ববিতাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের যে কৌতূহল ছিল, এখনকার তারকাদের নিয়ে সেই কৌতূহল কি আছে? এসব বিষয়ে পরীমণি বলেন, শাবানা-ববিতা ম্যাডামদের সময়ে তারকাদের মধ্যে অনেক গোপনীয়তা ছিল। এখন আমরা না চাইলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতে হয়। এটির মুখ্য উদ্দেশ্যটি লোকে ভুলে যায়। সোশ্যাল মিডিয়া নিজের কথা প্রকাশ করার একটি জায়গা। আমার মতো যাদের নিজের মতামত থাকে, তারা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাবেনই। তখন মনে হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে না থাকাই ভালো। কিন্তু এখন যা দিনকাল পড়েছে, এই মাধ্যমে না থাকলেও চলবে না। পরীর পর ভক্তরা সবচেয়ে বেশি ফলো করেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে। তার ফ্যানপেজে ফলোয়ার সংখ্যা ৬২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৩। এবং তার ফেসুবুক ফলোয়ার ২ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬ জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ফারিয়া বলেন, এটি ঠিক যে যত আড়ালে থাকবেন, রহস্যের উপকরণগুলো তত জমা হতে থাকবে। কিন্তু এখন নানাভাবে খবর পাওয়া যায়। তাই আমরা যদি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকি তা হলে স্ট্র্যাটেজিটা ব্যর্থ হবে। আজ সবাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আছে। আমরা অভিনেত্রী বলে তো কোনো দ্বীপে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারি না। এর পরই আছেন হালের ক্রেজ নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। তার ফ্যানপেজে ফলোয়ার ২৩ লাখ ৯ হাজার ৩৪৩ জন। এবং ফেসবুক ফলোয়ার প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার। মাহিয়া মাহির ফলোয়ার সংখ্যা ৮ লাখ ২২ হাজার।

অভিনেতা বলুন আর গায়কই বলুন, পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলোয়ার তাহসান খানের। তার ফলোয়ার ৬৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৫১ জন। তাহসান বলেন, ফ্যানদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার প্লাটফর্ম হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া খুব ভালো। কিন্তু তারকারা সহজলভ্য হয়ে ওঠেন বলে তাদের রহস্যটা অবশ্যই কমে যাচ্ছে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু আজকের দিনে টুইট করা, পোস্ট করা এগুলো খুব জরুরি হয়ে উঠেছে। গায়কদের মধ্যে ফ্যানপেজে সবচেয়ে বেশি ফলোয়ার আসিফ আকবরের। তার ফলোয়ার সংখ্যা ২৯ লাখ ৭৫ হাজার। আসিফের মতে, সোশ্যাল মিডিয়াকে খুব বুঝেশুনে ব্যবহার করা উচিত। এখন কিন্তু গান সব ইউটিউবে প্রকাশ হয়। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় না থাকলে চলবে না। কারণ যুগ পাল্টেছে। আসিফের পর ভক্তরা বেশি ফলো করেন হাবিব ওয়াহিদকে। তার ফলোয়ার ১২ লাখ ৩৩ হাজার। নিজের নতুন কোনো গান প্রকাশ হলেই হাবিব তার ফ্যানপেজে লিংক দেন। ফলোয়ার আছে গায়ক হৃদয় খানেরও; তার ফলোয়ার সংখ্যা ৯ লাখ ২৭ হাজার। পরিচালকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৮৮ হাজার।

ফেসবুকে ফ্যান-ফলোয়ার নিয়ে তারকারা অনেক সময় ঝমেলায়ও পড়েন। তবু সত্যটি হলো এই যে, আজ বাজার করা থেকে সিনেমার টিকিট বুক করা সব অনলাইনেই হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বাদ দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা সম্ভব নয়। এই মাধ্যমে আমরা তারকাদের ব্যক্তিজীবনের টুকিটাকি ঘটনা জানতে পারি। জানতে পারি তারকাদের ব্যক্তিত্বের অন্য দিকগুলোও।

 

 

"