ভ্রমণে খাবার খান বুঝেশুনে

  কেয়া আমান

১১ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

 

ভ্রমণে গেলে আমরা অনেকে চিন্তায় পড়ে যাই কোনটা খাওয়া ঠিক হবে আর কোনটা খাওয়া যাবে না। আবার অনেকে বৈচিত্র্যের আকর্ষণে বহু ধরনের খাবার গ্রহণে আগ্রহী থাকি। এতেই দেখা দেয় বিপত্তি। ডায়রিয়া, অ্যাসিডিটি, বমিসহ শারীরিক নানা সমস্যা ভ্রমণের আনন্দটাই অনেক সময় নষ্ট করে দেয়। তাই ভ্রমণে খাবার খান বুঝেশুনে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ভ্রমণে কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত আর কোন ধরনের খাবার এড়িয়ে চলবেন। পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। 

ভ্রমণে যেসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত

নানা রকম ফল

ভ্রমণে নানা রকম ফল অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। সারা দিন ঘুরে বেড়ানোতে আঙুর আপনাকে সতেজ রাখার পাশাপাশি শরীর শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকেও রক্ষা করবে। একটি মাঝারি সাইজের আপেলে রয়েছে ৮০ থেকে ১০০ ক্যালোরি ও ৫ গ্রাম ফাইবার। এটি আপনার শরীরে প্রাকৃতিক সুগারের কাজ করবে এবং পানিশূন্যতা রোধে সাহায্য করবে। ৫০টি পেস্তাবাদামে রয়েছে ১৬০ ক্যালোরি, ৫ গ্রাম প্রোটিন ও ২ গ্রাম ফাইবার। এটি উচ্চ ফাইবার ও প্রোটিনের বেশ ভালো উৎস। ভ্রমণের সময় এটিও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

পনির

এতে রয়েছে ৮০ ক্যালোরি ও ৭ গ্রাম প্রোটিন। এটি ভ্রমণে শরীরের শর্করার পরিমাণ সঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের শক্তি ধরে রাখে।

সিদ্ধ ডিম

সিদ্ধ ডিম ঘুরে বেড়ানোতে খাওয়ার জন্য বেশ চমৎকার। এটি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস এবং বহনেও সুবিধা।

গ্রিক দই

বিমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এয়ারপোর্টের দোকানগুলো থেকে গ্রিক দই কিনে নিতে পারেন। প্রতিটি দইয়ের কনটেইনারে রয়েছে ১৭০ ক্যালোরি ও ২৩ গ্রাম প্রোটিন।

ওটমিল

কয়েক দিনের জন্য দূরে কোথাও গেলে প্রতিদিন ঘুরতে বের হওয়ার সময় এক কাপ ওটমিল খেয়ে নিন। প্রতি কাপ ওটমিলে রয়েছে ১৯০ ক্যালোরি, ৭ গ্রাম প্রোটিন ও ৮ গ্রাম ফাইবার। গরম পানির মধ্যে ওটমিল দিয়ে খেতে পারেন। এটি আপনার শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখবে।

যেসব খাবার এড়িয়ে যাবেন

বেশি বেশি তেলে ভাজা, তেল-মসলার খাবার ভ্রমণে এড়িয়ে চলুন। এ ধরনের খাবার হজমে বাধা সৃষ্টি করবে এবং যাত্রাপথে অস্বস্তিতে রাখবে।

চিজ কিংবা স্যান্ডউইচ যাত্রাপথে একেবারে খাওয়া উচিত নয়। স্যান্ডউইচের ভেতরের ঠা-া মাংস জীবাণুর বাসস্থান এবং এটা আপনাকে রাস্তায় পেটের সমস্যায় ভোগাতে পারে।

মাছ ও মুরগির মাংস হজম হতে অনেক সময় নেয়। তাই ভ্রমণে এ ধরনের খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। এর চেয়ে বরং শাকসবজিজাতীয় খাবার খান বেশি বেশি।

মিষ্টি ক্ষুধা বাড়াবে, তাই ভ্রমণে মিষ্টিজাতীয় খাবারও যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

সতর্কতা

হ ভ্রমণে টুরিস্ট রেস্টুরেন্টগুলো এড়িয়ে চলুন। এ ধরনের রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম অনেক বেশি। এর বদলে যেখানে বেড়াতে গিয়েছেন, সেখানকার স্থানীয়রা যেসব রেস্টুরেন্টে খায় সেগুলোয় খাওয়ার চেষ্টা করুন। খরচ অনেকটা কম হবে।

হ সঙ্গে কিছু শুকনা খাবার ও পানির বোতল রাখুন।

হ স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো খেয়ে দেখতে পারেন। তবে খাবারটি আপনি রুচিসহকারে খেতে পারবেন কিনা ভেবে নিন।

হ শিশুদের ফাস্টফুড, ফেভারড জুস, চিপস যতটা সম্ভব কম খেতে দিন।

 

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে