উৎসবে গর্জিয়াস

  রওনক বিথী

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

 

আসি আসি করছে শীত। শীত মানেই ফুল-অন পার্টি সিজন। এ সময় বিয়ে থেকে শুরু করে নানা ধরনের অনুষ্ঠান যেন লেগেই থাকে। জমকালো উৎসবে সাজটাও হওয়া চাই নজরকাড়া। কেমন হবে উৎসবের সাজ-পোশাক,

শীত মানেই নানা ধরনের উৎসব অনুষ্ঠান। গরমের তাপ আর বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকায় এ সময় উৎসব অনুষ্ঠানের একটা বিশেষ সুবিধা হলো ভারী গহনা, জমকালো পোশাক আর ভরপুর মেকআপ সবই করা যায়। থাকে না মেকআপ নষ্ট হওয়ার ভয়। সাজপোশাক নিয়ে নিরীক্ষার সুযোগ থাকে বেশি।

সুতি হোক বা সিল্ক, কাতান কিংবা বেনারসি জমকালো উৎসবে শাড়িই যেন ফ্যাশন আর জমকালো সাজের সেরা সমন্বয়। টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার মনিরা এমদাদ বলেন, ‘জমকালো উৎসবে শাড়ি বেশ মানানসই। হালকা শীত থেকে পুরো শীতকালটা সিল্ক, কাতান, মসলিন, বেনারসি পরার উপযুক্ত সময়। কাতানে মিনাদার ও হাতের কাজ, ওপর-নিচ পাড় বা এক পাশ মোটা, এক পাশ চিকন পাড়, শিবুরির কাজের পাশাপাশি দুই রঙের ব্যবহারে বেনারসি, তাঁতের শাড়ির চাহিদা এখন বেশি।’

ঐতিহ্যবাহী শাড়িগুলো এখন অনেক বেশি ঝলমলেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বিভিন্ন উৎসবের জন্য মানানসই। এ সময় বিভিন্ন জমকালো পার্টিতে সিল্ক, মসলিনে এমব্রয়ডারি, দপকা, এপ্লিক, ক্যাটওয়ার্ক, হাতের কাজ, কাতান শাড়িতে কলকা, ফুলেল মোটিফের ট্র্যাডিশনাল শাড়ি পরতে পারেন। যারা ট্র্যাডিশনালের বাইরে পরতে চান তাদের জন্য রয়েছে জর্জেট, টিস্যুতে জরি, বির্ডস, পার্ল, এমব্রয়ডারির ভারী কাজের, স্মোকি শিফনের অসংখ্য নকশা।

‘কাতান, বেনারসিতে জরির পিটানো কাজ, কুচির অংশে একরঙা, জমিন, আঁচল ও পাড়ে বিভিন্ন রঙ-নকশার শাড়ি উৎসবে ভালো লাগবে। হালকা কাজের শাড়ির সঙ্গে জমকালো নকশার ব্লাউজ পার্টিতে পরতে পারেন।

ছোট হাতার চেয়ে সিøভলেস, হাফসিøভ, ফুলসিøভের জনপ্রিয়তা বেশি। উৎসবে শাড়ির সঙ্গে গলায় নেটের ফ্রিল দেওয়া, উঁচু গলা, গলায় ও পিঠে এমব্রয়ডারি, লেইস, স্টোন বসানো ব্লাউজ পরতে পারেন। টকটকে লাল, গাঢ় নীল, রয়্যাল ব্লু, কফি রঙগুলো ভালো লাগবে’Ñ জানান ডিজাইনার লিপি খন্দকার। পরতে পারেন স্টোন, পুঁতি, এমব্রয়ডারি, পার্লের ভারী কাজের মেঝে ছোঁয়া গাউন কিংবা লংকামিজও। একরঙা এবং ফুলেল মোটিফের গাউন ফরমাল পার্টির জন্য আকর্ষণীয়।

বিয়ের মতো জমকালো উৎসবে এখনো অনেকের পছন্দ সোনার গহনা। সোনার গহনায় এন্টিক কালার, রাজ গোল্ড, হোয়াইট গোল্ড আভিজাত্য প্রকাশ করবে। ভারীর বদলে একটু হালকা লম্বা গহনা চলছে। জমকালো উৎসবে গলাজুড়ে ভারী কাজ, চোকারের মতো খাটো গহনাও পছন্দের তালিকায় রয়েছে। নকশায় জয়পুরি, রাজস্থানি, লহরী, চারকোনা কাট এখনো ট্রেন্ডি।

এ সময়ের সাজ নিয়ে বিউটি এক্সপার্ট ফারনাজ আলম বলেন, ‘অন্যান্য সময় দিনের সাজ হালকা রাখলেও এ সময় দিনের সাজটাও জমকালো করতে পারেন। যেহেতু শীতের আমেজ এসে গেছে, মেকআপ নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। তাই সাজটা তো একটু জমকালো হতেই পারে। তবে তা যেন দৃষ্টিকটু না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমেই মুখটা ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এতে মেকআপের বেইজ ভালোমতো ত্বকে বসবে। এর পর বিবিক্রিম ও ফেসপাউডার লাগিয়ে নিন। দিনে চোখ কিংবা ঠোঁট যে কোনো একসাজে উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করুন। হয় চোখে উজ্জ¦ল রঙের আইশ্যাডো আর ঠোঁটে একটু হালকা লিপস্টিক, নয়তো চোখে হালকা রঙের আইশ্যাডো আর ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। এবার মোটা করে আইলাইনার আর কাজল দিন। শীতে ঠোঁট বেশি রুক্ষ হয়। তাই এ সময় ঠোঁট সাজাতে ম্যাট লিপস্টিকের বদলে ক্রিম লিপস্টিক বেছে নিন। মগ, চেরি, পিচ, পিংক রঙ থেকে ম্যাচিং কোনো রঙের লিপস্টিক লাগিয়ে দিনের সাজ শেষ করুন।’

রাতের নিমন্ত্রণে উজ্জ্বল রঙ, শাইনিং সাজ ভালো লাগবে বলে জানান ফারনাজ আলম। রাতের সাজ নিয়ে ফারনাজ আলমের পরামর্শ হচ্ছে, ‘প্রথমেই প্রাইমার লাগিয়ে নিন। ত্বকে দাগ থাকলে দাগের স্থানে কনসিলার লাগিয়ে নিন। এর পর ফাউন্ডেশন কিংবা প্যানকেক ব্যবহার করুন। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফেসপাউডার লাগিয়ে মেকআপের বেইজ শেষ করুন। রাতের সাজটা শিমার এবং শাইনিং করুন। বেইজ করা হলে ব্লাশন এবং শাইনিং হাইলাইট দিয়ে একটু শিমার লাগিয়ে নিন। বেশ গ্লসি এবং গর্জিয়াস লুক আসবে। চোখের জন্য ডার্ক শেডগুলো বেছে নিন। কপার, চেরি, পিচ, গোল্ডেন ব্রাউন, চকোলেটের মতো মেটালিক কালারগুলো এখন চোখের ট্রেন্ডি কালার। দুই কিংবা তিন রঙের ব্যবহারে স্মোকি আইও মানাবে। আইশ্যাডোর পর মোটা করে আইলাইনার এবং কাজল দিন। সবশেষে সাজিয়ে নিন ঠোঁটযুগল। রাতের সাজে পামকিন, ব্লুবেরি, ডিপ পার্পেল, কফি, ডার্ক রেড ভালো লাগবে।’

বিভিন্ন মার্কেটে কাতান, হাফসিল্ক, বেনারসি পাওয়া যাবে ৬,০০০-১৫,০০০, অপেরা জুট কাতান ৪,০০০-১২,০০০, হাফ হাফ শাড়ি ৩,০০০-১২,০০০, বলাকা সিল্ক ৩,৫০০-১২০০, অ্যান্ডি ২,০০০-৫,০০০, লাকমি জর্জেট ৪,৫০০-৫,০০০ টাকায়। ঐতিহ্যবাহী শাড়ি কিছুটা কম দামে কিনতে যেতে পারেন মিরপুরের বেনারসি পল্লি। বসুন্ধরা সিটি, টুইন টাওয়ার, গাউছিয়া, নিউমার্কেট কিংবা বেইলি রোড থেকেও কিনতে পারেন উৎসবের শাড়ি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে