জিন্স কিংবা জেগিংস

  কেয়া আমান

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্যাশনধারায় জিন্স প্যান্টের উপস্থিতি নতুন নয়। জেগিংসও চলছে বহু বছর ধরে। তার পরও ফ্যাশনে জিন্স-জেগিংসের কদর যেন এখনো একই রকম। আর শীতে তো জিন্স-জেগিংসের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। পুরনো জিন্স-জেগিংসের নকশাতেও এসেছে নতুনত্ব। বাজার ঘুরে জিন্স-জেগিংসের নতুন চমক নিয়ে

ফ্যাশনে জিন্সের আবেদন সব সময় একই রকম। অনেককে দেখা যায় ১০-১৫ বছরের পুরনো জিন্সও আগলে ধরে রাখেন। এর একটি অন্যতম কারণ জিন্স যেমন স্টাইলিশ, তেমনি আরামদায়ক। তাই বহুদিন ধরে আমাদের ফ্যাশনে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে জিন্স।

হাল ফ্যাশনের অন্যতম বর্ণিল প্যান্টের নাম হচ্ছে জেগিংস। জেগিংস হচ্ছে জিন্স আর লেগিংসের মিশ্রণ। জিন্স সাধারণত ডেনিম ও ডেনিস স্টিচ দুই ধররের কাপড় দিয়ে তৈরি হয়। আর জেগিংসে জিন্স কাপড়টিই আরও বেশি পাতলা ও মসৃণভাবে উপস্থাপন করা হয়। সঙ্গে থাকে লেগিংসের ফিটিং, আরামদায়কতা আর বর্ণিলতা। জিন্স আর লেগিংসকে কিছুটা পাশ কাটিয়ে নতুনত্ব ছড়িয়েছে এই জেগিংস। জিন্সের মধ্যে চায়না, স্ট্রিচ, নাইলন কটন, নেটিভ জিন্স, ন্যারো, সফট, হার্ডসহ বিভিন্ন ধরন রয়েছে। রুচি ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্নতা রয়েছে কাটিংয়েও।

ছেলেদের জিন্স প্যান্টের মধ্যে ন্যারো কাটের জিন্স প্যান্ট বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই আবার স্কিন ফিটিংও পছন্দ করছে। তরুণীদের জিন্স প্যান্টের মধ্যে ন্যারো, সেমি-ন্যারো, বুট

কাট, স্ট্রেট কাট, ক্রেপ, বেগি প্রভৃতি রয়েছে। এর মধ্যে ন্যারো ও চুড়িদার জিন্স এখন বেশ জনপ্রিয়। বুট কাট জিন্স প্যান্টও অনেক তরুণীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে জিন্স, জেগিংসে যোগ-বিয়োগ হয়েছে নানা নকশা। বর্তমানে জিন্সের নতুন ধারা হলো জায়গায় জায়গায় ছেঁড়া-ফাটা নকশা। ফ্যাশন হাউস কান্ট্রিবয়ের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিটু খান বলেন, ‘জিন্সে ছেঁড়া নকশা আগে দেখা গেলেও এখন ছেঁড়া নকশাতেই এসেছে নতুনত্ব। এখন হাঁটুর ওপর বেশ কিছুটা অংশ কাটা নকশার দেখা মিলবে। ছেঁড়া নকশায় কাটা জায়গাটার ফাঁকা বেশ একটু বড় করে রেখে দেওয়া হচ্ছে কিংবা অন্য রঙের বাড়তি কাপড় লাগিয়ে করা হচ্ছে বিশেষ নকশা। প্যান্টের নিচের অংশের সুতা বের করে রাখার চলও এসেছে। আছে পাতাসহ ফুলেল নকশা, শুধু ফুলেল নকশা, সিকোয়েন্সের কাজ, নানারকম বিডস ও বাটন। এমনকি রঙে বর্ণিলতাও যেন এখন হয়ে উঠেছে জিন্স-জেগিংসের নকশা। নীল ছাড়াও কালো, খাকি রঙ, ধূসরসহ বহু রঙে দেখা মিলবে জিন্স।’ চলতি ধারায় জিন্স জেগিংসের বিভিন্ন নকশার মধ্যে আরও রয়েছে দুই পাশে মোটা সেলাই দেওয়া নকশা, পকেটের স্টাইল, স্টিল ও প্লাস্টিকের বোতাম নানাকিছু।

হালকা শীত থেকে পুরো শীতে জিন্স-জেগিংসে যেমন উষ্ণতা মিলবে, তেমনি স্টাইলও করা যাবে সমানতালে। তবে পোশাকটি কেবলই যে শীতে আরামদায়ক তা কিন্তু নয়। এখন বদলে গেছে জিন্স-জেগিংসের কাপড়ের ধরন। যেহেতু তরুণ-তরুণীদের দিনের অনেকটা সময় বাইরে থাকতে হয়, তাই তাদের আরামের কথা ভেবেই এখন জিন্স ও জেগিংস তৈরি করা হচ্ছে। জিন্স ও জেগিংস প্যান্টের রঙ ও সুতার ব্যবহারে এখন মাথায় রাখা হয় ঋতু। তাই শীতে তো বটেই, গরমেও এখন জিন্স-জেগিংস আরামদায়ক। আর একটু বেশি শীতে মোটা কাপড়ের জিন্স প্যান্ট তো রয়েছেই। তাই শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই জিন্স এখন আরামদায়ক। আর সমানতালে জনপ্রিয় তরুণ-তরুণী থেকে শিশু, কিশোর এমনকি মাঝবয়সীদের কাছেও।

‘স্টাইল তো শীতেই। তাই এই শীতে লম্বা কামিজ বা কুর্তার চেয়ে পুরোপুরি পাশ্চাত্য ঢঙের টপের সঙ্গে পরতে পারেন জিন্স কিংবা জেগিংস। লম্বা কামিজ কিংবা বেশি ঝুলের টপ, ফতুয়ার সঙ্গে জিন্স কিংবা জেগিংস তত মানানসই নয়’ বলে জানান লা-রিভের জ্যেষ্ঠ ডিজাইনার বিপ্লব বিপ্রদাস। সেই সঙ্গে তরুণদের জিন্সের সঙ্গে সব ধরনের রঙের টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল শার্ট মানিয়ে গেলেও নীল জিন্সের সঙ্গে সাদা শার্ট পরলে ক্ল্যাসিক লুক বজায় থাকবে বলে মনে করেন ডিজাইনার বিপ্লব বিপ্রদাস।

বাজারে ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্র্যান্ড সব ধরনের জিন্স, জেগিংস পাওয়া যাবে। আরমানি, ডেভিসন, এডুইন, হোপম্যানসহ নানা ব্র্যান্ডের জিন্সের দাম পড়বে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। নন-ব্র্যান্ডের জিন্স প্যান্টের দাম পড়বে ৩০০-৮০০ টাকা। ব্র্যান্ডের জেগিংস কিনতে পারবেন ৪০০-৬০০ টাকায়, নন-ব্র্যান্ডের জেগিংস পাওয়া যাবে ২০০-৪০০ টাকার মধ্যেই। একটু বেশি দামে এক্সট্যাসি, ইয়োলো, স্মার্ট, টেক্সাস, লা-রিভ, ক্যাটস আইসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে পাওয়া যাবে নানা ডিজইনের জিন্স, জেগিংস। একটু কম দামে কিনতে চাইলে চলে যেতে পারেন বঙ্গবাজার কিংবা ধানমন্ডি হকার্স। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন মার্কেটেও পাওয়া যাবে জিন্স কিংবা জেগিংস।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে