ঠা-ার দিনে গোসল

  সাজেদা স্নিগ্ধা

১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ওরে বাবা, শীতে শিশুকে গোসল করালে তো ঠা-া সর্দিজ¦রে পড়বে’Ñ এমন ধারণা অনেকেরই। আসলে কিন্তু সরাসরি ঠা-ার কারণে শিশুরা অসুস্থ হয় না। যেসব ভাইরাস শিশুর সর্দি-কাশি ও জ¦রের জন্য দায়ী, তাদের প্রকোপ ঠা-া আবহাওয়ায় বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই মূলত শীতে শিশুর সর্দি-কাশি বেশি হয়। তাই শীতকালে শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে শিশুকে শীতকালেও নিয়মিত গোসল করাতে হবে।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আকতারুজ্জামান জানান, ‘শীতে শিশুকে প্রতিদিনই কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করাতে পারেন। এতে কোনো ক্ষতি নেই। বরং এতে শিশু সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন থাকবে। বেশি শীতে চাইলে শিশুকে একদিন পরপর গোসল করাতে পারেন। যেদিন গোসল করাবেন না সেদিন মলত্যাগের পর শিশুকে কুসুম গরম পানি ঢেলে পরিষ্কার করে দিন। নকজাতকের সহজেই ঠা-া লেগে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই নবজাতকের গোসলের ক্ষেত্রে সাবধানতা প্রয়োজন। সদ্যোজাত শিশুর জন্মের প্রথম দুই দিন গোসল করানো উচিত নয়। এর পর থেকে গোসল করাতে পারেন।’

ছোট শিশুকে গোসল করানোর আগে রুমের তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হবে। বাথরুমে ঠা-া একটু বেশি থাকে। এ কারণে খুব ছোট শিশুকে ওখানে নয় বরং বেডরুমে দরজা-জানালা বন্ধ করে বাথটাবে বা বড় গামলায় গোসল করানো ভালো। বারান্দা বা উঠানে হালকা রোদ থাকলে সেখানেও শিশুকে গোসল করানো যেতে পারে।

শীতে গোসলের পানি কুসুম গরম হওয়া বাঞ্ছনীয়। গোসল করানোর আগে দেখে নিন পানির তাপমাত্রা শিশুর ত্বকের জন্য সহনশীল কিনা। গোসলের পানিতে সামান্য ডেটল বা স্যাভলন মেশাতে পারেন। গোসলের পর সরিষার তেল দেওয়ার দরকার নেই। অবশ্য আগে তেল মাখলে ক্ষতি নেই।

গোসলের আগে শিশুর কাপড়-চোপড় খুলে, মলমূত্র থাকলে তা পরিষ্কার করে তার পর শিশুকে বাথটাবে নামাতে হবে। গোসলের সময় নবজাতক শিশুর নাভি যাতে না ভেজে, বিষয়টি মাথায় রাখুন। বেবিসোপ হালকা করে গায়ে মেখে শিশুকে গোসল করিয়ে দিন। সপ্তাহে একদিন শ্যাম্পু করিয়ে দিন। চুলে শ্যাম্পু লাগিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে দ্রুত চুল ধুয়ে ফেলুন। বেশি সময় না নিয়ে পাঁচ থেকে সাত মিনিটেই শিশুর গোসল সম্পন্ন করুন।

শীতে শিশুর ত্বকের যতেœ ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ লোশন আবশ্যক। গোসল করানোর পর কোমল তোয়ালে দিয়ে শিশুর শরীর মুছে ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ বেবি লোশন, অলিভ অয়েল কিংবা ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ তেল সারা শরীরে এবং মুখে লাগিয়ে দিন। যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়। খেয়াল রাখতে হবে লোশন যেন অ্যালকোহল ও অন্যান্য কেমিক্যালযুক্ত না হয়।

সতর্কতা

গোসলের গরম পানির তাপমাত্রা শিশুর উপযোগী কিনা ভালোভাবে বুঝে নিন।

শিশুর জন্য বিশেষভাবে তৈরি সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শীতে শিশুর ত্বকের জন্য গ্লিসারিনযুক্ত বেবিসোপ ভালো।

শীতে শিশুর শরীরে ময়লা জমে বেশি। গোসলের সময় শিশুর কান, বগল, ঊরুর ফাঁক, কানের পেছন কোমল কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষে পরিষ্কার করে দিন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে