• অারও

ভালোবাসি ভালোবাসি

  কেয়া আমান

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:২৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বসন্তের রঙ ছড়িয়ে বাতাসে আজ ভেসে বেড়াচ্ছে ভালোবাসার গান। তাই তো রবিঠাকুরের সুরে সুর মিলিয়ে আজ গাইতে ইচ্ছে করে-

‘ভালোবাসি ভালোবাসি

এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাঁশি

ভালোবাসি ভালোবাসি’

দিনটি ভালোবাসার। হৃদয়ের গহিনে লুকিয়ে থাকা কিংবা রোজকার ভালোবাসা নতুন করে রাঙিয়ে নেওয়ার দিন আজ। ভালো তো বাসিই ভেবে এতদিন হয়নি যে কথা বলা, তিন শব্দের সেই কাক্সিক্ষত কথাটি- ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলার দিন আজ। ভালোবাসা নিয়ে অজস্র কবিতা আর গান মুখে মুখে, মনে মনে, সুরে-বেসুরে আবৃত্তি আর গীত হয়ে জলে-স্থলে, বনে-জঙ্গলে ভেসে বেড়ানোর দিন আজ।

ভালোবাসা কি আর দিন গুনে হয়! ভালোবাসাÑ মনের এই অনুভূতি প্রকাশ পায় বছরের ৩৬৫ দিনই। তবে ভালোবাসার জন্য যে বিশেষ একটি দিন, সেটাও তো উপেক্ষা করা কঠিন। তাই ভালোবাসা দিবস বিশেষই বটে। এমন বিশেষ একটি দিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’র অমিতের মতো করেÑ

‘দোহাই তোদের, এতটুকু চুপ কর ভালোবাসিবারে,

দে মোরে অবসর’Ñ

ভালোবাসতে প্রিয় মানুষটির জন্য দিনটি বরাদ্দ রাখতে পারেন কিংবা প্রিয় মানুষটির সান্নিধ্যে কাটাতে পারেন কিছুটা সময়। ভালোবাসা দিবস প্রসঙ্গে রবিঠাকুরের ভালোবাসার গানগুলোকে সুরেলা গায়কীতে ব্যাকুল করে রাখা রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অনিমা রায় বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি এক হৃদয়বিদারক প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি। এ কারণেই হয়তো ভালোবাসা দিবসে প্রেমিক যুগলই বেশি উৎফুল্ল থাকে। তবে ভালোবাসার ইতিহাসটি বিদেশি সংস্কৃতির হওয়ায় তা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পুরোপুরি যায় না। তা ছাড়া ভালোবাসাকে একটা নির্দিষ্ট গ-িতে আবদ্ধ করাও ঠিক নয়। আমরা দেখেছি রবিঠাকুরের লেখনীতে মানব-মানবী, প্রকৃতি, পূজা, মানবতা সবকিছুর প্রতি প্রেম এত সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে যে, তা আমরা যে কোনো পরিবেশে, যে কোনো আনন্দ-বেদনাতেই গাইতে পারি। ভালোবাসা দিবসটাও প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, পরিবার-পরিজন সবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিন হওয়া উচিত।’

তবে ভালোবাসা দিবস উদযাপনের এই রীতিকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখেন অনিমা রায়। বলেন, ‘এই যে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আমরা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর, কোথাও খাওয়ার, একজন আরেকজনকে মনের কথা জানানোর সুযোগ পাচ্ছি এটাও তো মন্দ নয়।’

ভালোবাসা শুধু বোঝানোর জন্য নয়, মুখে বলাটাও জরুরি। তাই কাউকে অন্তরে যতই ভালোবাসুন, তার পরও মুখে একবার বলুন ‘ভালোবাসি’, দেখবেন এক অন্যরকম ভালোবাসায় দুজনার মনটাই ভরে উঠবে। বর্তমানে ভালোবাসা জানানোর হাজার মাধ্যম থাকলেও ফুল হাতে সামনাসামনি ভালোবাসার কথা জানানোর যে অকৃত্রিম আবেগ, তা এসএমএস বা ফেসবুকে নেই। আবার সকালবেলা ঘুম ভেঙেই মোবাইল স্ক্রিনে প্রিয়জনের ভালোবাসার আবেগ জড়ানো দুটো লাইন পড়লেও মনের মাঝে যে ভালো লাগা তৈরি হয়, তাও কি অস্বীকার করা যায়!

‘শুধু ভালোবাসলেই হবে না, ভালোবাসার মানুষটির প্রতি যতœবান ও শ্রদ্ধাশীলও হতে হবে। তাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তার সুখকে স্বর্গ আর দুঃখকে দুঃসহ বেদনা ভেবে তার মাঝে বিলীন হতে হবে। দুঃসময়ে তাকে সাহস দিতে হবে, সুখে-দুঃখে সব সময় তার পাশে থাকতে হবে’ বলে মনে করেন নাট্যব্যক্তিত্ব ডলি জহুর।

কোনো স্বার্থে নয়, ভালোবাসুন হৃদয়ের টানে।

ভালোবাসার শুরুতেই বোঝার চেষ্টা করুন, আপনার ভালোবাসার মানুষটির মানসিকতা। তার পছন্দ, রুচি, জীবনদর্শনকে সম্মান করতে চেষ্টা করুন। সেই সঙ্গে তাকে বিশ্বাস করুন, কারণ বিশ্বাস ছাড়া ভালোবাসা টেকে না।

উৎসবমুখর এ দিনটি উদযাপনে ঘুরে বেড়াতে পোশাকের উপস্থাপন অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুজনের মনের মিল প্রকাশ পেতে পারে পোশাকের নকশায়, রঙে। যুগলদের পোশাক মিলিয়ে পরার চল আগেও ছিল আমাদের দেশে। ভালোবাসা দিবসেও দিনের কোনো একটা সময় মেলানো পোশাক পরতে পারেন। প্রিয়তমার পোশাকের সবচেয়ে উজ্জ্বল রঙটি পছন্দ না হলে সবচেয়ে অনুজ্জ্বল রঙটির পোশাক পরতে পারেন প্রিয়তম। ভালোবাসা প্রকাশে লাল রঙের আবেদন ফুরানোর নয়। ভিন্নতা আনতে পোশাকে ফুটিতে তুলতে পারেন প্রকৃতিপ্রেম, বসন্তের রঙ-নকশাও।

ঘুরে আসতে পারেন প্রিয় কোনো জায়গা থেকে। সিনেমা, ফেস্টিভ্যাল বা খেলাও দেখতে যেতে পারেন। আজ বন্ধুরা মিলে করতে পারেন আড্ডার আয়োজন। পরস্পরের প্রতি মমতা, আন্তরিকতা, সৌহার্দ ও প্রেমের গভীরতা নিয়ে উদযাপন করতে পারেন ভালোবাসা দিবসটি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে