‘রেওয়াজ ছাড়া শিল্পী হিসেবে টিকে থাকা যায় না’

  আমান উল্লাহ

১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। ভালোবাসেন বাঙালিয়ানা খাবার। প্রিয় পোশাকের তালিকায় রয়েছ শার্ট। ভালোবাসেন ঘুরে বেড়াতে। আজকের তারার স্টাইলে সুবীর নন্দী জানিয়েছেন তার পছন্দ-অপছন্দের নানা কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেনÑ আমান উল্লাহ

সুবীর নন্দী, সংগীতশিল্পী

আরামদায়ক পোশাক

সুবীর নন্দীর প্রিয় পোশাকের তালিকায় রয়েছে শার্ট। পোশাকের ক্ষেত্রে রঙ-নকশা নয়, গুরুত্ব দেন আরামের বিষয়টিকে। প্রিয় পোশাক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পোশাক যতখানি সৌন্দর্যের জন্য, ততখানি আরামের জন্যও। আমি শার্ট পরে বেশ আরামবোধ করি। অবশ্য পূজা-পার্বণে পাঞ্জাবি পরতেই বেশি পছন্দ করি। অধিকাংশ সময় পিওর সুতি কাপড়ের শার্ট পরি। আমি ব্র্যান্ডে বিশ্বাসী নই, নিজের সঙ্গে মানানসই স্টাইলের পোশাক বানিয়ে নিই। কিনে পরলেও সেটা ব্র্যান্ড কি নন-ব্র্যান্ড সেটা দেখি না, পোশাকটি আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই কিনা সেটাই দেখি। নীল, সাদা আমার প্রিয় রঙ। এর মধ্যে সাদা রঙের শার্ট পরতে বেশি পছন্দ করি। পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে হালকা নকশার নরম সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবি ভালো লাগে।’

বাঙালিয়ানা খাবার

‘বাঙালি মানুষ, বাঙালিয়ানা খাবারটাই বেশি পছন্দ। ভর্তা, মাছের মতো খুব সাধারণ বাঙালি খাবার খেতে ভালো লাগে। নতুন নতুন উপকরণের ভর্তার স্বাদ নিতে খুব আগ্রহবোধ করি। মাছের মধ্যে বড় মাগুর মাছ ভীষণ প্রিয়’ বলেন সুবীর নন্দী। ঝালটা ভালোই খেতে পারেন, তবে মিষ্টি খাবারের বেশি ভক্ত বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে আরও জানান বেশ ভালো রাঁধেনও তিনি। সুবীর নন্দী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ব্যাংকে চাকরি করেছি, গান গেয়েছি। ব্যস্ততার মধ্যেও কখনো শখ করে, কখনো প্রয়োজনে একসময় মাঝে মাঝেই রান্না করতাম। এখন অবশ্য তা আর হয়ে ওঠে না। এখন অবশ্য আমার মেয়েজামাই মাঝেমধ্যেই আমাদের শখ করে রান্না করে খাওয়ায়। আমি ওর এই রান্নার বিষয়টা খুব উপভোগ করি। এটা আমাদের পরিবারের খুব আনন্দের একটা সময়।’

ভ্রমণপ্রিয়

নিজেকে ভ্রমণপাগল একজন মানুষ বলতে ভালোবাসেন সুবীর নন্দী। তিনি বলেন, ‘ভ্রমণ! শব্দটাই কেমন যেন আনন্দের। আমার পছন্দের যতগুলো কাজ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ঘুরে বেড়ানো। এই ছোট্ট জীবনে প্রচুর ঘুরেছি। না শুধু কাজের প্রয়োজনে নয়, ঘুরে বেড়ানোর উদ্দেশ্যেও প্রচুর ঘুরেছি, এখনো ঘুরি। নিজের দেশে একেকটি জায়গায় বহুবার গিয়েছি। এখন দেশের বাইরেই বেশি যাওয়া হয়। আমি অনেককে দেখেছি নিজের দেশ ভালোমতো না দেখেই বিদেশ দেখতে যায়। বিষয়টিতে আমি খুব অবাক হই। এটা উচিত নয়, আগে নিজের দেশ পুরোটা দেখতে হবে তারপর অন্যের দেশ দেখতে যাওয়া উচিত।’ পছন্দের ঘোরার জায়গাগুলো প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের ভেতর সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুর আমার অসম্ভব প্রিয় জায়গা। দেশের বাইরে কলকাতা যেতে ভালো লাগে। আসলে প্রত্যেকটি দেশই আলাদা আলাদা সৌন্দর্যে সুন্দর। তাই সব দেশই ঘুরতে ভালো লাগে।

প্রিয় অবসর

অবসরটাকে খুব উপভোগ করেন সুবীর নন্দী। অধিকাংশ সময় এ সময়টায় গান শোনেন, রেওয়াজ করেন, বই পড়েন। আর সুযোগ পেলেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে চলে যান। আজকের তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা রেওয়াজটাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না বলে দুঃখ প্রকাশ করে সুবীর নন্দী বলেন, ‘রেওয়াজ ছাড়া শিল্পী হিসেবে টিকে থাকা যায় না। যে যত রেওয়াজ করবে তার রাজত্ব তত বেশি।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে