বৈশাখে লোকজ নকশায় সাজুক ঘর

 

১১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঠক ঠক ঠক। রঙিন বৈশাখ কড়া নাড়ছে দরজায়। বৈশাখ প্রতিবছর ঘরের দুয়ার খুলে চলে আসে অন্দরে। তাই বাঙালির উৎসবমুখর এই দিনটিতে শুধু নিজেকেই সাজিয়ে নয়, লোকজ নকশায় সেজে উঠুক ঘরও। পরামর্শ দিয়েছেনÑ রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের কর্ণধার ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলশান নাসরিন চৌধুরী। জানাচ্ছেনÑ কেয়া আমান

বৈশাখের রঙ ফুটে ওঠে কারো পোশাকে, কারো দেয়ালে, কারো দরজায়, কখনো চাদরে কিংবা পর্দায়। রঙের এই খেলা আরও উজ্জ্বল হয় যখন নকশাটা হয় লোকজ ধাঁচের। তাই বৈশাখে বাঙালিয়ানা সাজে সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার ঘরও। বৈশাখে ঘরের সাজের শুরুটা আমরা করতে পারি বাড়ির প্রবেশদ্বার থেকেই। বৈশাখ উপলক্ষে বাড়ির সিঁড়িঘর সাজাতে পারি ছোট-বড় মাটির পটারি দিয়ে। আর তাতে রাখতে পারি দেশীয় ফুল। আঁকার হাত থাকলে সিঁড়িতে আলপনা আঁকতে পারেন। প্রবেশপথের সিঁড়ির দেয়ালে কাগজের ঘুড়ি সেঁটে দিলে সহজেই ভিন্নতা আসবে। সদর দরজায় টানিয়ে দেওয়া যেতে পারে মাটি, বেতের কারুকাজ করা আয়না, খেলনা ঢোল প্রভৃতি। শোলা কিংবা কাগজের লাল-সাদা ফুল বানিয়ে বা কিনেও স্কচটেপ দিয়ে লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে সদর দরজায়। প্রবেশপথে এ ধরনের আয়োজন বৈশাখী উৎসবে শিশুদের ভীষণ আকৃষ্ট করবে। এ থেকে তারা লোকজ সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে।

বেলি ফুলের সুবাসটাই বৈশাখী উৎসবের আমেজ এনে দেয়। ঘরে বেলি ফুলের সুগন্ধি ছড়িয়ে দিতে এদিন বসার ঘরের কর্নার টেবিলে একটি মাটির পাত্রে বেলি ফুল রেখে তার মধ্যে জ্বালিয়ে দিন মোমবাতি। বসার ঘরে কারুকাজ করা মাটির পটারিতে রাখতে পারেন দেশীয় ফুল। একটা কর্নারে থাকতে পারে ইনডোর প্লান্ট। মুখোশ, কাঠের পুতুল, লোকজ নকশার ওয়ালমেট, টেরাকোটা প্রভৃতি দিয়ে সাজাতে পারেন বসার ঘরের দেয়াল। মেঝেতে বসে আড্ডার আয়োজন এদিন ভিন্নরকম আনন্দ দেবে। আর সেই আয়োজনে বৈশাখী রঙ ছড়াতে ড্রইং রুমের কার্পেটটি সরিয়ে এদিন পেতে দিতে পারেন শতরঞ্জি কিংবা শীলতপাটি। আর তার ওপর বসিয়ে দিন কয়েকটি বড় কুশন। পর্দা টানানো যেতে পারে গ্রামীণ চেক কিংবা লাল-সাদা ব্লকের। সম্ভব হলে পর্দার সঙ্গে মিলিয়ে সোফার কুশনেও ছড়িয়ে দিতে পারেন লাল-সাদা।

খাবার ঘরে দেয়ালে, টেবিলে, খাবারে নানাভাবে বৈশাখী আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। নববর্ষে খাবার টেবিলটিকে সাজিয়ে তুলতে পারেন দেশীয় উপকরণ দিয়ে। টেবিল রানার এদিন ব্যবহার করতে পারেন শীতলপাটি, বেত, মনিপুরী নকশার কাপড় প্রভৃতি। বাঁশের তৈরি ফুলদানিতে রাখতে পারেন ছোট সাইজের কিছু ফুল। দেশীয় খাবার পরিবেশনে মাটির ক্রোকারিজ বর্ষবরণে খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। মাটির তৈরি ছোট ছোট বাটিতে খই, মুড়ি, বাতাসা, মুড়ালি, নিমকি, নকশি পিঠা প্রভৃতি রেখে দিলে দেখতেও ভালো লাগবে। মাটির প্লেট, বাটিতে কলাপাতা ছোট ছোট করে কেটে তার ভেতর খাবার পরিবেশন করলে ক্রোকারিজগুলো নষ্ট হবে না। আর এই আয়োজনটাও যে কারো মন ছুঁয়ে যাবে। বাঁশ ও বেতের ট্রে ব্যবহারও বৈশাখী আপ্যায়নে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করবে। রান্নাঘরে পাটের ছিকায় ঝুলিয়ে রাখতে পারেন শখের হাঁড়ি, সরা প্রভৃতি।

শোয়ার ঘরে বৈশাখী আয়োজনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনে বেড কভার এবং পর্দা। পর্দা লাল রাখলে বিছানার চাদর সাদা বা অফহোয়াইট ভালো লাগবে। সাদা চাদরে বসিয়ে দিতে পারেন লাল কুশন। বসার ঘরে ব্লকের পর্দা দিলে শোয়ার ঘরে একরঙা লাল-সাদা পর্দা ভিন্নতা আনবে। পর্দা এবং পর্দার ঝালরে লাল-সাদার বিপরীত রঙও সৌন্দর্য ছড়াবে। নকশিকাঁথার বিছানার চাদর ছাড়াও এদিনের জন্য লাল-সাদা কাপড় কিনে চারপাশ কুঁচি দিয়ে বিছানার চাদর বানিয়ে নিতে পারেন। সাধারণে অসাধারণ লাগবে। বারান্দার দেয়ালে মাটির টেরাকোটা, ঘণ্টা, কারুকাজ করা ফুলের টপ প্রভৃতিতেও এদিন ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে লোকজ নকশা।

বৈশাখের আগে ঘর সাজাতে খুব সহজেই দেশীয় বিভিন্ন গৃহসজ্জার উপকরণ একসঙ্গে পেতে চলে যেতে পারেন দেশীয় ফ্যাশন হাউস যাত্রায়। যাত্রার প্রায় সব ধরনের পণ্যই লোকজ ধাঁচের করা। এ ছাড়া সানরাইজ প্লাজা, উত্তরার দুর্লভ, আড়ং, পিরান, আসাদ গেটের আইডিয়াস এবং কার্জন হলের বিপরীতেও পাওয়া যাবে গৃহসজ্জার লোকজ অনুষঙ্গ। ঘরে বৈশাখের জন্য হ্যান্ডপেইন্ট করাতে যোগাযোগ করতে পারেন যাত্রার ডিজাইনার কিংবা চারুকলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে