শিশুর বৈশাখ

  রওনক বিথী

১১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋতুরাজ বসন্তের উদাস হাওয়া ইতোমধ্যে স্বাগত জানিয়েছে বৈশাখের ঝড়োহাওয়াকে। চলছে বৈশাখকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। বৈশাখী উৎসবে বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও উৎসাহের কোনো কমতি থাকে না। নতুন পোশাকে, নতুন সাজে বর্ণিল বৈশাখে তারাও যোগ দেয়। শিশুর বৈশাখী আয়োজন নিয়ে লিখেছেনÑ রওনক বিথী

আর মাত্র কয়েকটা দিন পরই বৈশাখী উৎসব। নতুন পোশাক পরে, ঢাকঢোলের তালে শিশুরাও এ দিন আনন্দ উদযাপনে মেতে উঠবে। এ আনন্দ উদযাপনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে পোশাক। শিশু বলেই যেমন খুশি তেমন নয়, শিশুদের জন্যও এখন তৈরি হচ্ছে উৎসবভিত্তিক পোশাক। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, সারারা, ফ্রক, স্কার্ট, টপস, কুচি শাড়ি, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, প্যান্ট, আফগানি প্যান্ট-বৈশাখের ভাবনা শিশুদের সব পোশাকেই। শিশুর বৈশাখী পোশাকের মোটিফ হিসেবে এ বছর ব্যবহার হয়েছে ঢোল, তবলা, পাখা, কলস, পাখি, ঘণ্টা, জীবজন্তু, টমটম, অ্যাকোয়া ফিশ, ঘুড়িসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা কিছু। বিভিন্ন বর্ণ এবং লেখাযুক্ত থিমও উঠে এসেছে বৈশাখী পোশাকে। পাশাপাশি জ্যামিতিক এবং ফ্লোরাল মোটিফভিত্তিক কাজও করা হয়েছে।

নববর্ষে প্রতিবারই শিশুদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা হয় বলে জানান রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস। বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি দেশীয় সংস্কৃতির মধ্যে থেকেও শিশুদের বৈশাখী পোশাকে নতুনত্ব আনার। গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে শিশুদের পোশাকে লেয়ারের ব্যবহার কম রাখা হয়েছে। আরামদায়ক সুতি ও লিলেন ফেব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে। নকশাতেও খুব বেশি ভারী কাজ রাখা হয়নি। শীতলপাটি, মঙ্গল শোভাযাত্রার খ-চিত্র, ফুল-লতাপাতাসহ বিভিন্ন নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। রঙের ক্ষেত্রে লাল-সাদা তো থাকছেই, এর সঙ্গে শিশুদের বর্ণিল রঙের প্রতি আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়ে নীল, হলুদ, কমলা, সবুজসহ বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা হয়েছে।

আরামদায়ক করে তুলতে খুব বেশি ভারী কাজের পরিবর্তে শিশুদের বৈশাখের পোশাকে স্ক্রিন প্রিন্ট, সাধারণ ছাপা, ব্লক, হ্যান্ড অ্যাপ্লিক, সুতা ও এমব্রয়ডারির হালকা কাজ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কারচুপি কাজের মধ্যে সুতা, চুমকি, পাথর, পুঁতি বসানো ভারী কাজের পোশাকও পাওয়া যাবে। তবে পহেলা বৈশাখে গরম বেশি থাকায় এবং ঘোরার জায়গাগুলোতে প্রচুর ভিড় থাকায় এদিন শিশুদের যতটা সম্ভব হালকা কাজের পাতলা আরামদায়ক পোশাক পরানো উচিত। পোশাকে লেয়ার বা আস্তর যাতে খুব বেশি না থাকে সেদিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দিলেন ফ্যাশন হাউস নিত্য উপহারের স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান। তিনি বলেন, সুতি, লিলেন, ভিসকস, ভয়েল কাপড় শিশুর ত্বকের জন্য আরামদায়ক। শাড়ি পরাতে চাইলে তাঁত বা সুতি শাড়ি বাছাই করা ভালো। ছেলেদের জন্য নরম কাপড়ের শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া আরামদায়ক হবে।

কিছুদিন আগেও বিশেষ উপলক্ষে কিশোরীরা হয় ছোটদের পোশাকের নকশাটাই একটু বড়র মধ্যে বানিয়ে নিত বা বড়দের পোশাকের নকশা এবং প্যাটার্নটাই ছোট করে নিত। তবে এখন আর এর প্রয়োজন নেই বললেই চলে। ফ্যাশন হাউসগুলো এখন শুধু কিশোরীদের জন্যই আলাদাভাবে পোশাকের নকশা এবং প্যাটার্ন তৈরি করছেÑ বলছিলেন ডিজাইনার সৌমিক দাস। জানালেন গরমের কথা মাথায় রেখে যে পোশাকে

স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয় সেটাই পরা উচিত কিশোরীদের। পহেলা বৈশাখে পালাজ্জো প্যান্ট, ধুতি সালোয়ার কিশোরীদের বেশ মানাবে। সঙ্গে আধুনিক ছাঁটের টপস পরা যেতে পারে। শাড়ি পরতে চাইলে তাঁত কিংবা সুতি শাড়ির সঙ্গে টপস কাটের ব্লাউজে কিশোরীরা দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে বয়সোপযোগী ফ্যাশনের সুন্দর সমন্বয় ঘটাতে পারে।

লাল-সাদা পোশাকের সংগ্রহ তো আছেই, শিশুদের বৈশাখী পোশাক আরও নানা রঙে বর্ণিল। লাল-সাদা ছাড়াও এ বছর নীল, কচিপাতা, গাঢ় সবুজ, হলুদ রঙ প্রাধান্য পেয়েছে শিশুদের বৈশাখী পোশাকে। লাল-সাদার মধ্যেও আছে শেডের ভিন্নতা। যেমন চাঁপা সাদা, ঘিয়া, টকটকে লাল, মেরুন, লালের সঙ্গে সোনালি, কমলার ছোঁয়া ইত্যাদি।

পোশাকের পাশাপাশি শিশুর জন্য অনুষঙ্গও বেছে নিন আরামদায়ক। শিশু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে এমন ধরনের জুতা পরানো উচিত। একটু নরম দেখে জুতা কিনুন। গরম আর ভিড়ের মধ্যে ঘোরাঘুরিতে শিশুদের খুব বেশি গহনাগাঁটি না পরানোই ভালো। চুলটা একটু উঁচু করে পনিটেল করে সুন্দর একটা লাল কিংবা সাদা ব্যান্ড লাগিয়ে দিলে দেখতেও ভালো লাগবে। আর শিশুও স্বস্তিবোধ করবে।

শৈশব, অঞ্জন’স, নিত্য উপহার, মায়াসির, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, বাংলার মেলা, মেঘ, বিবিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশীয় ফ্যাশন হাউসে শিশুদের বৈশাখী পোশাকে লোকজ মোটিফসহ ব্যবহার করা হয়েছে প্রকৃতি, ফুল এবং লতাপাতা। তবে নকশা এবং প্যাটার্নভেদে পার্থক্য রয়েছে দরদামে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফ্যাশন হাউস শৈশবে শিশুদের ফ্রক ও টপস ৮০০-২০০০ টাকা, সালোয়ার-কামিজ ১০০০-২০০০ টাকা, শার্ট ৯০০-১২০০ টাকা। বিশ্বরঙে সালোয়ার-কামিজ ৯০০-২০০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৮০০-১২০০ টাকা, টি-শার্ট ২৫০-৬০০ টাকা। রঙ বাংলাদেশে টপস ৩০০-৬০০ টাকা, ফ্রক ৫০০-১৫০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৮০০-১০০০ টাকা। অঞ্জন’সে শিশুদের ফ্রক ৬০০-১৮০০ টাকা, ফতুয়া ৩০০-৫০০ টাকা। দেশাল, কে-ক্রাফট এবং বাংলার মেলায় ছোটদের শাড়ি ৮০০-১৫০০ টাকা, ঘাগড়া, টপস ও ফ্রক ৯৫০-১৮০০ টাকা।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে