মা তোমায় ভালোবাসি

  কেয়া আমান

০৯ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ মে ২০১৮, ০৮:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘দিবানিশি ভাবনা

কিসে ক্লেশ পাব না,

কিসে সে মানুষ হব, বড় হব কিসে;

বুক ভরে ওঠে মা’র

ছেলেরি গরবে তাঁর,

সব দুখ সুখ হয় মায়ের আশিসে।’

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম মায়ের চিরায়ত রূপ এভাবেই তুলে ধরেছেন তার ‘মা’ কবিতায়। আসছে মা দিবস। পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় দিবসটি। এ বছর ১৩ মে বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সব মাকে শ্রদ্ধা জানাতে আমাদের এ আয়োজন। লিখেছেনÑ কেয়া আমান

হ প্রথম পৃষ্ঠার পর

‘মা’Ñ ছোট্ট একটা শব্দ, কিন্তু কি বিশাল তার পরিধি! সৃষ্টির সেই আদিলগ্ন থেকে মধুর এ শব্দটা শুধু মমতার নয়, ক্ষমতারও যেন সর্বোচ্চ আধার। মায়ের অনুগ্রহ ছাড়া কোনো প্রাণীরই প্রাণ ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি আমাদের গর্ভধারিণী, জননী।

পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি একটি শব্দ হচ্ছে মা। মায়ের কাছে একটি সন্তান যেমন তার জগৎ, তেমনি সন্তানের কাছে তার মা-ই সব। আর এ জন্য মা ও সন্তানের মধ্যকার সম্পর্কটি সবচেয়ে মধুর। একটি সন্তান যখন ঠিকমতো খেতে পারে না, কথা বলতে পারে না, এমনকি নিজের কাজও নিজে করতে পারে না, তখন তাকে আগলে রাখেন মা। তার মমতার চাদরের উষ্ণতায় তাকে বড় করে তোলেন। সন্তানের সব আবদার মা হাসিমুখে মেনে নেন।

নাট্যব্যক্তিত্ব ডলি জহুর বলেন, ‘আমার ছেলে দেশের বাইরে থাকে। সামনাসামনি ওর মা ডাক শোনার সুযোগ হয় না বহুদিন। কিন্তু মা ডাক শোনার সেই স্বাদ আমি অনুভব করি ইউনিটের ছেলেদের কাছ থেকে। আমার শুটিংয়ের ছেলেরা আমাকে মা ডাকে। আমিও ওদের ছেলের মতোই মায়া করি। ওদের জন্য প্রায়ই নিজ হাতে রান্না করে নিয়ে যাই। বাসায় দাওয়াত করি। মা সন্তানকে ভালোবাসার জন্য, সন্তান মাকে ভালোবাসার জন্য কোনো দিবস লাগে না। মায়ের ভালোবাসা সীমাহীন, অনন্তকালের জন্য। মৃত্যুর পরও মায়ের দোয়া সন্তানের সঙ্গে থাকে। তবে মা দিবসে সন্তানরা যে মায়ের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করে, সেটাও কিন্তু মন্দ নয়। দিনটিতে প্রত্যেক সন্তান যেন তার মাকে সারা জীবন সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার সংকল্প করেÑ এটাই প্রত্যাশ রইল।’

আমরা হাসলে মা হাসেন, আমাদের কান্না মাকে কাঁদায়, ভয় পেলেও মা-ই আগলে রাখেন বুকে। সন্তানের জন্য মা সব ত্যাগ স্বীকার করেন, সব কষ্ট সহ্য করেন হাসিমুখে। মা আমাদের মুখে তুলে খাইয়ে দেন, প্রিয় জিনিসগুলো মনে করে কিনে দেন। শত কষ্টের মাঝেও মা তার সন্তানের গায়ে একফোঁটা আঁচড় লাগতেও দেয় না। সন্তানের হাসি যেন মায়ের হাসি হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান বড় হয়ে মাকে অবহেলা করে। তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। অনেক ক্ষেত্রে মায়ের শেষ অবস্থান হয় বৃদ্ধাশ্রম। তাও যেন অভিশাপ দিতে নারাজ এই মা। যেন মমতার এই মূর্তি তার ভালোবাসা দ্যুতি ছড়াতে পারলেই তৃপ্ত। সন্তানের ভালোবাসাতেই বেঁচে থাকে মা, মামতা আর মাতৃত্ব।

অথচ এ মানুষটি খেয়েছেন কিনা সেই খোঁজ অনেক সন্তানই রাখে না। মায়ের প্রিয় খাবার কোনটা, প্রিয় রঙ কীÑ সে খোঁজও জানে খুব কম সন্তান। তবু মা কখনো দীর্ঘশ্বাস ফেলেন না। কখনো আমাদের কাছে কিছুই চান না।

আর কদিন পরই বিশ্ব মা দিবস। মায়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো দিবস দিয়ে পূরণ করা যায় না। মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিদিনের। তবু এই ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পালন করা হয় বিশ্ব মা দিবস। যে দিনটি আমরা সব ব্যস্ততা দূরে ঠেলে উৎসর্গ করতে পারি শুধুই মায়ের জন্য।

ভাবছেন মা দিবসে কী দেওয়া যায় মাকে? এদিন মায়ের হাতে তুলে দিতে পারেন তার প্রিয় রঙের শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ। মা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পাওয়া যাচ্ছে নজরকাড়া বিভিন্ন নকশার আরামদায়ক কাপড়ের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ। কে-ক্র্যাফটের প্রধান নির্বাহী ও ডিজাইনার শাহনাজ খান জানান, মা দিবস উপলক্ষে মায়েদের জন্য আরামদায়ক তাঁত, সুতির পাশাপাশি সিল্ক, মসলিন শাড়ি পাওয়া যাবে। সুতি ও অ্যান্ডির কম্বিনেশনে শাড়ি রয়েছে। যারা সালোয়ার-কামিজ পরতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য রয়েছে হালকা রঙ নকশার ব্লক, সুতা, এমব্রয়ডারি সালোয়ার-কামিজ। হাইনেক, ভি নেক, রাউন্ড নেক গলার কামিজের কাটিংয়ে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। উপহারের তালিকায় থাকতে পারে অর্নামেন্টস, পার্স, কফি মগ, জুতা, ডায়েরিসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন সামগ্রী।

এ ছাড়া মাকে চমকে দিতে তার প্রিয় খাবারটি নিজের হাতে রান্না করে পরিবেশন করতে পারেন। আদতে অপরিশোধ্য মাতৃঋণের বদলে মাকে ক্ষণিকের আনন্দ দিয়ে খুশি হয় সন্তানরা। যাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয় তারা মা দিবস উপলক্ষে দু-এক দিনের জন্য কাজকে ছুটি জানিয়ে ছুটে যেতে পারেন মায়ের বুকে। এই ছুটে যাওয়াই হবে মায়ের জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তবে বিশ্ব মা দিবসে সেলফোনে মায়ের সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন। বলে দিন সংকোচ জীবনে কোনোদিন হয়নি বলা যে কথাটা, সেই প্রিয় কথাগুলাÑ ‘মা তোমায় ভালোবাসি, বড় বেশি ভালোবাসি।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে