• অারও

রোজায় সুস্থ থাকুন

  তাপসী রহমান

১৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোজা সংযমের মাস হলেও এ মাসে ইফতারির সংযমের রশি টানা যেন কষ্টকর হয়ে যায় ভোজনরসিক বাঙালির পক্ষে। ঐতিহ্যগতভাবে বহুকাল ধরে বাঙালি ইফতারি সারেন নানারকম মুখরোচক ভাজা খাবার দিয়ে। সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারিতে বাড়তি ভাজা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। এ ছাড়া অ্যাসিডিটির সমস্যা, মুটিয়ে যাওয়া, ত্বকের সমস্যাসহ নানারকম উপসর্গের উৎস হলো তেলে ভাজা ইফতার। এতসব তথ্য জানা থাকার পরও ইফতারিতে প্রায় প্রতিদিন এসব খাবার থাকছে টেবিলে। একটু খাবারসচেতন হলেই রোজায় সুস্থ ও সুন্দর থাকা সম্ভব। এই রোজায় কেমন হবে আপনার ডায়েট, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী।

প্রতিদিন ইফতার

রোজা রাখার ফলে নির্দিষ্ট একটা সময় শরীর খাবার ও এর পুষ্টি উপাদান থেকে বিরত থাকে। এই সময়ে শরীরের অর্গানগুলো খাবার ছাড়া ভিন্নভাবে কাজ করতে থাকে। ইফতারের প্রথম খাবার গ্রহণের পর অর্গানগুলো নিজস্ব গতিতে কাজ শুরু করে। ফলে এ সময় শরীরবৃত্তীয় কাজ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য পরিমাণমতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। তামান্না চৌধুরীর মতে, প্রথমেই রোজা ভাঙতে হবে সাধারণ পানি দিয়ে, এরপর একটা খেজুর খেতে পারেন। এরপর ডাবের পানি, ইসবগুল, আখের গুড়ের শরবত খেতে পারেন। তবে শরবত যে ধরনেরই খান না কেন, তা যেন চিনি ছাড়া হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় বাড়ির শিশুরা চিনি ছাড়া শরবত খেতে চায় না। সে ক্ষেত্রে ব্রাউন সুগার, মধু অথবা তালমিছরি মিশিয়ে শরবত হালকা মিষ্টি করা যেতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর চিনিযুক্ত শরবত গ্রহণের ফলে শরীরের নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সাদা চিনি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। গ্রীষ্মের এ সময়ে নানারকম মৌসুমী ফল পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এসব ফলের জুস রাখতে পারেন ইফতারিতে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা জুস তৈরির সময় একটু পানি মিশিয়ে নেবেন। তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস, বেল, মালটা, পেঁপে, নাশপাতি ইত্যাদি পানিজাতীয় ফল প্রতিদিনের ইফতারিতে রাখার পরামর্শ দিলেন এই পুষ্টিবিদ। ইফতারিতে ডালজাতীয় খাবার যেন কম থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রতিদিনের ইফতারির একটা তালিকা করে নেওয়া যেতে পারে। যেদিন ছোলা থাকে, সেদিন পেয়াজু আর ঘুগনি না রাখাই ভালো। বেগুনিটা ময়দা ও ডিমের সাদা অংশ বিট করে মিশিয়ে ভাজলে শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হবে। ইফতারির খাবার যেন খুব বেশি ভারী না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বেশি ভারী খাবার খেলে ক্লান্তি চলে আসতে পারে, ফলে এর পরের কার্যক্রম যেমন নামাজ ও অন্যান্য কাজে সমস্যা দেখা দেবে।

রাতের খাবার

অনেকেই রোজা রেখে রাতের খাবার খেতে চান না। এটা মোটেও উচিত নয় বলে মনে করেন তামান্না চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাভাবিক দিনগুলোর মতো রোজার দিনেও অবশ্যই রাতে ডিনার করতে হবে। রাতের খাবারে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেড থাকতে হবে। রাতে একটি রুটি, এক বাটি সবজি, ওটস, আম, চিঁড়া, দুধ মিলিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এসব খেতে না চাইলে সবজি ও চিকেন দিয়ে ঘরে তৈরি এক বাটি স্যুপ খেতে পারেন। এতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল পাবে। রাতে খাবারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। রোজায় ভারী এক্সারসাইজ না করা ভালো বলে মনে করেন এই পুষ্টিবিদ। তিনি বলেন, পরিমিত খাবার আর নামাজই হলো রোজায় সবচেয়ে বড় এক্সারসাইজ।

স্বাস্থ্যকর সেহরি

অনেকেই ঘুম ভেঙে উঠে সেহরি করতে চান না বা তাড়াতাড়ি সেহরি করেন। এর কোনোটাই সঠিক নয় বলে মনে করেন তামান্না চৌধুরী। তিনি বলেন, সারা দিন রোজা রাখার এনার্জি আসে সেহরি থেকে। তাই সেহেরি করতে হবে ভালোভাবে। সেহরিতে দেড় থেকে দুই কাপ ভাত, এক টুকরো মাছ, এক টুকরো মুরগির মাংস রাখতে পারেন। লাউ দিয়ে মাছ আর পেঁপে দিয়ে মুরগির মাংস রান্না করলে প্রোটিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিনও পাওয়া যাবে। অনেকে আবার ডিম দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করেন। চাইলে সেহরিতে ডিম রাখা যেতে পারে। তবে সেহরির ভাতটা রান্না করতে হবে একটু নরম করে। তা হলে সহজে খাবার পরিপাক হবে। সেহরি শেষে একটা খেজুর খেতে পারেন। ইসবগুল ও তোকমার এক গ্লাস শরবত খেলে পেটের গ্যাস ও কোষ্টকাঠিন্য থেকে আরাম পাওয়া যাবে।

খেয়াল রাখুন

হ রোজায় যে কোনো ধরনের বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

হ ইফতারির পর বেচে যাওয়া ইফতার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

হ প্রতিদিন একই তেলে ইফতার ভাজা ঠিক নয়। ডুবো তেলে না ভেজে অল্প তেলে ভেজে একসঙ্গে মাখিয়ে পরিবারের সবাই ইফতার গ্রহণ করলে ভাজা খাবার কম খাওয়া হবে।

হ ইফতারে শাকের বড়া ও স্যুপেও সবজির সঙ্গে শাক দিতে পারেন।

হ এক জাতীয় খাবার না খেয়ে রোজার শুরুতেই একটা ডায়েট চার্ট তৈরি করে নিতে পারেন।

হ যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা রোজায় প্রতিদিন ব্লাড সুগার চেক করে নিতে পারেন। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে