• অারও

শিশুর সৃজনশীলতা বাড়াতে

  রওনক বিথী

১৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিটি শিশুই কমবেশি সৃজনশীল ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। এরপর সে যতই বড় হতে থাকে, ততই আশপাশের পরিবেশ এবং মানুষ শিশুর সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। ফলে কোনো শিশু বড় হয়ে সৃজনশীল হয়ে ওঠে, আবার কোনো শিশুর সৃজনশীলতা বড় হতে হতে ম্লান হয়ে যায়। অথচ একটু সচেতন হলেই সন্তানকে গড়ে তোলা যায় সৃজনশীলভাবে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গাজী হোসনে আরা বলেন, স্কুল ও বাসায় আমরা যেভাবে শিশুদের বড় করি, সেটি মূলত শিশুর জন্মগত সৃজনশীলতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। তিন-চার বছর বয়স হতে না হতেই শিশুকে বইয়ের বোঝা বইতে হয়। স্কুলের গৎবাঁধা নিয়ম, হোমওয়ার্ক ও পরীক্ষার চাপে পাঁচ-ছয় বছর বয়সেই শিশুরা শৈশব হারাতে বসে। বেশিরভাগ মা-বাবা শিশুর সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেন না। তারা শিশুর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এতে শিশুর সৃজনশীলতা অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়। অথচ মা-বাবার সঠিক পরিচর্যা এবং একটু সচেতনতার মাধ্যমে শিশু ছোটবেলা থেকেই হয়ে উঠতে পারে সৃজনশীল।

শিশুর ছোটখাটো কাজগুলো তাকেই করতে দিনÑ

শিশুর দৈনন্দিন ছোটখাটো কাজগুলো তাকেই করতে দিন। এতে করে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। যেমনÑ দুপুর অথবা রাতের খাবারে কী খাবে, ঈদে কী রকম জামা কিনবে, সাপ্তাহিক ছুটিতে কোথায় বেড়াতে যাবে ইত্যাদি। এর ফলে শিশুরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চা এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।

সৃজনশীল অনুষঙ্গ কিনে দিন

শিশুকে সৃজনশীল খেলনা যেমনÑ বিভিন্ন ধরনের পাজল গেমস, রঙ পেন্সিল, লেগো সেট, ক্র্যাফটের জিনিসপত্র, গল্পের বই ইত্যাদি কিনে দিন। এতে করে তাদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটবে। তারা নিজে নিজে বিভিন্ন জিনিস বানাবে, পড়বে এবং ভাবতে শিখবে। এছাড়া শিশুদের খোলা মাঠে দৌড়-ঝাঁপ করতে দিন। এটা শিশুর শরীর ও মনের জন্য ভালো।

সাধারণ জিনিসের অসাধারণ ব্যবহার

সাধারণ এবং চোখের সামনের জিনিসগুলোর নানারকম ভিন্ন ধরনের ব্যবহার আলোচনা করতে পারেন শিশুদের সঙ্গে। যেমনÑ শক্ত কার্ডবোর্ড দিয়ে পুতুলের ঘর বানানো, প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে গাছের টব অথবা পেন হোল্ডার বানানো ইত্যাদি বিষয় শিশুর সঙ্গে আলাচনা করুন। শিশুরা নিজ থেকে কিছু বানালে তার প্রশংসা করতে হবে। তাকে বাহবা দিন যাতে সে এ রকম আরও কিছু তৈরি করতে আগ্রহী হয়।

সৃজনশীলতা নিয়ে কথা বলুন

শিশুদের সঙ্গে সৃজনশীলতা নিয়ে আলোচনা করুন। তারা কখন তাদের ভালো আইডিয়াগুলো পেয়ে থাকে অথবা কী করলে তারা আনন্দ পায়Ñ এ রকম বিষয়গুলো আলোচনা করে সেই বিষয়গুলো যাতে বেশি বেশি হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

শিশুর সঙ্গে খেলা করুন, গল্প করুন

শিশুর বয়স দু-চার বছর হলে প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় হলেও স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে ভাগাভাগি করে শিশুরর সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। তার সঙ্গে খেলাধুলা করুন, গল্প করুন, গল্পের বই পড়ে শোনান। এতে করে শিশুর কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

একই সঙ্গে আপনার এবং শিশুর মধ্যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হবে।

শিশুর পছন্দকে অনুপ্রেরণা দিন

অনেকেই ভাবেন, আমার সন্তানের সৃজনশীলতা নেই। সে কার্টুন দেখা আর দুষ্টুমি করতেই পছন্দ করে। এ ক্ষেত্রে মা-বাবা চাইলেই শিশুকে সৃজনশীল কোনো আগ্রহী করতে পারেন। সব শিশুরই একটা না একটা ভালো লাগার জায়গা থাকে। মা-বাবার জায়গাটা খুঁজে বের করতে হবে। আপনার সন্তানের পছন্দ জেনেই তাকে সৃজনশীল হিসেবে গুরুত্ব দিন।

নিজেই হন রোল মডেল

শিশুরা বড়দের দেখেই শেখে। শিশুকে সৃজনশীল করে তুলতে চাইলে আগে মা-বাবার সৃজনশীল হতে হবে, নয়তো সৃজনশীতার প্রতি আগ্রহী থাকতে হবে। তবেই শিশু মা-বাবার দেখাদেখি সৃজনশীল হবে।

স্কুলেরও ভূমিকা রয়েছে

শিশুকে সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে স্কুলের বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্কুলে ভর্তির সময় খেয়াল রাখুন কোন স্কুলগুলো শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির দিকে কিছুটা হলেও মনোযোগ দেয়। যেসব স্কুল কেবল শিশুদের রেজাল্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেসব স্কুল পরিহার করতে চেষ্টা করুন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে