বর্ষাবিলাস

  কেয়া আমান

০৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাতাসে ভেসে আসছে কদম, কেয়া, কামিনী, বেলি, বকুলের গন্ধ। প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য শুধু উপভোগ নয়, জীবনধারায় মুখরিত বর্ষার পরিবর্তনকে ঠাঁই দিয়ে মেতে থাকতে পারেন বর্ষাবিলাসেও। বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ কেয়া আমান

ঝুম বৃষ্টিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। বারান্দায় চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে আনমনা হয়ে যাচ্ছেন আপনিও। বৃষ্টি এমনই। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ হৃদয়কে প্রেমার্দ্র করে তুলবেই। কবি লিখেছেনÑ

‘এমন দিনে তারে বলা যায়/এমন ঘনঘোর বরিষায়/এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরোঝরে’

যদিও শহুরে জীবনে আকাশছোঁয়া ভবনের ভিড়ে বর্ষার আগমন তেমন চোখে পড়ে না। শহুরে বর্ষা মানে বৃষ্টিতে রাস্তায় জমে থাকা কাদাপানি আর যানজটে স্থবির জনজীবন। তার পরও শহুরে মানুষের মন কিন্তু ঠিকই আর্দ্র হয়ে ওঠে বর্ষার নবজলধারায়। বর্ষা যেমন প্রকৃতিকে সজীব করে তোলে, তেমনি জীবনকেও করে তোলে উৎসবমুখর। তাই বর্ষাকে বিড়ম্বনা নয়, ছোট ছোট প্রস্তুতি আর আয়োজনে উপভোগ করতে পারেন উৎসব হিসেবে।

বর্ষণমুখর প্রকৃতি মুগ্ধ করলেও ঘরে বসে বর্ষাযাপন করার সুযোগ কজনের ভাগ্যে জোটে। প্রয়োজনের তাগিদে বর্ষাকে সঙ্গী করেই যেতে হয় ঘরের বাইরে। তাই বলে বর্ষার দিনে সুন্দর জামাকাপড় পরবেন না, তা কি হয়! এ সময় বর্ষা উপযোগী সাজপোশাকে অনায়াসে যেতে পারেন ঘরের বাইরে। ফ্যাশন ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, বর্ষায় প্রকৃতির যে মোহময় রূপ ফুটে ওঠে সেটা তুলে ধরতে পারেন বর্ষার পোশাকে। বর্ষায় পোশাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে লতাপাতা, ফুল আর প্রকৃতি। বর্ষার শাড়ির আলাদা আবেদন রয়েছে। এ সময় শখের বশেও অনেকে শাড়ি পরেন। শখের শাড়ি কিংবা নিত্যদিনের শাড়িতে বেছে নিতে পারেন প্রকৃতির রঙনকশা। সালোয়ার-কামিজেও থাকতে পারে এ ধরনের নকশা। সুতি আরামদায়ক হলেও বৃষ্টিবাদলায় সুবিধাজনক হবে শিফন, জর্জেট, সিল্কের পোশাক। কারণ এ ধরনের কাপড়ে কাদাপানি লাগলেও চট করে শুকিয়ে যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভালো লাগবে সিল্ক, হাফসিল্ক ধরনের শাড়ি। শাড়ির সঙ্গে হাতাকাটা অথবা ছোট হাতার ব্লাউজ স্টাইলিশ এবং আরামদায়ক হবে। অন্য পোশাক পরতে চাইলে মানাবে জর্জেটের টপস, কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ প্রভৃতি।

পোশাক গায়ে জড়িয়ে অনুভব করতে পারেন ঋতুটাকেও। একটা সময় ছিল যখন বর্ষার পোশাক মানেই নীল রঙকে বোঝানো হতো। এখন নীলের পাশাপাশি সবুজ, কমলা, ধূসর রঙও দেখা যায় পোশাকে। প্রকৃতি থেকে পোশাকের রঙ বেছে নেন কে-ক্র্যাফটের ডিজাইনার শাহনাজ খান। বলেন, ‘একেক ঋতুতে প্রকৃতিতে একেক রঙ দেখা দেয়। নীল, সবুজ, ধূসরসহ বর্ষার প্রকৃতির বিভিন্ন রঙের হালকা এবং গাঢ় শেডের সমন্বয়ে পোশাক তৈরি করা হয়েছে এ বছর।’ বর্ষার প্রকৃতির নানারঙে সাজতে পারেন আপনিও।

সাজতে পারেন বর্ষার সাজেও। তবে রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বর্ষায় পানি নিরোধক সাজ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পোশাকের মতো জুতা, ব্যাগও হওয়া প্রয়োজন পানি নিরোধক। তা হলে আর চলতে ফিরতে বর্ষার বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। আফরোজা পারভীন বলেন, ওয়াটার প্রুফ প্রসাধন সামগ্রী রাখুন বর্ষার সাজে। বেইজ মেকআপের ক্ষেত্রে ন্যাচারাল লুক বেছে নিন। ভারী মেকআপের পরিবর্তে শুধু ফেসপাউডার দিয়ে বেইজ মেকআপ করলে ভালো লাগবে। লাইট টোন শ্যাডো এবং ব্লাশন দিন। ওয়াটার প্রুফ মাশকারা লাগাতে পারেন। কাজল এবং মাশকারা এখন ফ্যাশনে তেমন চলছে না, তাই এ দুটো এড়িয়ে যেতে পারেন। সবশেষে পছন্দমতো রঙের লিপস্টিক লাগিয়ে নিন। ঘন নীল বরষায় সাজতে পারেন নীল সাজেও। এমন সাজে নীল পোশাকের সঙ্গে লাগিয়ে নিন নীল কাজল, আইলাইনার আর একটা নীল টিপ। এ সময় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফুল বিক্রেতা শিশুর হাতের বেলি, কদম যেন শহরজুড়ে ছড়িয়ে দেয় বর্ষার বার্তা। বর্ষার এই ফুল জড়িয়ে নিতে পারেন আপনার চুলেও। খোলা কিংবা বাঁধা যে কোনো চুলের সাজেই ফুল আনবে বর্ষার আমেজ। হাতে কিংবা মাথায় শুধু বেলি ফুলের মালা পেঁচিয়েও হয়ে উঠতে পারেন নজরকাড়া।

সাজপোশাকে বর্ষার ছোঁয়া আনার পাশাপাশি ঘরের কোণেও বর্ষাযাপনের আয়োজন করতে পারেন। এই ঋতুতে দরজার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিন উইন্ড চাইম। ঝড়বাতাসে উইন্ড চাইমের শব্দ বাড়িতে আনবে বর্ষার আমেজ। বর্ষায় জানালার ধারে লতানো গাছ লাগিয়ে দিতে পারেন। বারান্দার ছোট ফুলবাগানে কিংবা জানালার সামনে দুটি চেয়ার বসিয়ে দিন। রিমঝিম বৃষ্টিতে সেই জানালার সামনে বসে পড়তে পারেন পছন্দের কোনো গল্পের বই কিংবা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শুনতে পারেন গান। বৃষ্টি আর খিচুড়ি যেন একে অপরের পরিপূরক। তাই খিচুড়ি ছাড়া কি আর বর্ষা জমে। বর্ষণমুখর দিনে আচার আর খিচুড়ির আয়োজনে করতে পারেন বর্ষাবিলাস।

শুধু ঘরেই কেন, বর্ষা উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতির সান্নিধ্যেও। ছুটির দিনে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার আশপাশের প্রকৃতিঘেরা কোনো জায়গা থেকে। বৃষ্টিভেজা বিকালে রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকৃতির সান্নিধ্যেও জুড়িয়ে যাবে চোখ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে