রু ক্ষ চু লে র য তœ

  কেয়া আমান

০৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চুলের যতেœ আমরা কত কী-ই না করি। তার পরও বাগে আনতে পারি না চুলকে। ঝরে যায়, রুক্ষ হয়ে যায়। কত রকম সমস্যা। চুল রুক্ষ হলে প্রয়োজন এর ঠিকঠাক যতœ। শোভন মেকওভার স্কিন স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা জানাচ্ছেন, রুক্ষ চুলের যতœটা কেমন হবে।

শোভন সাহা বলেন, চুলে ঘন ঘন রিবন্ডিং, ব্লো-ডাই, রোলার ব্যবহার, পার্ম করলে চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। আবার প্রাকৃতিকভাবেও চুল রুক্ষ হতে পারে। তবে প্রকৃতিগত কারণের চেয়ে বাহ্যিক কারণে বা যতেœর অভাবেই চুল বেশি রুক্ষ হয়।

তিনি জানান, ‘বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল প্রডাক্ট, ঘন ঘন হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার চুল থেকে কেরাটিনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে চুল ড্রাই ও ড্যামেজ হয়ে পড়ে। এই ক্ষতি পূরণ করতে চুলের জন্য প্রোটিন ও কেরাটিন ট্রিটমেন্ট জরুরি। এ ছাড়া কিছু ঘরোয়া পরিচর্যার মাধ্যমেও রুক্ষ চুলের যতœ নেওয়া যেতে পারে।’

তেলের বিকল্প নেই

চুলের রুক্ষতা দূর করার জন্য তেলের বিকল্প নেই। নিয়মিত ক্যাস্টর অয়েল ও অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করুন। নারকেল তেলও চুলের জন্য উপকারী। রাতে তেল হালকা গরম করে তুলোর বলের সাহায্যে স্ক্যাল্পে ঘষে ঘষে লাগিয়ে পুরে চুলেও লাগিয়ে নিন। রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে। এরপর টাওয়াল গরম পানিতে ভিজিয়ে চুল পেঁচিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

প্রোটিন ট্রিটমেন্ট চাই নিয়মিত

কেমিক্যাল প্রডাক্ট ব্যবহারের কারণে চুল রুক্ষ হয়ে গেলে মাসে দুবার প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করানো জরুরি। পার্লারে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট নেওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে ঘরোয়া প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। ডিম, অলিভ অয়েল ও লেবুর রস মিশিয়ে প্রোটিন প্যাক তৈরি করে চুলে লাগিয়ে রাখুন। ১ ঘণ্টার পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন। প্যাকটি চুলের রুক্ষতা দূর করার পাশাপাশি চুল বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে।

শ্যাম্পু ব্যবহারে সতর্ক হোন

রুক্ষ চুল প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত নয়। কারণ শ্যাম্পুতে এমন কিছু ক্লিনিং এজেন্ট থাকে, যা চুলে তেলের স্বাভাবিক পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে রুক্ষ চুল প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে আরও রুক্ষ হয়ে ওঠে। তাই রুক্ষ চুল একদিন পর পর শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পু নির্বাচনে পিএইচের পরিমাণ লক্ষ রাখুন। রুক্ষ চুলের জন্য শ্যাম্পুতে পিএইচের পরিমাণ ৪.৫-৬.৭ থাকা উচিত। পিএইচের পরিমাণ শ্যাম্পুর বোতলের পেছনে লেখা থাকে। যেসব শ্যাম্পু অম্লীয় সেসব শ্যাম্পু রুক্ষ চুলের জন্য খুব ভালো। রিবন্ডিং, হেয়ার কালার করা চুলের জন্য বিশেষ ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

কন্ডিশনার ব্যবহার করুন

রুক্ষ চুলের যতেœ প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। এমন কন্ডিশনার বাছাই করুন, যাতে অ্যালকোহলের পরিমাণ অল্প বা শূন্য। অ্যালকোহলযুক্ত কন্ডিশনার চুলের রুক্ষভাব বাড়িয়ে দেয়। আপনার প্রডাক্টে অ্যালকোহল আছে কিনা, তা জানার জন্য বোতলের পেছনের লেবেল পড়ে দেখুন। লেবেল পড়ে যদি বুঝতে না পারেন, তা হলে কন্ডিশনারের গন্ধ শুকেও বুঝতে পারবেন এতে অ্যালকোহলের পরিমাণ কেমন। যেসব কন্ডিশনারের গন্ধ মৃদু, সেগুলোয় অ্যালকোহল কম থাকে।

চুল আঁচড়ানোতে সাবধান হোন

রুক্ষ চুল খুব সাবধানে আঁচড়াতে হয়। কারণ রুক্ষ খুব বেশি জট লাগে এবং এ কারণে চুল আঁচড়াতে গেলে চুলের ডগা ফেটে যায় ও চুল পড়ে। তাই রুক্ষ চুল আস্তে আস্তে আঁচড়াতে হবে এবং ভেজা অবস্থায় না আঁচড়িয়ে কিছুটা শুকিয়ে এলে আঁচড়ালে জট কম লাগবে।

হেয়ার সেরাম ব্যবহার করুন

রুক্ষ চুল নরম ও শাইনিং রাখতে হেয়ার সেরাম খুব ভালো কাজ করে। রুক্ষ চুলে নিয়মিত হেয়ার সেরাম ব্যবহার করুন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে