রুক্ষ চুলের যতœ

  তাপসী রহমান

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কর্মব্যস্ত জীবনে চুলের জন্য আলাদা করে সময় বের করা হয়ে ওঠে না। প্রতিদিন বা একদিন পরপর শ্যাম্পু করা হলেও সপ্তাহ শেষে চুল হয়ে পড়ে অনুজ্জ্বল আর প্রাণহীন। রোজ তো শ্যাম্পু করছিই, তারপরও চুল পড়ছেÑ এমন অভিযোগ প্রায় সবারই। সুন্দর-মসৃণ চুলের জন্য শুধু শ্যাম্পু নয় প্রয়োজন আরও বাড়তি যতেœরÑ এমনটাই মনে করেন রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি। জীবনে ব্যস্ততা থাকবেই, তবে সৌন্দর্যের জন্য আপনাকে কিছুটা সময় ব্যয় করতেই হবে। চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার আগেই যতœ নিতে হবে।

চুল নানা কারণে তার উজ্জ্বলতা হারিয়ে রুক্ষ-অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে। চারদিকের ধুলাবালি, পানিদূষণ, খুসকির প্রভাব এবং চুলের পুষ্টির অভাবে চুল হয়ে পড়ে নির্জীব। এছাড়াও চুল আয়রন করা, চুল সেট করতে স্প্রের ব্যবহার তো আছেই। ঘন ঘন চুলে কালার করা, চুল স্ট্রেইট করার ফলে চুলে বাড়তি প্রেসার পড়ে। আর নিয়মিত যতেœর অভাবে চুল তার উজ্জ্বলতা হারিয়ে রুক্ষ হয়ে পড়ে। চুল রুক্ষ হয়ে গেলে সময় করে যতœ নিতে হবে। যে মাসে বেশি প্রোগ্রাম থাকে আর চুলে নানা রকম স্টাইল করা হয়, সে মাসে সপ্তাহে দুদিন করে চুলের যতœ নেওয়া প্রয়োজন। তবে চুল বেশি রুক্ষ হয়ে যাওয়ার আগে যতœ নেওয়ার কথা জানান বিউটি এক্সপার্ট শারমিন। রুক্ষ চুলের যতœ পার্লারে গিয়ে অথবা ঘরে বসে প্রকৃতিক উপায়ে নেওয়া যায়। আজকাল বাজারে চুল পরিচর্যার জন্য নানা ক্রিম পাওয়া যায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিপকন্ডিশনার পাওয়া যায়। সপ্তাহে দুদিন ডিপকন্ডিশনার ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া হেয়ার প্রোটিন ট্রিটমেন্ট ক্রিম এবং নারিশমেন্ট ক্রিম ব্যবহারে চুল হবে শাইনি এবং ঝরঝরে। এসব ক্রিম সপ্তাহে দুদিন চুলে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর চুল আঁচড়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। কেউ যদি এসব ক্রিম ব্যবহার করতে না চান, তাদের জন্য প্রকৃতিক উপকরণ দিয়ে রুক্ষ চুলের যতœ নেওয়ার উপায় জানিয়েছেন শারমিন কচি। তিনি বলেন, সপ্তাহে দুদিন সমপরিমাণ টকদই ও পানি মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখতে হবে। এর পর চুল ভালোভাবে আঁচড়ে নিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। একইভাবে সমপরিমাণ ভিনেগার ও পানি অথবা লেবুর রস ও পানি মিলিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। আজকাল প্রায় সবার চুলে বিভিন্ন রকম কালার থাকে। চুল কালার করার ফলে যতেœর অভাবে প্রায়ই রুক্ষ ও নির্জীব হয়ে পড়ে। রঙিন চুলের যতœটা একটু ভিন্নভাবে নিতে হবে। কালারিং চুলকে এক্সটা স্মুদি আর শাইনি করতে এক কাপ চায়ের লিকারের সঙ্গে দুটি ডিমের সাদা অংশ খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে আধা ঘণ্টা চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে। এর পর ভালো করে চুল আঁচড়ে নিয়ে শ্যাম্পু করে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন কচি। সাধারণ চুলে মধুর সঙ্গে পানি মিলিয়ে এবং একটি ডিমের সঙ্গে লেবুর রস মিলিয়ে চুলে লাগানোর ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। চুলে ড্রাই হেনা প্যাক লাগাতে চাইলে এর সঙ্গে একটা ডিমের সাদা অংশ ও চায়ের লিকার মিলিয়ে তার পর লাগালে চুল হবে নরম। সামান্য টকদই চটকানো কলা ও মধু মিলিয়ে রুক্ষ চুলে লাগালে চুল উজ্জ্বল হবে। আপনার চুলের যতেœ যে পদ্ধতিটিই অনুসরণ করুন না কেন, তা অবশ্যই সপ্তাহে দুদিন করার কথা জানান শারমিন কচি। আর যদি নেহাত ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করার সময় না থাকে তারা পার্লারে গিয়ে হেয়ার স্মুদি ট্রিটমেন্ট, প্রোটিন ট্রিটমেন্ট বা শাইনিং ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। এসব ট্রিটমেন্টের পাশাপাশি নিয়মিত চুলে তেল দেওয়ার কথা বললেন কচি। সপ্তাহে তিন দিন রাতে নারিকেল তেল চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে লাগাতে হবে। সকাল বেলা শ্যাম্পু করে নিতে হবে। নারিকেল তেলের সঙ্গে অলিভ অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল মিলিয়ে চুলে লাগালে উপকার পাওয়া যাবে। চুলে খুশকি হলে অ্যান্ট্রিডেনড্রাফ শ্যাম্পুর পাশাপাশি মিনারেলসমৃদ্ধ শ্যাম্পুও ব্যবহার করতে হবে। পরিষ্কার টাওয়েল ও চিরুনি ব্যবহার করতে হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে