‘আমি ম-পে ছুটে যাই ঢাকের আওয়াজ শুনতেই’

কুমার বিশ্বজিৎ, সংগীতশিল্পী

  কেয়া আমান

১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকঢোলের বাদ্যে মুখরিত এখন পূজাম-প। অন্য সবার মতো তারারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে। সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ। ঢাকের ছন্দের প্রতি তার রয়েছে বিশেষ দুর্বলতা। যদিও এবার নবমীতে দেশের বাইরে যাওয়ার কথা থাকায় সব পূজা দেশীয় আমেজে পালন করতে পারবেন না। তবে যে কয়টা পূজায় দেশে থাকবেন চেষ্টা করবেন উৎসবের আমেজে থাকতে। আজকের তারার স্টাইলে উঠে এসেছে কুমার বিশ্বজিতের পূজা উদযাপনের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেনÑ কেয়া আমান

পাজামা-পাঞ্জাবিতে পূজা

কুমার বিশজিতের প্রিয় পোশাক টি-শার্ট, জিন্স। তবে দুর্গোৎসবে পাজামা-পাঞ্জাবি পরতে পছন্দ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পোশাক নয়, উৎসবের উদ্দেশ্যটাই মুখ্য। পূজার মূল লক্ষ্য মঙ্গল কামনা। সবার মঙ্গল কামনায় পূজা পালন করব। তবে প্রতিটা উৎসবের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেভাবে উদযাপনেই পূর্ণতা আসে। আর এ জন্যই আমি পূজায় পাজামা-পাঞ্জাবি পরি। এ বছর সপ্তমী ও অষ্টমীতে পাঞ্জাবি পরব।’ বাঙালিয়ানা খাবার খেতে ভালোবাসেন কুমার বিশ্বজিৎ। পছন্দ করেন পূজায় তৈরি নাড়–, লাড্ডুসহ নানারকম মিষ্টান্ন। এ প্রসঙ্গে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘পূজার তৈরি মিষ্টান্ন আমার বেশ পছন্দ।

পূজার আয়োজন

পূজা নিয়ে প্রতিবছর বেশ কিছু পরিকল্পনা থাকলেও এবার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান কুমার বিশ্বজিৎ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বছর শুধু অষ্টমী পর্যন্ত দেশে থাকব। নবমীতে শো করতে কোরিয়া যাওয়ার কথা আছে। আমার স্ত্রীও পূজায় এবার দেশের বাইরে আছেন। আমার মা এখন বেশ অসুস্থ। সবমিলিয়ে এবার ঘটা করে উৎসব পালন করা হচ্ছে না। তবে পূজা বলে কথা। তাই সপ্তমী এবং অষ্টমীতে দু-একটি ম-পে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। হয়তো এই দুদিন দু-একটি নিমন্ত্রণেও অংশগ্রহণ করব।’

ঢাকের ছন্দ মন কাড়ে

ঈদ, পূজাসহ যে কোনো উৎসবেই আনন্দ খুঁজে পান কুমার বিশ্বজিৎ। পূজার প্রতি রয়েছে এক বিশেষ টান। আর তা ঢাকের ছন্দে হারিয়ে যাওয়ার টান। কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত পূজায় আমাকে ঢাকের ছন্দ সবচেয়ে বেশি আচ্ছন্ন করে। ঢাকের শব্দ ছন্দে কেমন জানি একটা জাদু আছে, শুনলে শুধু শুনতেই ইচ্ছে করে। আগে পূজার শেষের দিকে আমাদের এলাকায় ঢাক প্রতিযোগিতা হতো। সেই প্রতিযোগিতায় দুবার পুরস্কার পেয়েছিলাম। এটা আমার কাছে বেশ স্মরণীয়। এখনো দুর্গাপূজায় আমি ম-পে ছুটে যাই ঢাকের আওয়াজ শুনতেই।’

শৈশবের পূজা

কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘কোনো কিছু পাওয়ার আনন্দই ছিল শৈশব-কৈশোরের পূজা। এখন দেওয়ার মাঝেই পূজার আনন্দ। ছোটবেলায় পূজায় প্রচুর আনন্দ করতাম। ম-পে ম-পে ঘুরে সারাদিন ঢাকঢোলের আওয়াজ শুনতাম। সব সময় ঢাকুরিয়ার সঙ্গে সঙ্গে থাকতাম। তাদের সহকারীর মতো কাজ করে দিতাম। বাবা-মা এটা মোটেও পছন্দ করতেন না। এ জন্য বাবা-মার হাতে প্রচুর মার খেয়েছি। ছোটবেলায় পূজায় সব সময় একটি জিনিসই আবদার করতম, তা হলো বাদ্যযন্ত্র। বাদ্যযন্ত্রের প্রতি এই ভালোবাসাই হয়তো আমাকে সুরসঙ্গীতে হারিয়ে যাওয়া শিখিয়েছে। পূজায় এখন আর খুব বেশি ম-পে যাওয়ার তেমন সুযোগ হয় না। তবুও পূজার কয়দিন অন্তত দু-একটি ম-পে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে