অন্দরে শীতের আগমন

  রওনক বিথী

০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাতাসে এখন হিমের ছোঁয়া। রহস্যময় কুয়াশার প্রকৃতিতে ছাতিম আর শিউলি ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। চিরচেনা সেই গন্ধই প্রকৃতিকে জানিয়ে দিচ্ছে শীতের বারতা। অন্য মৌসুমের চেয়ে শীত ঋতু অনেকটাই আলাদা। তাই শুধু স্বাস্থ্য বা সৌন্দর্য নয়, অন্দরেও প্রয়োজন শীতের প্রস্তুতি। পরামর্শ দিয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া।

নামিয়ে নিন শীতের পোশাক

সেই কবেই শীতের পোশাক বাক্সবন্দি করেছিলেন। এবার সেগুলো নামিয়ে ধুয়ে নিন। ভ্যাপসা গন্ধ দূর হবে এবং জীবাণুমুক্ত হবে। ধুতে না চাইলে কড়া রোদে দিন। রোদ প্রাকৃতিক জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। গত শীত মৌসুমে প্যাকেট করে রেখে দেওয়া স্যুট কিংবা ব্লেজারে ফাঙ্গাস পড়ে যেতে পারে। ধোপার দোকানে ভিড় বাড়ার আগেই স্যুট, ব্লেজার ড্রাই ওয়াশ করিয়ে আনুন। জ্যাকেট, ব্লেজার ড্রাইওয়াশ করার পর হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন। অন্যান্য শীতের পোশাকও ভাঁজ না করে ঝুলিয়ে রাখুন। যেখানেই শীতের কাপড়চোপড় রাখুন না কেন, তাতে ন্যাপথলিন দিয়ে রাখুন।

কিনতে হলে

ছোটদের শীতের কাপড় অনেক সময় গত বছরেরটা পরের বছর গায়ে লাগে না, আবার অনেক সময় উলেন পোশাকের সুতা খুলে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে ওঠে। তাই দেখে নিন নতুন শীতের পোশাক কিনতে হবে কিনা অথবা পুরনো পোশাকগুলো ঠিকঠাক করে নেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা। শীতের পোশাক কেনার প্রয়োজন থাকলে বাজারে ভিড় বাড়ার আগেই কিনে ফেলুন, দামে সাশ্রয় হবে।

প্রস্তুত রাখুন লেপ-কম্বল

শীতের প্রধান উপকরণ লেপ বা কম্বলের খোঁজ নিন। ঠিকঠাক আছে তো? আজকেই বের করে রোদে দিয়ে দিন। এতে করে অনেকদিন পড়ে থাকা লেপের ভেতরের গুমোট ভাব কেটে যাবে। লেপ রোদে দেওয়ার পর রোল করে ভাঁজ করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। বিছানা, বালিশে ডাস্ট মাইট নামক এক ধরনের জীবাণু বাস করে, যা থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। সপ্তাহে একদিন বিছানার চাদর পাল্টে ফেলুন। অন্তত মাসে একবার বিছানার গদি রোদে দিন। তোশক ও গদির তলায় নিমপাতা রাখুন।

বদলে ফেলুন পর্দা

শীত আসার আগেই ঘরের দরজা, জানালার পাতলা পর্দা খুলে ভারী সিনথেটিক পর্দা লাগিয়ে দিন। কারণ সিনথেটিক পর্দা সহজেই ধোয়া যায় আর ঘরও গরম থাকে। শীতে পর্দা, বেডকভার, সোফার কভারের জন্য উজ্জ্বল রঙ নির্বাচন করুন। শীত কম লাগবে।

ঝাড়মোছ, গোছগাছ

সপ্তাহে একদিন পুরো ঘর পরিষ্কার করুন। সিলিং ফ্যান, জানালার নেট, খাটের কোণ, আলমিরা ও অন্যান্য ফার্নিচার ঝাড়-মোছ করুন। সব শেষে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল লিকুইড দিয়ে মেঝে মুছে নিন। ঘরের মেঝে যেহেতু এ সময় ঠা-া থাকে, তাই ছোটদের যেন ঠা-া না লাগে, এ জন্য ঘরের মেঝেতে ব্যবহার করতে পারেন কারপেট, শতরঞ্জি কিংবা ফ্লোরম্যাট।

মেরামত করাতে হলে

ঘরের জানালার কোনো শার্সি কিংবা কাচ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে কিনা দেখে নিন। নষ্ট হয়ে থাকলে তা এখনই সারিয়ে নিন। শীতে উষ্ণতার সামগ্রী যেমনÑ ওয়াটার হিটার, গিজার, ইলেকট্রিক শাওয়ার, রুম হিটার এগুলো ঠিক আছে কিনা দেখে নিন। ঠিকভাবে কাজ না করলে বা নতুন কেনার প্রয়োজন থাকলে শীতের আগেই কিনে ফেলুন।

পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতে

শীতে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। পোকামাকড়ের অত্যাচার থেকে বাঁচতে রান্নাঘর, ঘরদোর পরিষ্কার রাখুন। খাবারদাবার ঢেকে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন। পোকামাকড় মারার অ্যারোসল বা অন্য ওষুধ কিনে রাখুন আগেভাগেই।

পারিবারিক স্বাস্থ্য ও খাবারদাবার

শীতে বড়দের তেমন একটা অসুখ হতে দেখা না গেলেও একটু অসচেনতায় শিশুদের হতে পারে মারাত্মক ঠা-াজনিত সমস্যা। তাই হাতের কাছে কফ সিরাপ, সর্দি ও জ্বরের ওষুধের মতো ফাস্ট এইড সঙ্গে রাখুন। এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিত ‘এ’ এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার, যেমনÑ লেবু, কমলা, বাঁধাকপি, ব্রকলি, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক ইত্যাদি রাখুন। সপ্তাহে দুই দিন ঘরের গাছগুলো বাইরে রেখে সারাদিন রোদ লাগান। নয়তো ফাঙ্গাস দেখা দিতে পারে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে