বা গা নে র প রি চ র্যা

  নাজমুন নাহার

০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইটপাথরের শহরে কর্মক্লান্ত মন ছোঁয়া চায় একটু সবুজের। কিন্তু কোথায় সবুজ, কোথায় ঘাস। জ্যামের শহরে চাইলেই কি ছুটে যাওয়া যায়? তবু মন চায়। এমন সবুজ স্পর্শের জন্য যাদের মন আকুলি-বিকুলি করে তাদের জন্য আজকের এই ফিচার।

গাছের অপর নাম জীবন কারণ গাছ আমাদের বেঁচে থাকতে খুব বেশি সহায়তা করে। অক্সিজেন দিয়ে যেমন সাহায়তা করে তেমনি ফল দিয়েও। তাই বোধহয় গাছের জন্য এমন ভালোবাসা আমাদের।

কিন্তু যে শহরে ইঞ্চি পরিমাণ জায়গাও সোনার চেয়ে দামি সেখানে বাগান করা দুরাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবু সেই দুরাশায় আশার আলো ছড়াতে পারে ছাদ অথবা ব্যালকনি।

ছাদে বাগান করার সময় অবশ্যই গাছটির আকারের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে অর্থাৎ ছোট আকারের গাছ লাগাতে হবে এবং ছোট আকারের গাছে যেন বেশি ফল ধরে সে জন্য হাইব্রিড জাতের ফলদ গাছ লাগানো যেতে পারে।

আম্রপালি ও মল্লিকা জাতের আম, পেয়ারা, আপেল কুল, জলপাই, করমচা, শরিফা, আতা, আমড়া, লেবু, ডালিম, পেঁপে, এমনকি কলাগাছও লাগানো যাবে।

ছাদবাগানের প্রথম শর্ত হচ্ছে, গাছ বাছাই। জেনে, বুঝে, বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে গাছ সংগ্রহ করতে হবে। বেঁটে প্রজাতির অতিদ্রুত বর্ধনশীল ও ফল প্রদানকারী গাছই ছাদবাগানের জন্য উত্তম।

তবে এখানে কথা হলো যান্ত্রিক জীবনে এত সময় কোথায় বাগান পরিচর্যা করার। সে ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো এমন গাছ বাছাই করা যে গাছগুলো অল্প পরিশ্রমে অধিক ফল অথবা ফুল দেবে।

সঠিক মানের চারা হলে এক বছরের মধ্যেই ফল আসে। আর নার্সারিগুলোও এমনভাবে চারা তৈরি করে যা খুব অল্প সময়ে ফল আসে, ফুল ফোটে। আজকাল বিদেশ থেকে উন্নত মানের কিছু চারা কলম দেশে আসছে। ছাদবাগানের সাধ পূরণ করার জন্য এসব সংগ্রহ করে লাগাতে পারেন। বাহারি পাতার জামরুল, পেয়ারা, সফেদা এমনকি ক্যারালা ড্রফ প্রজাতির এক জাতের নারকেল গাছও এসেছে যা হাফ ড্রামে লাগানো যায়। এসব বিভিন্ন নার্সারিতে এখন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। ছাদে গাছ লাগানো হলে শুধু ছাদবাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় না, মনের খোরাকও মেলে।

ছাদবাগানের গাছগুলো যেহেতু সাধারণ মাটির সংস্পর্শ হতে দূরে থাকে তাই নিয়মিত পানি সেচ আর সার না দিলে গাছগুলো যে কোনো সময় মারা যেতে পারে। সাধারণত দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে গাছ ভালো জন্মে। ছাদে বাগান করতে হলে এ ধরনের মাটি ব্যবহার করলে ভালো হয়।

বীজের চারা নয়, কলমের চারা লাগালে অতিদ্রুত ফল পাওয় যায়। আজকাল বিভিন্ন ফলের গুটিকলম, চোখকলম ও জোড়কলম পাওয়া যাচ্ছে। ছাদবাগানের জন্য এসব কলমের চারা সংগ্রহ করতে পারলে ভালো হয়। টবে আমের মধ্যে আম্রপালি, আলফানসো, বেঁটে প্রজাতির বারোমেসে, লতা, ফিলিপাইনের সুপার সুইট, রাঙ্গু আই চাষ করা যেতে পারে। লেবুর মধ্যে কাগজিলেবু, কমলা, মালটা, নারকেলি লেবু, কামকোয়াট, ইরানিলেবু, বাতাবিলেবু (অ্যাসেম্বল) টবে খুবই ভালো হয়। এ ছাড়া কলমের জলপাই, থাইল্যান্ডের মিষ্টি জলপাই, কলমের শরিফা, কলমের কতবেল, ডালিম, স্ট্রবেরি, বাউকুল, আপেলকুল, নারিকেলকুল, লিচু, থাইল্যান্ডের লাল জামরুল, গ্রিন ড্রফ জামরুল, আপেল জামরুল, আঙুর, পেয়ারা, থাই পেয়ারা, ফলসা, খুদে জাম, আঁশফল, জোড়কলমের কামরাঙা, গাছ লাগানো যেতে পারে। সঠিক মানের চারা হলে এক বছরের মধ্যেই ফল আসে।

আজকাল বিদেশ থেকে উন্নত মানের কিছু চারা কলম দেশে আসছে। ছাদবাগানের সাধ পূরণ করার জন্য এসব সংগ্রহ করে লাগাতে পারেন। বাহারি পাতার জামরুল, পেরা, সফেদা গাছও বিভিন্ন নার্সারিতে এখন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। ছাদে এসব গাছ লাগানো হলে ছাদবাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

শখ করে আমাদের দেশে ছাদে বাগান করার প্রথা শুরু হলেও এখন রীতিমতো অর্থনৈতিক খাত হিসেবে চিহ্নিত। অনেকেই আছে যারা বাড়ির ছাদে বাগান করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে।

ছাদে বাগান করতে হলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল গাছে পানি দিতে হবে। গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ছাড়া মাটির ধরন জেনে বাগান করলে ছাদে যে কোনো ধরনের গাছই জন্মানো সম্ভব।

নেটের যুগ বাগান করার আরও সুবিধা করে দিয়েছে ণড়ঁঞঁনব ও গুগুল। কি গাছ লাগাতে চান গাছের প্রকৃতি পরিচর্যা আদি নিবাস সবই পাবেন এখানে খোঁজ করলে। তবে আর দেরি নয়, ছাদ কিংবা ব্যালকনি সবুজে ভরে ফেলুন। বাস করুন সবুজ সতেজতায়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে