প্রস্তুতিটা আগে থেকেই

  আমান উল্লাহ

০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চলছে জেএসসি পরীক্ষা। কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয়ে যাবে সমাপনী পরীক্ষা। এ ছাড়া বার্ষিক পরীক্ষা তো আছেই। পরীক্ষা চলাকালীন সময়টায় শিশুর জন্য প্রয়োজন বাড়তি যতœ। কারণ এ সময়ে অতিরিক্ত পড়ার কারণে মানসিকভাবে শিশুরা চাপের মধ্যে থাকে।

এ প্রসঙ্গে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গাজী হোসনে আরা বলেন, ‘পরীক্ষার সময় শিশুদের পড়ার চাপ বেশি পড়ে। তাই পরীক্ষা চলাকালীন বাবা-মায়েদের উচিত সন্তানের বাড়তি যতœ নেওয়া। সন্তান ঠিকমতো পড়ালেখা করছে কিনা, ঘুমাচ্ছে কিনা, খাচ্ছে কিনা ইত্যাদি বিষয় সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে।’ গাজী হোসনে আরা পরীক্ষার সময় শিশুর যতেœর বিষয়ে দিয়েছেন আরও বেশ কিছু পরামর্শ।

পুষ্টিকর খাবার

পরীক্ষার সময় শিশুরা খাওয়া-দাওয়া একদম করতে চায় না। মগজের ফুয়েল বা জ্বালানি আসে মূলত গ্লুকোজ থেকে। আর গ্লুকোজ থাকে শর্করায়। পরীক্ষার দিন সকালে শর্করাজাতীয় খাবার যেমনÑ সবজিখিচুড়ি, রুটি, সিরিয়াল, ঘরে তৈরি ফলের জুস থেকে শিশু পর্যাপ্ত গ্লুকোজ পাবে। শিশু না খেয়ে যেন বের না হয়। অনেক মা পরীক্ষার সময় শিশুকে ডিম খেতে দেন না, কুসংস্কারের জন্য। দুধ, ডিম হলো প্রোটিন আর ভিটামিনের অফুরন্ত উৎস। কুসংস্কারবশত হয়ে শিশুকে পুষ্টিবঞ্চিত করবেন না।

খেতে হবে ঘরের খাবার

পরীক্ষার সময় কখনই শিশুদের বাইরের খাবার খেতে দেওয়া উচিত নয়। বাইরের খাবার খেলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। আর অসুস্থ হলে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এ সময় ঘরের খাবার খাওয়াতে হবে।

তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে

পরীক্ষার সময় রাত জেগে পড়া অনেকেরই অভ্যাস। অথচ রাত জাগলে সকালে কিন্তু পড়া মনে থাকে না। কারণ সারাদিন যা পড়া হয় তা মগজের স্তরে জমা হতে সুস্থির সময়ের প্রয়োজন। রাত জাগলে তাতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই পরীক্ষার সময় তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে।

সকালে পড়ার অভ্যাস

শিশুকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসানোর অভ্যাস করুন। এতে স্মরণশক্তি বাড়ে, পড়া বেশি মনে থাকে।

চাপমুক্ত রাখতে হবে

পরীক্ষার সময় পড়ার জন্য শিশুকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। এ সময় স্বাভাবিক নিয়মে পড়ে রিভিশন শেষ করতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে আপনার সন্তানের পরীক্ষা খারাপ হতে পারে।

অস্থিরতা নয়

পরীক্ষার সময় অস্থিরতা একদম বারণ। অস্থিরতায় মগজ থেকে এক ধরনের রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যার ফলে সিমপেথিটিক সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। বুক ধড়ফড়, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, পিপাসা লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এর লক্ষণ। এতে পড়াশোনা গুলিয়ে যায়, জানা উত্তরও ভুল হয়। তাই পরীক্ষার সময় যতটা সম্ভব পরীক্ষার্থী এবং বাবা-মাকে সুস্থির থাকতে হবে।

টিভি ও খেলাধুলা

অনেক বাবা-মা আছেন, পরীক্ষার সময় শিশুদের একদমই খেলাধুলা ও টিভি দেখতে দেন না। এটা ঠিক নয়। বরং একটানা পড়ার পর কিছুক্ষণ টিভি দেখলে, খেলাধুলা করলে শিশুর মন ফ্রেশ হয়, তারা পড়ার জন্য নতুনভাবে উদ্যমী হয়।

স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখুন

শিশুকে খেলতে খেলতে, গল্প করতে করতে পড়া ধরুন। পরীক্ষার কোনো চাপ শিশু যেন অনুভব না করে। পরীক্ষা বলে বাসায় থমথমে পরিবেশ বানিয়ে রাখবেন না। স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখুন।

লিখতে দিন

পরীক্ষা এখনো শুরু না হয়ে থাকলে পরীক্ষার আগে কয়েকদিন বাসায় শিশুদের লিখিত পরীক্ষা নিন। একটা অধ্যায় পড়া শেষ হলেই তার ওপর পরীক্ষা নিয়ে ফেলুন। এতে ছোটরা তাড়াতাড়ি লেখার অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারবে। পরীক্ষার দিন সন্তান যেন সব পড়া রিভিশন দিতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

স্বাস্থ্যসচেতন থাকতে হবে

আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। এখন বেশি সময় ধরে গোসল করা, ঠা-া পানি বা আইসক্রিম খাওয়া উচিত হবে না। এতে শিশুরা জ্বর, সর্দি, কাশিসহ ঋতুকালীন বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হতে পারে। ধুলোময়লায় অ্যালার্জিমুক্ত থাকতে বাইরে গেলে মুখে মাস্ক পরতে হবে।

বকাঝকা নয়

কোনো একটি পরীক্ষা খারাপ হয়ে গেলে তা নিয়ে বকাঝকা করলে শিশু পরবর্তী পরীক্ষা নিয়ে ভীত হয়ে পড়ে। এতে পরবর্তী পরীক্ষাটিও খারাপ হয়। তাই কোনো একটি পরীক্ষা খারাপ হলে শিশুকে বকাঝকা করবেন না বরং বুঝিয়ে বলুন।

গুছিয়ে রাখুন

পরীক্ষার আগের রাতেই শিশুর পেন্সিল বক্স এবং পরীক্ষা সহায়ক অন্যান্য সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখুন। পরীক্ষার দিন তাড়াহুড়ো করলে কোনো কিছু বাদ পড়ে যেতে পারে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে