দূ র হো ক খু শ কি

  আঞ্জুমান আরা

০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শীতকাল হোক বা গরমকাল, খুশকির সমস্যা যে কোনো সময় দেখা দিতে পারে। তবে ধুলা-ময়লা এবং স্ক্যাল্পের শুষ্কতার কারণে শীতে খুশকির সমস্যা বেশি দেখা যায়। খুশকির সমস্যা থেকে চুলের রুক্ষতা, আগা ফাটা, চুল পড়াসহ দেখা দেয় আরও নানা সমস্যা। তাই মাথার স্ক্যাল্প খুশকিমুক্ত রাখা খুব জরুরি। খুশকির কারণ এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে কথা বলেছেন আকাক্সক্ষা’স গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার ও রূপবিশেষজ্ঞ জুলিয়া আজাদ। লিখেছেনÑ আঞ্জুমান আরা

‘মাথার ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণজনিত কারণে মূলত খুশকির উদ্ভব হয়ে থাকে’Ñ খুশকির কারণ সম্পর্কে বলেন রূপ বিশেষজ্ঞ জুলিয়া আজাদ। তিনি আরও বলেন, ‘শীতকালে প্রকৃতিতে ধুলাময়লা বেশি থাকে। এ সময় চুল ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে, শ্যাম্পু করার পর চুল ভালোমতো ধোয়া না হলে, তেল না দিলে মাথার ত্বকে অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে খুশকি হতে পারে। তাই শীতকালে এ বিষয়গুলোয় সতর্ক থাকতে হবে।’

জুলিয়া আজাদ জানান, ‘অনেকের মাথায় শুষ্ক খুশকি হয়। এ ধরনের খুশকি আলগা থাকে, চুল আঁচড়ালে কিংবা মাথা চুলকালে গায়ে, ঘাড়ের ওপর খুশকি পরে। চুলের নিয়মিত যতœ নিলেই এ ধরনের খুশকি থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়। কিন্তু অনেকের স্ক্যাল্পে তৈলাক্ত খুশকি হয়। অর্থাৎ খুশকি স্ক্যাল্পের সঙ্গে খুব শক্তভাবে লেগে থাকে, সহজে উঠতে চায় না। এ ধরনের খুশকি থেকে স্ক্যাল্পে ইনফেকশনও হয়ে থাকে। খুশকিনাশক শ্যাম্পু কিংবা ঘরোয়া পরিচর্যায় এই খুশকি দূর করা কঠিন হয়। এ জন্য ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।’

খুশকিমুক্ত থাকতে চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। শ্যাম্পু করার পর বেশি করে পানি ঢেলে চুল পরিষ্কার করুন। নয়তো স্ক্যাল্পে শ্যাম্পু লেগে থাকলে খুশকি বেড়ে যাবে। শ্যাম্পু করার সময় চুল সামনের দিকে না এনে পেছনের দিক দিয়ে শ্যাম্পু করুন এবং ঝরনা ব্যবহার করে শ্যাম্পু ধুয়ে ফেলুন। এতে খুব সুন্দরভাবে শ্যাম্পু স্ক্যাল্প থেকে ঝরে যাবে। শ্যাম্পু করার আগে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। চুলের জট খুলে নিন ভালোমতো পরিষ্কার হবে। অন্যদিকে খুশকি আলগা হবে। ফলে শ্যাম্পু করলে সহজেই খুশকি দূর হবে। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

চুল খুশকিমুক্ত করতে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। তবে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু রোজ ব্যবহার করা উচিত নয়। কেবল খুশকি থাকলে ব্যবহার করুন। তাও সপ্তাহে একদিন। নয়তো চুল রুক্ষ হয়ে যাবে। বাকি দিনগুলোয় ব্যবহার করুন মাইল্ড শ্যাম্পু কিংবা যে কোনো হারবাল শ্যাম্পু। রিবন্ডিং, কালার করা চুলে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে চুলের আগা ফাটা, চুল পড়া সমস্যা বেড়ে যায়। এ ধরনের চুলের জন্যও মাইল্ড শ্যাম্পু উপযুক্ত। চুল ধুলাময়লামুক্ত রাখতে প্রতিদিন বাইরে গেলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করুন। প্রতিদিন বাইরে না গেলে একদিন পর পর শ্যাম্পু করুন।

অনেকে খুশকি হলে চুলে তেল দেন না। এটা ঠিক নয়। খুশকি হলেও চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহার করতে হবে। তবে তেলটা হালকা গরম করে নিতে হবে। আর তেল চুলে খুব বেশিক্ষণ না রেখে ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। খুশকি থেকে বাঁচতে চুল বেশিক্ষণ ভেজা রাখা যাবে না। ফ্যানের বাতাসে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে ফেলতে হবে। ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানোও ঠিক নয়।

খুশকি দূর করতে লেবুর রস খুব উপকারী। তবে লেবুর রস সরাসরি চুলে ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে চুলের রুক্ষতা এবং চুল পড়া বেড়ে যায়। এ জন্য পরিমাণমতো ঠা-া ভাতের মাড়ের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। স্ক্যাল্পে মিশ্রণটি লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। প্যাকটি খুশকি দূর করার পাশাপাশি চুলে নানারকম হেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহারের কারণে লেগে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান দূর করে চুল পরিষ্কার এবং ঝলমলে করে। খুশকি দূর করতে নিমপাতাও খুব উপকারী। গরম জলে তিন-চারটি নিমপাতা ফুটিয়ে নিন। এরপর এই নিমজলে ভালো করে গোসল করুন। স্ক্যাল্পের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়ে যাবে।

শুধু অপরিষ্কার চুলে নয়, চিরুনি, তোয়ালে, বালিশের কভার থেকেও খুশকি হতে পারে। তাই আপনার চিরুনি, বালিশের কভার, টাওয়াল আলাদা রাখুন এবং এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করুন। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা নিয়মিত ভিটামিন ‘ই’জাতীয় খাবার যেমন অ্যাভাকাডো ও জিংকজাতীয় খাবার; যেমনÑ সি-ফুড, বাদাম, ডাল ইত্যাদি খাবার খান।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে