পরিকল্পনা বিয়ের আগেই

  প্রদীপ সাহা

০২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই অক্ষরের একটি শব্দ ‘বিয়ে’। বিয়ে হচ্ছে দুজন ছেলেমেয়ের মধ্যে একটি সামাজিক ও আন্তরিকতার বন্ধন। দুটি মনের একত্রে মিলনই হচ্ছে বিয়ে। বিয়ের মধ্য দিয়েই স্বামী তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রী তার স্বামীকে একান্ত আপন করে নেয়, নিজের মতো করে কাছে টেনে নেয়Ñ এটাই স্বভাবিক। বিয়ের মধ্য দিয়েই সৃষ্টি হয় একটি নতুন সংসার এবং সেই সংসারে জন্ম নেয় সন্তান। তাই বিয়ের আগে দুজন দুজনকে ভালো করে চিনে নেওয়ার যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি প্রয়োজন রয়েছে আগে থেকেই অনেক কিছু ভেবে নেওয়ার।

দুজনকে ভালো করে চিনতে হবে

দুটি মনের সম্পূর্ণ সম্মতিতেই বিয়ে হওয়া উচিত। অনেকই বলে থাকেনÑ ‘বিয়েটা সম্পূর্ণ ভাগ্যের ব্যাপার।’ এ কথা অবশ্যই আমাদের স্বীকার করতে হবে এবং সত্য বলে মানতে হবে। তবে এটাও ঠিক, বিয়েটাকে সম্পূর্ণভাবে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বসে থাকা ঠিক নয়। বিয়ে হচ্ছে দুটি মনের একটি পবিত্র বন্ধন। তাই বিয়ের আগে দুজন দুজনকে ভালো করে চিনতে হবে, বুঝতে হবে। দুটি পরিবারকেও ভালো করে খোঁজ-খবর নিতে হবে বিয়ের সম্বন্ধ পাকাপাকি করার আগে। একটি ছেলেকেও যেমন তার হবু স্ত্রী সম্পর্কে এবং তার পরিবার সম্পর্কে আগে থেকে ভালো করে জানতে হবে, তেমনি একটি মেয়েকেও তার হবু স্বামীটি সম্পর্কে ভালো করে জানতে হবে।

ইদানীং অনেক পরিবারই তাদের ছেলে ও মেয়েকে বিয়ের আগে একটা সুযোগ করে দেয়, যাতে তারা একজন আরেকজনের স¤পর্কে ভালোভাবে জানতে বা বুঝতে পারে। এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে বিয়েটা এমন একটা বিষয়, যেখানে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের জীবনের সঙ্গে সারা জীবনের জন্য বেঁধে যায়। সারা জীবন একই ছাদের নিচে বাস করা বা একই সঙ্গে সংসার করার জন্য একজন আরেকজনকে বুঝতে বা চিনতে পারার একটা বিষয় থাকে, যেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বোঝাপড়ার ওপরই নির্ভর করে নতুন জীবনের পরবর্তী পথ চলা কতটা সুখী হবে।

আলোচনা হোক খোলামেলা

বিয়ের আগে অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবেÑ যাকে সারা জীবনের জন্য পেতে যাচ্ছেন এবং একত্রে একই ছাদের নিচে সংসার করার জন্য গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, তিনি আপনার জন্য কতটা উপযুক্ত। বিয়েতে একজন আরেকজনকে চিনে নেওয়া বা বুঝতে পারা তেমনই একটা সিদ্ধান্তÑ যেখানে ভুল করলে সারা জীবনই এর মাশুল দিতে হবে। এখানে ভুলটি হয় সাধারণত তাড়াহুড়া করতে গিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করে ফেলার একটা চাপ থাকে। এই চাপের ফলে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ছেলেমেয়ে কেউ কাউকে বুঝতে পারে না এবং চেনা বা বোঝার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পায় না।

সংসার যেহেতু দুজনকেই করতে হবে, তাই দুজনের মধ্যে খোলাখুলি আলোচনা করে নেওয়া বা বোঝাপড়া করে নেওয়াটা ভীষণ জরুরি। অবসরে কী করতে পছন্দ, কোথায় ঘুরতে পছন্দ, কী ধরনের খাবার পছন্দ, কোন লেখকের গল্প পছন্দÑ এসব প্রশ্ন শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এগুলো দিয়ে আপনি আপনার ভবিষ্যতের সঙ্গী বা সঙ্গিনী সম্পর্কে ধারণা করতে পারেন। আপনি যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তার স¤পর্কে যদি কোনো ধারণাই না থাকে, তাহলে এর মাশুল আপনাকেই দিতে হবে। তাই বিয়ের আগে যথেষ্ট সময় নিয়ে একজন আরেকজনকে যতটুকু সম্ভব বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

বিয়ের খরচ ভেবেচিন্তে

বিয়ে মানেই হচ্ছে একটা খরচ। আর এটা চলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। অনেকেই বিয়ের জাঁকজমক অনুষ্ঠানে বেশ টাকা খরচ করে থাকেন। আপনার তো সে ধরনের সামর্থ্য না-ও থাকতে পারে। তাই খুব ভেবেচিন্তে আপনাকে খরচ করতে হবে। আয় অনুযায়ী খরচ করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার বিভিন্ন খরচের ব্যাপারেও আপনার আগে থেকেই একটা প্ল্যান থাকা উচিত। এর ফলে কিছুটা হলেও খরচ সামলানো যাবে।

জমা করতে হবে বিয়ের আগে থেকেই

আমাদের দেশে একটা ছেলের শিক্ষাজীবন শেষ হতে হতে ২৪ থেকে ২৬ বছর পার হয়ে যায়। তারপর একটি চাকরি কিংবা কর্মসংস্থানের অন্য কোনো উপায়। একটু মানসিকভাবে ও আর্থিকভাবে তৈরি হতে তার কমপক্ষে আরও দু-তিন বছর লেগে যায়। সে যদি ২৮ বা ৩০ বছরে বিয়ের চিন্তা বা প্ল্যান করে থাকে, তবে তাকে অবশ্যই মোটামুটি দু-তিন বছর আগে থেকে নিজের দিকটা ঠিকঠাক করে রাখতে হবে। আর এর জন্য উচিত প্রতি মাসের আয় থেকে টাকা জমা করা।

অনেকের ছোট থেকেই স্বপ্ন থাকে সে বড় হয়ে নিজেকে কোনো অবস্থানে দেখতে চায়Ñ এসব নিয়ে। সেই স্বপ্নের সিঁড়ির ধাপে ধাপে এগোনোর শেষেই চলে আসে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে নেওয়া। বিয়ে মানে যেহেতু একটি মেয়ের দায়িত্ব তার নিজের পরিবার থেকে নতুন একটি মানুষের ওপর চলে আসা, তাই সেই মেয়েটির ভরণ-পোষণের কাজটি মেয়েটির জীবনে আসা নতুন মানুষের কর্তব্যের মধ্যেই চলে আসে। কাজেই বিয়ের যথেষ্ট সময় আগে থেকে একটি ছেলেকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

প্ল্যান হোক বিয়ের আগেই

আবারও বলিÑ বিয়ে করবেন, তবে হুট করে অবশ্যই নয়। বিয়ে করার আগে অবশ্যই সবকিছু প্ল্যান করে নিন। আর এটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। প্ল্যান করে করলে কোনো কাজই বিফল হয় না অর্থাৎ যে কোনো কাজই সফলতার মুখ দেখে। বিয়েটাও তাই। প্ল্যান করুন আগে থেকেইÑ দেখবেন বিয়ের সময় কিংবা বিয়ের পরবর্তী সময়গুলোয় কোনো সমস্যা বা বাধা আসবে না। বিয়ের আগে থেকেই যদি আপনি বিয়ে কিংবা বিয়ের পরবর্তী দায়িত্বগুলো নিয়ে ভাবেন এবং সঠিক প্ল্যান বা পরিকল্পনা করে এগিয়ে যানÑ দেখবেন সুখ ও সফলতা আপনাদের জীবনে আসবেই। সুন্দর-সুখময় সংসার হবে দুজনের মধ্যে। আপনার জয় হবেই।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে