শীতে শুষ্ক ত্বকের যতœ

  এমি জান্নাত

০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শীতের শুরু থেকেই ত্বকের ওপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাই শীতে চাই ত্বকের বাড়তি যতœ। প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ভালোমানের প্রসাধনী ব্যবহারের মাধ্যমে শীতে ত্বকের শুষ্কতাকে দূর করা যায়।

ত্বকের শুষ্কতা

শীতে শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসে ধুলাবালির কারণে ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে ও মলিন। এর ফলে ত্বক ফেটে যাওয়া, চামড়া ফেটে যাওয়া, এলার্জি বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়।

এ বিষয়ে রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান বলেনÑ শীতে ত্বকের যতেœ ময়েশ্চারাইজিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে যাওয়ার আগে মুখে অবশ্যই অন্তত এসপিএফ-১৫ যুক্ত সানব্লক ক্রিম ব্যবহার করবেন। শীতকালে গোসলের পর ত্বক ময়েশ্চার হারায়। তাই গোসলের আগে অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল ম্যাসাজ করে নিতে বলেন তিনি অথবা গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন বা মিনারেল ওয়াটার মিশিয়ে নিতে পারেন।

ত্বকের যতেœ ময়েশ্চারাইজার

শীতে সাবান কম ব্যবহার করা উচিত। করলেও ময়েশ্চারাইজিং সাবান তুলনামূলক উপকারী। রাতে ঘুমানোর আগে এবং গোসলের পরে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকের শুষ্ক ও মলিনভাব থাকবে না। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে অলিভ অয়েল এবং গ্লিসারিন অনেক উপকারী।

মুখের যতœ

মুখের ত্বক শরীরের অন্য অংশের তুলনায় সংবেদনশীল হয়। তাই ত্বকের ধরন বুঝে মুখে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। আর ব্রণের সমস্যা থাকলে ক্রিমের সঙ্গে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। আর রোদে বের হলে, সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। কারণ শীতকালের রোদ ত্বকের জন্য গরমের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর। গরম পানিতে গোসল না করার পরামর্শ দেন তিনি। পায়ের চামড়া নরম হলে পিউমিস স্টোন দিয়ে ঘষে মরা চামড়া তুলে ফেলতে হবে। আর গোসলের পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী সারা শরীরে ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগাতে যেন ভুল না হয়।

ঠোঁটের যতœ

ঠোঁট সবচাইতে নরম ও সংবেদনশীল অংশ। তাই এর জন্য চাই বাড়তি যতœ ও সতর্কতা। শীতে ঠা-া বাতাসে ঠোঁট ফেটে যায়। কখনো কখনো রক্তও বের হয়ে যায় বেশি ফাটলে। ঠোঁটের যতেœ কুসুম গরম পানিতে পরিষ্কার নরম কাপড় ভিজিয়ে ঠোঁটে হালকা চাপ দিলে ঠোঁটের মরা চামড়া নরম হয়ে উঠে যায়। তারপর ভেসলিন বা গ্লিসারিন হালকা করে লাগিয়ে নিন। ঠোঁটের জন্য ভালোমানের লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যাগে বহন করা ভালো। বেশি সময় বাইরে থাকলে যেন শুষ্ক হওয়ার আগেই ঠোঁটে লাগিয়ে নিতে পারেন।

পর্যাপ্ত পানি পান

ত্বক ভালো রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। শরীরকে ভিতর থেকে আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা আবশ্যক। ত্বকের যতেœ সব আবহাওয়াতেই পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। পানির স্বল্পতা দূর করতে এবং মিনারেলের জন্য ডাবের পানি ও ফলের রস খুবই উপকারী।

দুধ/দইয়ে ত্বকের যতœ

রুক্ষ ত্বকে অনেক সময় সংবেদশীলতার কারণে এলার্জি বা জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। তখন ঠা-া দুধ বা দইয়ে তুলা ভিজিয়ে শরীরে প্রলেপ লাগান। পাঁচ থেকে দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দুধের ল্যাকটিক এসিড ত্বককে ঝলমলে করে তোলে। এ ছাড়া কাঁচা দুধের সঙ্গে মধু ত্বকের জন্য উপকারী।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা খুব সহজেই বাসায় টবে চাষ করা যায়। একটু বড় অ্যালোভেরার পাতা নিন, মাঝখান থেকে সেটিকে কেটে শাঁসটা বের করে নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। মুখের জ্বালাভাব, চুলকানি এমনকি ছোটখাটো ইনফেকশনও কমে যায় অ্যালোভেরা ব্যবহারে।

নারিকেল তেল

মুখ ও শরীরের পাশাপাশি প্রয়োজন পায়ের গোড়ালি, হাঁটু, কনুইয়ের বিশেষ যতœ। তা না হলে এসব অংশ রুক্ষ ও কালো হয়ে যায়। এ সময় জমে যাওয়া নারিকেল তেলের প্রলেপ লাগাতে পারেন। তারপর শীতের কাপড় পড়ে ঘুমাতে যান। কয়েকদিন এভাবে ব্যবহারে ফলাফল দেখতে পাবেন।

সতর্কতা

শীতে অতিরিক্ত গরম পানিতে বেশিক্ষণ গোসল করবেন না, তাতে ত্বক আর্দ্রতা হারায়। গোসলের পর হালকা ভিজে অবস্থাতেই ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। খুব কড়া সাবান কখনোই ব্যবহার করবেন না। কৃত্রিম রং বা সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে বিরত থাকুন। খাদ্য তালিকায় ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার, শাকসবজি, ফল রাখুন। তারপরও ত্বকে যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে শিগগিরই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে