ইতিহাসের ভয়াবহ কিছু বিমান দুর্ঘটনা

  আজহারুল ইসলাম অভি

১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:৫৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রান্তে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে আরও অনেক বিমান, নিখোঁজও হয়েছে অনেক। বিশ্বের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ আজহারুল ইসলাম অভি

টেনেরিফে বিমান দুর্ঘটনা

বলা হয়ে থাকে, বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে স্পেনের টেনেরিফে নর্থ এয়ারপোর্টে, ১৯৭৭ সালে। এতে টেনেরিফের রানওয়েতেই ৫৮৩ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। কেএলএম রয়েল ডাচ এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং-৭৪৭ বিমান উড্ডয়ন শুরু করার ঠিক পর পরই প্যান আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজের অন্য একটি বোয়িং-৭৪৭ বিমানের ওপর বিধ্বস্ত হয়। ফলে দুই বিমানের মোট ৫৭৪ জনই নিহত হন। খারাপ আবহাওয়ার জন্য পাইলটের যোগাযোগ করতে বেগ পেতে হয়েছিল বলে শোনা যায় সে সময়। একেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে অভিহিত করা হয়।

জাপানে বিমান দুর্ঘটনা

বাণিজ্যিক বিমানের মধ্যে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে জাপানে, ১৯৮৫ সালে। ঘটনাটি ঘটে বোয়িং ৭৪৭-এর সঙ্গে। যান্ত্রিক ব্যর্থতার কারণে বোয়িং ৭৪৭ ফ্লাইটটি মাউন্ট অসুটাকার মাঝে ক্র্যাশ হয়। ফ্লাইটটি এমনভাবে ক্র্যাশের পর বিমানের ৫২০ জন যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল সে সময়। তবে বিস্ময়করভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন চারজন। ইতিহাসের ভয়াবহতম বিমান দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে এটিও একটি।

ফ্রান্সে ‘ম্যাকডনেল ডগলাস

ডিসি-১০’ বিমান দুর্ঘটনা

টার্কিশ এয়ারলাইনসের ‘ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০’ বিমানটি ১৯৭৪ সালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই দেশটির এরমেওনভিলে একটি পার্কে আছড়ে পড়ে বিমানটি। এতে ৩৩৫ জন যাত্রী এবং ১১ জন ক্রুর সবাই নিহত হন।

এয়ারওয়েজ চার্টার্ড ও লডা

এয়ারের দুর্ঘটনা

১৯৯১ সালে নাইজেরিয়া থেকে মক্কায় তীর্থযাত্রীদের পরিবহন করার জন্য ব্যবহৃত এয়ারওয়েজ চার্টার্ডে আগুন ধরে যায়। পরবর্তীতে বিমানটি ক্র্যাশ করে এবং ২৬১ জন নিহত হন। একই সালে লডা এয়ারের একটি বোয়িং-৭৬৭ বিমান উড্ডয়নের ১২ মিনিটের মাথায় আকাশেই বিকল হয়ে যায়। পরে ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমে এটি বিধ্বস্ত হয় এবং এতে ২২৩ জন যাত্রী এবং ক্রুর সবাই নিহত হন।

এয়ারবাস এ৩০০ দুর্ঘটনা

১৯৯৪ সালে চীন এয়ারলাইনসের এয়ারবাস এ৩০০ পাইলটের ত্রুটির কারণে জাপানের নাগোয়া বিমানবন্দরে ক্র্যাশ হয় এবং পরে ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়।

১৯৯৬ সালের দুটি বিমান দুর্ঘটনা

১৯৯৬ সালে ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে সৌদি ও কাজাখস্তান এয়ারলাইনসের দুটি বিমানের সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন দুই বিমানের ৩৪৯ জন। একই সালে নিউইয়র্কের জনএফ কেনেডি এয়ারপোর্ট থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ট্রান্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইনসের একটি বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়। এতে ২১২ জন যাত্রী এবং ১৮ জন ক্রুর সবাই নিহত হন।

১৯৯৮ সালে সংঘটিত দুর্ঘটনা

১৯৯৮ সালে কেনেডি বিমানবন্দর থেকে একটি ঝরিংংধরৎ লবঃষরহবৎ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যাত্রা করেছিল। কিন্তু কানাডার নোভা স্কটিয়ার উপকূলে এসে বিমানটি ডুবে যায়। এতে ২২৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।

নিখোঁজ এমএইচ৩৭০

মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ একটি নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান ফ্লাইট। এটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিং যাওয়ার পথে আকাশ থেকে হারিয়ে যায়। ২০১৪ সালের ৮ মার্চে বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে উড্ডয়নের ঘণ্টাখানেক বাদে রাডার থেকে হারিয়ে যায়। বিমানটিতে ১৫টি দেশের ১২ জন কর্মী ও ২২৭ জন যাত্রীসহ মোট ২৩৯ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই চীনা। ২৪ মার্চ মালয়েশীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, (সম্ভবত) ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে বিমানটি আকাশ থেকে ছিটকে পড়ে এবং এর যাত্রীরা কেউ বেঁচে নেই।

ফ্লাইট ৪৪৭ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া

২০০৯ সালে রিও ডি জেনরিও থেকে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর এসে ফ্লাইট ৪৪৭ নিখোঁজ হয়ে যায়। এতে ২২৮ জন যাত্রী ছিলেন। প্রায় দুই বছর পর সাগরের নিচে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এর খোঁজ পাওয়া যায়। বিমান চালানোর অত্যাধুনিক ব্যবস্থা কাজ না করায় বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আটলান্টিকের পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল বলে পরবর্তী সময়ে তদন্ত রিপোর্টে জানা যায়।

মিসর দুর্ঘটনা

বলা হয়ে থাকে মিসরের এয়ার ফ্লাইট-৯৯০ এর বিমানটি ইচ্ছা করেই ধ্বংস করে পাইলট। দুই পাইলটের রেষারেষিতে জীবন দিতে হয় ২১৭ জন যাত্রীর সবাইকে। ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে মিসরের রাজধানী কায়রোর উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানটি।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে দুর্ঘটনা

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এক অজানা রহস্যের নাম। ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বরের বিকালে ৫টি বিমান গায়েব হয়ে যায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর একই স্থান থেকে। তারপর থেকে শুরু হয় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল লৌকিক উপাখ্যান।

যুক্তরাষ্ট্রের দুর্ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৯৭৯ সালে। শিকাগো থেকে সবেমাত্র ফ্লাইট-১৯১ বিমানটি উড়েছে । কয়েক মিনিটের মাথায় বিমানবন্দরেই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। এই দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন ২৫৮ জন যাত্রী ও ১৩ জন ক্রুর সবাই

মিউনিখ বিমান দুর্ঘটনা

মিউনিখ বিমান দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয়েছিল ১৯৫৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। এ দিনে ব্রিটিশ ইউরোপীয়ান এয়ারওয়েজ ফ্লাইট ৬০৯ বরফে ঢাকা জার্মানির মিউনিখ-রিয়েম এয়ারপোর্টের রানওয়ে থেকে তৃতীয়বারের মত উড্ডয়নের চেষ্টা করার সময় ভূপাতিত হয়। বিমানের যাত্রী ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফুটবল দল, যাদের তৎকালীণ সময়ে বাজবি বেইবস নামে ডাকা হতো এবং প্রচুর সমর্থক ও সাংবাদিক। বিমানের ৪৪ জন যাত্রীর মধ্যে ২৩ জন যাত্রী এই বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।

ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হওয়া

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন বিমানকর্মী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ৩৬ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি এবং একজন করে মালদ্বীপ ও চীনের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ৩৪ বছর আগে

১৯৮৪ সালে ফকার এফ২৭ তখনকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে বিধ্বস্ত হয়েছিল, এতে প্রায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল সে সময়।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে