বিশ্বজুড়ে নিরাপদ সড়কের শহর

  আজহারুল ইসলাম অভি

২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এআরআইর একটি হিসাবে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ২৯ হাজারের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে প্রাণ হারিয়েছে ২৬ হাজারের মতো মানুষ। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সড়ক দুর্ঘটনা কমছে। সড়ক দুর্ঘটনাসহ অন্য কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে টেলিগ্রাফের প্রকাশিত এক জরিপে জানানো হয়েছিল বিশ্বের নিরাপদ কিছু সড়কের শহরের কথা।

দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট জরিপটি পরিচালনা করেছিল। এ নিয়ে আরও বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ

আজহারুল ইসলাম অভি

টোকিও

নিরাপদ সড়কের শহরের তালিকার মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে জাপানের রাজধানী টোকিও। নিরাপদ সড়কে শহরগুলোর মধ্যে করা জরিপে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিরাপদ সড়ক, অপরাধের হার এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর। দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মতে, টোকিও প্রত্যেক ক্যাটাগরি মিলিয়ে স্কোর করেছে ৮৯ দশমিক ৮ এবং এই স্কোর নিয়ে তালকার প্রথম অবস্থানে আছে শহরটি।

সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর আছে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে। নিরাপদ শহরের তালিকায় সিঙ্গাপুর এগিয়ে আছে বহুলাংশে। বলা চলে ২০১০ সালের পর থেকে শহরটিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে এতে আর সড়ক দুর্ঘটনার হার বাড়েনি, বরং কমেছে। ২০১০ সালের পর থেকে সেখানে দুর্ঘটনার হার কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১০-এর এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, সেখানে প্রতি এক লাখ গাড়ির মধ্যে ৯৩১টি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়, সেখানে ২০১৬ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে তা ৯৩১ থেকে নেমে ৮৮০ হয়েছে।

টরন্টো

নিরাপদ সড়কের শহরের তালিকার মধ্যে আছে টরন্টো। দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মতে, টরন্টো অর্জন করেছে ৮৭ দশমিক ৩৬। অন্যান্য বছরের তুলনায় সেখানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বাড়লেও দেশটিতে যে পরিমাণে দুর্ঘটনা ঘটে, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অত বেশি না। ২০১৬ সালের সরকারি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শেখানে এক বছরে তার আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্টকহোম

স্টকহোমের অর্জিত পয়েন্ট ৮৬ দশমিক ৭২। সুইডেনের এই শহরে যত সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে তার অধিকাংশ মোটরগাড়ির দুর্ঘটনা। স্টকহোমের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেখানে এক লাখ যাত্রীর মধ্যে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সমীক্ষা থেকে বোঝা যায়, সেখানে সড়ক দুর্ঘটনার হার কেমন।

মেলবোর্ন

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এগিয়ে আছে মেলবোর্ন। শহরটি ৮৭ দশমিক ৩ পয়েন্ট অর্জন করেছে দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের করা জরিপে। বলা হয়ে থাকে, রাস্তা চলাচল, সড়ক দুর্ঘটনা ও পাবলিক জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশটি ব্যাপক উন্নত সাধন করেছে।

আমস্টারডাম

আমস্টারডামের অর্জিত পয়েন্ট ৮৭ দশমিক ২৬। এ পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডসের এ শহরটি সেরা নিরাপদ শহরের তালিকায় উঠে এসেছে। যদিও শহরটিতে দিনকে দিন দুর্ঘটনার হার বেড়েই চলেছে, তবে অন্যান্য শহরের তুলনায় এতে দুর্ঘটনার পরিমাণ কম। তবে মজার ব্যাপার হলো, এ শহরের অধিকাংশ নাগরিক সাইকেল ব্যবহার করে থাকে। তা ছাড়া দুর্ঘটনা রোধে এখানে নানা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

হংকং

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, হংকংয়ের অর্জিত পয়েন্ট ৮৬ দশমিক ২২। শহরটিতে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনতে পেরেছে সে দেশের প্রশাসন। ২০০৬ সালের পর থেকে সেখানের প্রশাসন সড়ক দুর্ঘটনাকে নিয়েছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে। ফলে সেখানে সড়ক দুর্ঘটনার হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কমে আসছে।

জুরিখ

সুইজারল্যান্ডের একটি শহর জুরিখ। দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এ শহরকেও তালিকায় রেখেছে। তাদের পরিসংখ্যানে জুরিকের সংগ্রাহিত পয়েন্ট ৮৫ দশমিক ২। এ শহরটিতেও সড়ক দুর্ঘটনার হার দিনকে দিন কমেছে। সেখানে চোখে পড়ার মতো একটি পরিসংখ্যান হচ্ছে ২০০৯ ও ২০১০ সালে এক বছরে ৬ শতাংশ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার হার কমেছিল।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে