বিশ্বকে বদলে দেওয়া দশ নারী

  আজহারুল ইসলাম অভি

১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বকে বদলে দেওয়া ২৫ নারীর তালিকা। পিপল ম্যাগাজিনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশ করা হয় এটি। বিশ্বব্যাপী যেসব নারী বিশ্বকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবারের তালিকাটি। তাদের ১০ জনকে নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের এবারের আয়োজন।

নিয়া বাটস এবং সোফিয়া বুশ

বাটস যখন দেখলেন মেয়েরা বারবার চুলের রঙ পরিবর্তন করছে, টেকসই চুলের জন্য তখন তিনি এবং কিটি ককরেল বুশকে একটি ধারণা দেন। তারা এই বারবার রঙ পরিবর্তনকে একটা ব্যবসায় পরিবর্তন করেন। এর পরই তারা ডেট্রয়েস ব্লুস সেলুন তৈরি করেন। এখানে প্রতিটি সেবার জন্য ১ ডলার করে নেওয়া হতো এবং এখান থেকে প্রাপ্ত অর্থের ২৫ শতাংশ শহরের উন্নয়নের কাজে বিনিয়োগ করতেন। তা ছাড়া শহরে যত নারী উদ্যোক্তা আছেন, তাদের সঙ্গেও তারা বিনিয়োগ করতেন। এতে করে নারী উদ্যোক্তারা বেশ লাভবান হয়েছিলেন।

এনাস্টাসিয়া হাইগিনবোথাম

গোথাম মূলত একজন লেখিকা। তিনি বিবাহবিচ্ছেদ, মৃত্যু, লিঙ্গভেদ, জাতিভেদ এসব নিয়ে বেশ কিছু বই লিখেছেন। তার কাছে মনে হয়েছিল এগুলোই পৃথিবীর প্রধান সমস্যা। তার ‘অর্ডিনারি টেরিবল থিংকস’ একটি সিরিজ বই। তার এ সিরিজটি পড়ার পর এক-দুই সন্তানের জননী বলেছিলেন, ‘ইস! এটা যদি আমি ছোটবেলায় পড়তে পারতাম।’ তিনি এটাও বলেছিলেন, শিশুরা এটা পড়লে তারা তাদের জীবনকে এই বইয়ের পাতায় পাতায় দেখতে পাবে। ৪৭ বছর বয়সী লেখিকা ২০১৫ সালে তার প্রকাশিত আরেক বইয়ে বলেছিলেন, বিবাহবিচ্ছেদ পৃথিবীর জঘন্য বিষয়গুলোর একটি। তার ‘নট মাই আইডিয়া’ বইটিও বর্ণবাদ নিয়ে লেখা। তার এসব লেখা পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার একটি প্রয়াস ছিল বলে মনে করেছে পিপল ম্যাগাজিন।

প্রিয়াংকা চোপড়া

প্রিয়াংকা চোপড়া ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় তিনি বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করতে গিয়ে চরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এমনকি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মুসলিম রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা প্রত্যক্ষ করার জন্য বাংলাদেশে এসে চট্টগ্রামের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঘরে বসে আরামে দিন কাটানোর কথা ভাবিনি। আমি পড়ালেখা করার সুযোগ পেয়েছি। চাকরি করার সুযোগ পেয়েছি। আমি যেভাবে দিন কাটানোর স্বপ্ন দেখি, সেখাবে দিন কাটাতে পারি। তবে আমি এসব সুযোগ-সুবিধার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখিনি। আর এটিই আমার জীবনে সবকিছু বদলে দিয়েছে।’

লরা ডার্ন

লরা ডার্ন বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার সঙ্গে জড়িত একজন অভিনেত্রী। তিনি এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির সঙ্গে কাজ করেন, যা বিশ্বব্যাপী সিসার ব্যবহার কমাতে কাজ করছে। অস্ত্রসহ নানা সামগ্রীতে সিসার ব্যবহার এবং নেশা হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে এটি, যা যুবসমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বনি হ্যামার

বনি হ্যামারের সৎমেয়ের গায়ের রঙ তাদের চেয়ে কালো হওয়ার কারণে কেউ একজন তাকে তাদের পরিবারের সদস্য না ভেবে অন্য কেউ মনে করেছিলেন। তিনি বনি হ্যামারের মেয়েকে শিশু পরিচারিকা ভেবেছিলেন। এর পর থেকে বনি হ্যামার এসব নিয়ে কাজ শুরু করেন। ৬৮ বছর বয়সী হ্যামার এনবিসি ইউনিভার্সাল ক্যাবলের চেয়ারম্যান।

সারা উলম্যান

অরলান্ডোর প্লাস নাইট ক্লাবে এক হামলায় ৪৯ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সারা উলম্যান তখন এটা নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। ‘ওয়ান ভোট অ্যাট এ টাইম’ নামে তিনি একটি সংস্থা খোলেন এবং এটা দ্বারা তিনি বিশ্বব্যাপী বন্দুক ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করেন।

নাজনীন বনায়েদি

নাজনীন বনায়েদির জন্মের ঠিক ২০ দিন পরেই তার বাবা-মা তাকে নিয়ে ইরান ছেড়ে লন্ডনে চলে আসেন, কারণ লন্ডনে তখন নারীদের অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো। কিন্তু নাজনীন এখন তা মেনে নিতে পারেন না। তিনি বিশ্বব্যাপী নারীদের প্রতি বৈষম্য মেনে নিতে পারেন না। এ লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ইরানের নারীদের কণ্ঠস্বর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের পক্ষে।

শেরন ফেল্ডস্টেইন ও প্যাটসিনোয়া

শেরন ফেল্ডস্টেইন ও প্যাটসিনোয়া ছিলেন দুই বন্ধু। তাদের সন্তানরা ছিল গায়ক ও অভিনেতা। অর্থাৎ তারা দুজনই ছিলেন সেলিব্রেটিদের মা। তারা দুজন মিলে ‘ইউর মম কেয়ারস’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যারা নানা সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করেন। বিশেষ করে দরিদ্র শিশুদের নিয়ে তারা অনেক কাজ করেছেন। তাদের এ সংস্থা থেকে উপকৃত হয়েছে অনেক শিশু। তাদের এই বিশ্ব বদলে দেওয়ার চেষ্টাকে আমলে নিয়েছে পিপল ম্যাগাজিন।

লেনা ওয়াইথ

তিনি একজন বক্তা এবং তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী, যিনি মাস্টার অব নান কাজের জন্য অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন। তিনি হলিউডের চেহারাটাই পাল্টে দিতে চেয়েছিলেন এবং এর জন্য লেখক, পরিচালক ও অভিনেতাদের নানাভাবে সহযোগিতাও করেছেন।

তারা মাইসন, টিনা স্ট্রাইড, লিসা মেলসের

টারা, টিনা এবং লিসা তিনজন মিলে একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। উদ্যোগটা এমন যে, তারা নেশাগ্রস্তদের পরিবারদের সাহায্য করবেন। তারা একটা সংস্থার মাধ্যমে এ কাজ পরিচালনা করতেন। তারা কখনো কখনো নিজেরা ড্রাইভ করে নেশাগ্রস্তদের রিহ্যাব সেন্টারে নিয়ে যেতেন। তা ছাড়া তাদের সেখানে পাঠাতে বিমান খরচসহ অন্যান্য ব্যয়ভারও বহন করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তারা।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে