স্বপ্নপূরণের তিন অস্ত্র

  অনলাইন ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো বিশেষ কাজে যদি আপনার দক্ষতা থাকে, তা হলে সে বিষয়ে বেশি সময় দেওয়ার অর্থই বেশি প্রতিদান পাওয়া। তিনটি বিষয়ে সময় দিন। বাকিটা নিজেই হবে লক্ষ্য দক্ষতায়

ধরুন আপনি সাকিব আল হাসান! আপনার বয়স ১০। আপনার ক্ষেত্রে সময়ের সঠিক এবং উচিত কাজটি হবে বেশি বেশি ক্রিকেটের প্রতি সময় দেওয়া। এখানে একটা কিন্তু রয়েছে, শিশু মার্ক জাকারবার্গও নিশ্চয়ই সারা দিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাটাতেন না। আসলে আমাদের প্রত্যেকেরই এমন কিছু জায়গা থাকে, যেখানে আমাদের নিরন্তর লড়াই চালাতে হয়, আমাদের অদক্ষতার সঙ্গে। অনেকেরই পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না, বিরক্ত লাগে। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় দিলে ফলাফল ঠিকই আসবেই। সমস্যা হলো আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই পড়াশোনার মতো করে জীবনটাকে নিয়েছেন। টানা সেই সব কাজ করে যাওয়া, যা করতে আমরা মোটেই ভালোবাসি না। আপনি সব অপছন্দের কাজকেই এড়িয়ে যেতে পারবেন না। কিন্তু জীবনের বেশিরভাগ সময়ই সেই কাজে ব্যয় করা উচিত, যা করলে নিজের বিশেষ উদ্দেশ্য সাধিত হয়। কখনো ‘কঠোর পরিশ্রম’-এ বিশ্বাস রাখবেন না। কঠোর পরিশ্রম আসলে ভালো জিনিস নয়। ভুল কাজে প-শ্রম করার চেয়ে কিছু না করাই ভালো।

অনুমতি নয় : আপনার নিজের স্বপ্নপূরণ কেউ এসে করে দেবে না। ধরুন আপনি আপনার ভবিষ্যতের পেশা ঠিক করে ফেলেছেন, যা দিয়ে আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন বলে আশা করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই পথটাই হলো ‘চাকরি’ করা! চাকরিতে স্বপ্নপূরণ হবে কেন? এ জন্য তো কোম্পানি আপনাকে টাকা দিয়ে পালে না। আপনার চাকরি থেকে কারো যদি লক্ষ্যপূরণের ইচ্ছা থাকে, তাহলে তা আপনার কোম্পানির। এমন কারোর কথা ভাবুন, যিনি প্রকৃত অর্থে সফল। তিনি কি ওই সাফল্যের জায়গায় পৌঁছতে গিয়ে ওই পদের আবেদন করে বিশেষ কোনো ইন্টারভিউ দিয়েছেন? নাকি তারা চেনা ছকের বাইরে বেরিয়ে নতুন কিছু করার কথা ভেবেছেন? নতুন রাস্তায় হেঁটেছেন?

আপনি যদি সংগীতশিল্পী হিসেবে সফল হতে চান, তাহলে রেকর্ড লেবেল কোম্পানিরা আপনার খোঁজ পেলেন কিনা, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ লোকে আপনাকে চিনল কিনা। লেখক হতে চান? ব্লগ লিখুন, নিজে ছাপান। উদ্যোক্তা হতে চান? একটা ব্যবসা শুরু করুন। যদি মনে হয় আপনি কোনো কাজে ভালো তাহলে তার পেছনে সময় দিন। কিন্তু কারোর কাছ থেকে সেই কাজের পরামর্শ কিংবা অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

প্রয়োজন অসামাজিকতা : নিজের লক্ষ্যে এগোতে গেলে বাধা আসবেই। আর বিচ্যুত হতে হবে নিজের লক্ষ্য থেকে। আমরা অনেকবারই জীবনের আসল লক্ষ্যে পৌঁছে উঠতে পারি না, কারণ আমরা এক জায়গায় পাক খেয়ে যাই। অন্য কেউ আমাদের সেই পাক খেতে বাধ্য করেছিল বলেই সামনে এগিয়ে যেতে এবং বাঁচার জন্য আপনার দরকার অসামাজিকতার মুখোশ!

‘না’ বলতে পারার শক্তি: জীবনের সবকিছু, যা আপনাকে স্বপ্নপূরণ থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে, তাকে ‘না’ বলতে শিখুন। সব সময় মাথায় রাখবেন, স্বপ্নপূরণের পথে চলার সময় কোনো কিছু বিন্দুমাত্র বাধার সৃষ্টি করে তাহলে তার সঙ্গে কোনো রকম কম্প্র্রোমাইজ করার অর্থ নিজের ক্ষতি করা। দিনশেষে হিসাব একটাই, আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলেন কিনা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে