• অারও

লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্টে ক্যারিয়ার

  অনলাইন ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে রয়েছে লজিস্টিকস সেক্টরে কাজের বিপুল সুযোগ। এর প্রধান কারণ হলো দিন দিন বাড়ছে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনকারী এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজের আওতা, এর পাশাপাশি লজিস্টিকস সেবাদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও বাড়াচ্ছে তাদের কার্যক্রমের পরিধি। তাই ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় একটি সেক্টর হলো লজিস্টিকস। এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেনÑ শামস্ বিশ্বাস

কাকে বলে লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্ট : কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে বিজনেস মেটিরিয়ালের স্টোরেজ, ট্রান্সপোর্টেশন এবং হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে যে ম্যানেজমেন্ট নিযুক্ত থাকেন, তাকেই লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্ট বলে। বিজনেসের মেটিরিয়ালকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করার দায়িত্বও থাকে এই ম্যানেজমেন্টের ওপর। লজিস্টিকস হলো সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ। এই ব্যবস্থায় কোনো দ্রব্য বা পরিষেবা, উৎপাদক থেকে উপভোক্তার কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রতিষ্ঠান, কর্মী, কর্মপ্রক্রিয়া, তথ্য এবং প্রযুক্তির একটা বিরাট ভূমিকা থাকে, একেই বলে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট।

প্রধানত যোগাযোগ থাকে অটোমোবাইলস, ক্লোদিং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, খাদ্যসামগ্রী, গ্রসারি, রিটেল ব্যবসা ইত্যদির মধ্যে। লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্টের আওতায় এ ছাড়া রয়েছে ট্রান্সপোর্টেশন ম্যানেজমেন্ট, ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট, অর্ডার ফুলফিলমেন্ট, ওয়্যারহাউজিং, ইনভেন্টারি ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই/ডিম্যান্ড প্ল্যানিং ইত্যাদি।

লজিস্টিকসে কাজের জন্য যোগ্যতা : যে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীদেরই এখানে কাজের সুযোগ আছে। তবে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট থেকে আসা শিক্ষার্থীদের এ ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। আর বিবিএ কিংবা এমবিএ করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগও আছে অনেক। বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এই পজিশনে আছে প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এখানে কাজ করতে চাইলে একজন প্রার্থীকে হতে হবে চটপটে, স্মার্ট, স্বতঃস্ফূর্ত এবং উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে। ব্যবসায়িক বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে এখানে ভালো করা সম্ভব। এর পাশাপাশি এখানে যারা কাজ করবেন, তাদের জন্য কমিটমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মাথায় চাপ নিয়ে কাজ করতে হবে এবং ডেডলাইন মিট করার মতো পেশাদারিত্ব থাকা উচিত। বিভিন্ন ধরনের কাজের মধ্যে গুরুত্ব অনুযায়ী কাজকে আগে-পরে করে সাজিয়ে নেওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে। লজিস্টিকসে কাজ করতে হলে মাল্টিটাস্কিং হতে হবে। একই সঙ্গে অনেক ধরনের কাজকর্ম মাথায় রেখে করার দক্ষতা চাই। এর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার মতো মানসিকতা থাকা চাই। সংখ্যা বা অঙ্কের হিসাব (নিউমেরিক্যাল ডেটা) মনে রাখার দক্ষতা থাকা দরকার। আরও একটি বিষয় এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেটা হলো কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ দক্ষতা। কমিউনিকেশন কে এখানে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ একজন কর্মীকে সার্বক্ষণিক দেশের এবং দেশের বাইরের গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি এবং এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হয়।

কাজের ধরন : লজিস্টিকসে কাজের ক্ষেত্র বিশাল। মূলত পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন বিষয়গুলোই তারা দেখভাল করে থাকেন। গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে পণ্য পেঁৗঁছানোর সময় এবং উপায় ঠিক করা এবং সর্বোপরি খরচ যেন কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। লজিস্টিকস ম্যানেজারের প্রধান দায়িত্বই হলো পারচেজিং অফিসার, ট্রান্সপোর্টেশন ম্যানেজমেন্ট এবং ফার্মের ওয়্যারহাউসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে চলা। কোম্পানি যেখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে, সেটা যাতে কোম্পানির গোডাউনে সঠিক সময়ে পৌঁছে যায়, পাশাপাশি সেগুলোর সঠিক প্রযুক্তিগত সংরক্ষণ এবং বিক্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করাও লজিস্টিকস ম্যানেজারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কোম্পানির পণ্য আদান-প্রদান এবং ক্রয়-বিক্রয়ের নেটওয়ার্ক ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা এবং কীভাবে সেটাকে আরও লাভজনক বা কস্ট-এফেক্টিভ জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়, সেটা বিশ্লেষণ করাও একজন দক্ষ লজিস্টিকস ম্যানেজারের কাজ। লজিস্টিকস ম্যানেজার কিন্তু এভাবে একটি কোম্পানির উন্নতির রাস্তাও দেখাতে পারেন। একটি কোম্পানির চেইন সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট কতটা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সেই কোম্পানির লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্টের ওপরই প্রধানত নির্ভর করে।

চাকরির সুযোগ : গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ক্রমেই সম্প্রসারণ হওয়ার কারণে বাংলাদেশে এ পেশায় প্রচুর কর্মসংস্থান এবং উন্নতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে এ খাতে অনেক কাজের সুযোগও বাড়ছে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এর পাশাপাশি আরও কিছু খাতও বিশ্বের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিচ্ছে। লজিস্টিকস কোম্পানিগুলো কাজ করে এয়ারলাইনস কোম্পানি, শিপিং এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে। লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ডিগ্রি থাকলে এই ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তো পাওয়াই যায়, পাশাপাশি এ সেক্টরের বাইরেও কাজের অনেক বেশি সুযোগ পাওয়া যায়। লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্ট গ্র্যাজুয়েটরা যেসব পদে চাকরি পেতে পারেন, সেগুলো হলোÑ ওয়্যারহাউস সুপারভাইজার, শিপিং কো-অর্ডিনেটর, অপারেশন্স ম্যানেজার, এক্সপোর্ট সেলস কো-অর্ডিনেটর, এক্সপোর্ট এক্সিকিউটিভ, লজিস্টিকস কো-অর্ডিনেটর ইত্যাদি।

আয় রোজগার

শুরুর দিকে একজন লজিস্টিকস নির্বাহীর আয় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেতন লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অর্জন করে অনেকেই নিজস্ব লজিস্টিকস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে