পারফেক্টশনিস্ট হতে গিয়ে সময় যেন নষ্ট না হয়!

  অনলাইন ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খেয়াল করলে দেখা যায়, করপোরেট দুনিয়া হোক বা শিক্ষাজগৎ কিংবা সরকারি চাকরিÑ সব ক্ষেত্রেই কিছু প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির নাম উঠে আসে। এমন কিছু নাম, যারা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু করেননি, কিন্তু যেটুকু করেছেন তা আর পাঁচজনের তুলনায় হয়তো একটু বেশি নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন, একটু আলাদাভাবে করেছেন। আর এই আলাদা পদ্ধতি এসব ব্যক্তির প্রতিষ্ঠা পাওয়ার হাতিয়ার হয়ে গিয়েছে। এগিয়ে গেছেন সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে

পারফেক্ট হওয়ার জন্য অপেক্ষা নয়

বর্তমানে জেন ওয়াইরা অপেক্ষা করে থাকেন নিখুঁত হওয়ার জন্য। কিন্তু পরবর্তী পর্যায় দেখা যায় তাতে অনেক সময় চলে গেছে। কাজ করতে করতেই পারফেক্ট হয়ে যাবে। আর এই র্যাট রেসের সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, নেতৃত্ব দিতে নতুনরা পিছিয়ে আসে। কিন্তু বাস্তব বলছে, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজন মূল্যবোধ এবং দক্ষতা। কেউই পরিপূর্ণ নন, কিন্তু তা প্রকাশ করলে চলবে না। শুধু সবাইকে চালনা করার মতো ক্ষমতা থাকতে হবে।

জ্ঞানকে সুসংহত করা

নিজের কাজ সাফল্যের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, যে বিষয়ে জ্ঞান স্বল্প, সে বিষয়ে পড়াশোনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, সে বিষয়ে নিজেকে মাস্টার প্রমাণ করা হলো সবচেয়ে কঠিন কাজ। দৈনন্দিন জীবনে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে এগিয়ে থাকতে গেলে পড়াশোনা এবং জ্ঞান অর্জন করা খুব জরুরি।

দল তৈরি

কর্মক্ষেত্রে সবাই বন্ধু নয়। কিন্তু কিছু মানুষ থাকবেন, যারা সর্মথন করবেন। এদের নিয়ে একটা দল তৈরি করতে হবে। তবে দায়িত্ব হবে অফিসে সবার সঙ্গে সুষ্ঠু সম্পর্ক বজায় রাখা। বস যদি কখনো কাজে অসন্তুষ্ট হন, এই দল তখন এগিয়ে এসে সমর্থন করতে পারবে।

ভেবেচিন্তে, বুঝেশুনে পা ফেলুন

হঠাৎ দেখলেন বিনাকারণে অফিসে রেপুটেশন খারাপ হতে শুরু করেছে। আর তা হয়তো ভবিষ্যতে ক্যারিয়ারে ক্ষতি করে দিতে পারে। তাই পরিস্থিতি বুঝে ঠা-া মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বসকে কাজসংক্রান্ত কোনো কথা অফিসে জানাতে না পারলে মেইল করতে হবে। এ ছাড়া আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে তা হলো পোশাক। এমন কোনো পোশাক পরে অফিসে যাওয়া যাবে না, যা দৃষ্টিকটু দেখায়।

ব্যক্তিগত জীবন

সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মক্ষেত্র এ দুটো জায়গাকে কখনই এক করা উচিত নয়। দুটো বিষয়কেই পৃথকভাবে নজর দেওয়া জরুরি। যে কোনো একটা দিককে প্রাধান্য দেওয়া ঠিক নয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনে সবাইকে খুশি রাখতে পারলে এবং নিজের শান্তি থাকলে কাজের জায়গায় সাফল্য আসা খুব সহজ।

প্রতিভাটাই বড় কথা

সর্বদা মাথায় রাখা উচিত, নিজের প্রতিভাটাই সব থেকে বড় কথা। কেউ কিছু বললেও নিজের ক্ষমতার ওপর ভরসা রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।

আত্মবিশ্বাস

সাফল্যের অন্যতম প্রধান দিক হলো নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখা। শুধু তাই নয়, যে কোনো কাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মনের জোর থাকাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় বলা যায়, একে অন্যের পরিপূরক। আত্মবিশ্বাস থাকাটা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তবে তা বেশি প্রয়োজন নতুনদের। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির জন্য পুরনোরা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। কিন্তু নতুনদের অনেকে সংযমী হওয়ার ফলে পদোন্নতির কথা সহজে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বলতে পারেন না। ফলে তাদের ক্ষেত্রে পদোন্নতির বিষয়টা একটু ধীরগতিতে হয়। নতুনদের সাহস করে সদর্থক মনোভাব রেখে তাদের সুবিধা বা অসুবিধার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। আর সেটা তখনই সম্ভব, যখন তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সফলভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

সিয়াম ইমতিয়াজ

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে