মারিসা মেয়ার কঠোর পরিশ্রমী এক নারীর সাফল্যের গল্প

  আজহারুল ইসলাম অভি

০৬ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৬ জুন ২০১৮, ০১:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

মারিসা মেয়ারের জন্ম ১৯৭৫ সালে, উইসকন্সিনের এক ছোট্ট শহরে। ছোট্ট মারিসা স্বভাবে ছিল অসম্ভব চঞ্চল, সবকিছুতে তার দারুণ আগ্রহ। ‘এটা কেন হলো, ওটা কীভাবে কাজ করে?’ সারাক্ষণ তিড়িংবিড়িং প্রশ্ন করে সবাইকে অতিষ্ঠ করে তোলে সে! অবশ্য তাতে কেউ আপত্তি করত না। বরং প্রকৌশলী আর শিক্ষক মা-বাবা তাকে বরাবরই উৎসাহ দিয়ে যান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে, নতুন নতুন জিনিস নিয়ে মাথা ঘামাতে। স্কুল শেষে সে ছুটত আইস স্কেটিং খেলতে, অবসরেও তাকে ঘরে পাওয়া যায় না, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্কুলের সেরা প্রতিনিধি হিসেবে তখন সে শহরের বাইরে! মারিসা যখন গুগলে যোগ দিয়েছিলেন, তখন ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। সামনে কী হবে, প্রতিষ্ঠানটি কোথায় যাবে কিছু জানা ছিল না। এই অজানা পাড়ি দেওয়ার রোমাঞ্চেই মারিসা এক যুগ নিরলস শ্রম দিয়ে গড়ে তুলেছেন গুগলকে। এখন গুগল পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ধনী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সেই শুরুর দিকে হাল ধরেছিলেন যে সৈনিকরা, তারা আজ অনেক বড় বড় পদে কর্মরত। এবার তিনি ঠিক করলেন সময় হয়েছে এবার জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করার।

গুগল ছেড়েই মারিসা যোগ দিলেন ইয়াহুতে, একদম সিইও হিসেবে! ইয়াহুর সেই আগের জৌলুস ততদিনে আর নেই। মারিসার তত্ত্বাবধানে গুগল এতটাই এগিয়ে গেছে যে, বেশিরভাগ মানুষ ইয়াহু ব্যবহার করা বলতে গেলে ছেড়েই দিয়েছে! এতদিন যিনি একাই ইয়াহুকে ধসিয়ে দিলেন, তিনিই আজ হাল ধরলেন প্রতিষ্ঠানটির হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার অভিযানে! দেখা গেল ইয়াহুতে এসেও কাজের ক্ষুধার গতি এতটুকুও কমেনি তার! ফরচুন ম্যাগাজিনের বছরের সেরা সিইও নির্বাচিত হলেন তিনি। ইয়াহুকে পতনের দ্বারপ্রান্ত থেকে তুলে ধরলেন বিপুল উদ্যমে ও পরিকল্পনায়। মারিসা প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা করে কাজ করেছেন তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে, যা খুবই বিরল ঘটনা। মারিসা মেয়ারের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রমই তাকে আজকে পৌঁছে দিয়েছে এই অবস্থানে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে