চাকরি পরবর্তী অবসর পরিকল্পনা

  অনলাইন ডেস্ক

১১ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবসর গ্রহণের প্রস্তুতি এমন একটি ইস্যু, যা অনেকেই প্রত্যাশা করেন না। কিন্তু এটি একটি

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারি চাকরির মতো বেসরকারি বা কনট্র্যাকচুয়াল চাকরিতে রিটায়ারমেন্টের পর কোনো পেনশনের ব্যবস্থা থাকে না বললেই চলে। এ জন্য ভবিষ্যতে ভালো থাকার জন্য নিজেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বুদ্ধিমানরা কখনো দুর্দিনে খালি হাতে বসে থাকে না। তারা দুর্দিনের জন্য আগেই পরিকল্পনা করে রাখে এবং নিজের ওপরই ভরসা করে। আপনি নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান! সুতরাং আপনিও অবশ্যই নিজের চিন্তা নিজেই আগে করে রাখুন। অবসর সময়ে নিজের স্বপ্নের মতো জীবন কাটাতে আপনার দুটি বিষয় থাকতে হবে। এ নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ শামস বিশ্বাস

প্ল্যানিং : কীভাবে অবসর জীবন কাটাবেন, কত টাকা লাগবে এবং সেই টাকা কোথা থেকে আসবে এ রকম পরিকল্পনা।

সেভিংস : এটি হচ্ছে প্ল্যানিংয়ের বাস্তবিক রূপ। ধরুন, আপনি প্ল্যান করলেন যে আপনি এক সপ্তাহে ৫০০ টাকা জমাবেন, যখন আপনি আসলেই ৫০০ টাকা জমিয়ে রাখবেন সেটাই হবে আপনার সেভিংস।

আপনার বয়স ২০, ৩০ অথবা ৪০? এখনো পরিকল্পনা শুরু করেননি? কোনো সমস্যা নেই, আজই শুরু করে দিন না আপনার পরিকল্পনা এবং সঙ্গে সঙ্গে শুরু করে দিন রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান। প্ল্যানিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি বাস্তবায়নেরও ব্যবস্থা করুন তাহলে দেখবেন অবসরের জীবনটা হবে নির্ঝঞ্ঝাট-ঝামেলাহীন।

কত টাকা করে জমাবেন : ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানারদের পরামর্শ হলোÑ আপনার বয়স যদি ২০-এর কোঠায় হয়, তাহলে আপনার উপার্জনের ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত সঞ্চয় করা উচিত। এটা কিন্তু একটা জেনারেল গাইডলাইন। আপনি সবার থেকে আলাদা, সুতরাং আপনি জেনারেল গাইডলাইন শুনবেন কেন! নতুন চাকরিতে ঢুকেছেন এবং বয়স ৩০-এর নিচে হলে প্রতি মাসে মাইনের ১৫-২০ শতাংশ বাঁচানোর চেষ্টা করুন। এখন বাঁচালে ভবিষ্যতে চাপ কম হবে। যাওয়ার চাকরির বয়সের শেষ দিকে অর্থাৎ ৫০+ যাদের বয়স তারা যদি এত দিন টাকা-পয়সা না জমিয়ে থাকেন, তারা এবার অর্ধেকটাই বাঁচান। তাতে যদি নামের সঙ্গে ‘কঞ্জুস’ বিশেষণ জুটে যায়Ñ থামবেন না।

আপৎকালীন তহবিল : চাকরির শুরু থেকেই জরুরি একটি তহবিল তৈরি শুরু করুন। অল্প অল্প করে সঞ্চয় করে নিজের ছয় মাসের খরচের সমান একটি তহবিল তৈরি করুন। যে কোনো আপৎকালীন সময়ে ভীষণ কাজে দেবে এ তহবিল।

জমানো টাকার গাণিতিক হার নির্ধারণ : অবসর গ্রহণের সময় আপনার কী পরিমাণ টাকা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে টাকার অঙ্কটা আপনার লাইফস্টাইল ও রিটায়ারমেন্টের বয়সের ওপর নির্ভর করে। ইন্টারনেটে বেশ কিছু ক্যালকুলেটর আছে, যা দিয়ে আপনি খুব সহজেই এ অঙ্কটি নির্ধারণ করতে পারবেন।

রিটায়ারমেন্ট ফান্ড : প্রতিটা কোম্পানিরই প্রভিডেন্ট ফান্ড থাকে। প্রতি মাসের মাইনের থেকে সামান্য অংশ কেটে নেওয়া হয়। শুধু এই টাকার ভরসায় না থেকে আপনার নিজেরও উচিত অবসরের জন্য একটি রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান বা প্রভিডেন্ট ফান্ড তৈরি করার। বাজারে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহজ কিস্তিতে টাকা জমিয়ে রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান আছে। এগুলো থেকে খোঁজখবর নিয়ে পছন্দমতো যে কোনো একটিতে ইনভেস্ট করতে পারেন।

বীমা : প্রত্যেক চাকরিজীবীর জন্য ভীষণ প্রয়োজন স্বাস্থ্যবীমা। এ ক্ষেত্রে যত কম বয়সে টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন, ততটাই লাভ করবেন। আপনি এবং আপনার স্ত্রীর জন্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি গ্রহণ করুন। এতে করে পরবর্তী সময়ে কিছুটা সহায়তা পেতেই পারেন।

বিনিয়োগ : যারা তরুণ, তারা অনেক বেশি রিস্ক নিতে সক্ষম। অল্প বয়স থেকে চাকরি করছেন, তারা কিছু টাকা জমিয়ে ফেলার পর মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ারে টাকা লাগাতে পারেন। সাধারণত, তরুণরা তাদের আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করে থাকে। কিন্তু বয়স্করা অত বেশি পরিমাণে রিস্ক নিতে পারে না। তাদের জন্য ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ করা যুক্তিসঙ্গত। তাছাড়া মানি মার্কেট অ্যাকাউন্ট ও মিউচুয়াল ফান্ডেও টাকা বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তবে এসবের জন্য মার্কেট সম্পর্কে ধারণার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাও থাকা দরকার।

বহুমুখী বিনিয়োগ অথবা সেভিংস : অর্থনৈতিক পরিবেশ অনিশ্চিত একটা বিষয়, যে কোনো সময় অনেক বড় ধরনের উলটপালট হয়ে যেতে পারে। এ জন্য আপনার সব টাকা একই সেক্টরে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে যে কোনো সময় আপনি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা, সম্পত্তি, এনুইটি অথবা রিয়েল এস্টেটে টাকা বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

বাহুল্য খরচের লাগাম : অনেক রকম বাজে খরচ করি আমরা, যা আপাত দৃষ্টিতে বাজে খরচ না মনে হলেও মূলত ব্যাপারটা তাই-ই। বাহুল্য খরচের লাগাম টেনে ধরতে হবে। সংসার শুরু করার পর সাধারণত টাকা বাঁচানোর স্কোপ কমে যায়। নতুন সংসার যা পারলেন কেনাকাটা করলেন, এই ঘোর থেরে বেরিয়ে আসতে হবে। দুজনেই বুঝতে হবে যে, টাকা বাঁচানোটা খুব জরুরি।

নো ক্রেডিট কার্ড : ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার জন্য অনেক ব্যাংক ‘বিভিন্ন অফার’-এর টোপ দেবে। একদম গিলবেন না। ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা করে অযথা সুদ গোনার কোনো দরকারই নেই। এতে খরচ বাড়ে, কমে না। কোনো জিনিস ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনা মানে বর্তমানে সেটা কেনার সামর্থ্য এখনো হয়নি আপনার। বরং অ্যাচিভ করার চেষ্টা করুন সেটি। নগদ টাকায় বা ডেবিট কার্ডে যা কেনা যায় সেটাই কিনুন।

মানি ম্যানেজমেন্ট : ফিন্যান্সিয়াল ইয়ারের শুরু থেকে টাকা-পয়সার ব্যাপারে সতর্ক হোন। প্রতি মাসের পে-সিøপ আলাদা করে ফাইল করে রাখুন। ব্যাংকে চেক বা টাকা জমা দেওয়ার সিøপও যতœ করে রাখুন। এই দরকারি কাজগুলো বছর শেষে প্রয়োজন হতে পারে। কাছের বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন যারা ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে পারদর্শী, তাদের সঙ্গে বসে নিজের মানি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন। যদি এদের কারো সহায়তা না নিতে চান, তা হলে এ ব্যাপারে কোনো প্রফেশনাল ট্যাক্স কনসালট্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তবে পুরোটাই তার ওপর ছেড়ে নিশ্চিন্ত না হয়ে মাঝে মাঝে খোঁজখবর নিন।

সন্তানের পড়াশোনা : নিজের সন্তানকে পড়ানোর ব্যাপারে ব্র্যান্ডের পেছনে দৌড়বেন না, বরং দেখুন ভালো মানের শিক্ষা কোথায় পাওয়া যায়। অনেক কম খরচের স্কুল-কলেজেও কিন্তু ভালো শিক্ষা মেলে।?

ঋণের বোঝা কমানোর চেষ্টা : সব সময় ঋণমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ঋণ হতে পারে, তবে তা দ্রুত শোধ দেওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার যদি নিজের গাড়ি থাকে এবং আপনার স্ত্রীর খরচ যদি আপনাকে চালাতে না হয়, এটা আপনার অর্থনৈতিক চাপ অনেকটা কমিয়ে দেয়। যদি একটি বাড়ি থাকে, তবে তা অবসর গ্রহণের পর আপনার জন্য এবং আপনার মৃত্যুর পর আপনার প্রিয় মানুষের জন্য অনেক সহায়ক হয়।

সেলফ ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট : এ বিষয় নিয়ে প্রচুর লেখা পাবেন ইন্টারনেটে। সেগুলো পড়তে পারেন। অথবা সহজ ভাষায় সেলফ ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে লেখা হ্যান্ডবুক কিনে পড়তে শুরু করুন। বলা যায় না হয়তো বিষয়ের গভীরে ঢুকতে শুরু করলে আপনিও একটা নতুন এরিয়া অব ইন্টারেস্টের সন্ধান পেয়ে যেতে পারেন। জানতে পারেন নতুন তথ্য, যা দিয়ে মানি ম্যানেজমেন্টে সহায়তা করবে।

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে