x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিকালের মধ্যেই বিদ্যুৎ বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে: বিইআরসি

গ ল্প

জ্যোৎস্নালিপির বোনফোঁটা

  অনলাইন ডেস্ক

০২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তুই আমাকে সব সময় ফোঁটা দিবি তো দিভাই। হ্যাঁ, দেব। কিন্তু তুই যখন শ্বশুরবাড়িতে চলে যাবি, তখন? হি-হি। দূর পাগল, দিদি কখনো শ্বশুরবাড়িতে যায়? এসব দুষ্টু দুষ্টু কথা তোকে কে শিখিয়েছে রে ভাই? দাঁড়া, মাকে বলছিÑ এই বলে ভাইয়ের কান টানলে অদ্রিজা তার পিছে ছুট লাগায়। যে কোনোভাবেই হোক, ভাইকে ধরতে হবে। নিলয় মায়ের পেছনে গিয়ে লুকায়। মা বলেÑ কী হয়েছে রে দুই দুষ্টুর? এত লাফালাফি কেন? দেখো না মামণি, আমি নাকি শ্বশুরবাড়ি চলে যাব, ভাইটা কেমন দুষ্টু! মায়ের মুখ বিষণœ হয়ে যায়। দুজনকেই কোলের কাছে টেনে নিয়ে কপালে চুমু এঁকে বলেÑ তোমরা দুজন এখন খেলতে যাও। আমি হাতের কাজটুকু সেরে নিই। ওরা খুনসুটি করতে করতে আবার ছুট দেয়। মা এবার হু-হু করে কেঁদে ওঠে। না, সে কিছুতেই পারবে না অদ্রিজাকে ছেড়ে থাকতে। কিছুতেই না।

অদ্রিজার শরীর খারাপ। কেমোথেরাপিতে তার সব চুল পড়ে গেছে। নিলয় বলেÑ আচ্ছা দিভাই, তুই বেলমাথা হলি কেন? আমি কি আর ইচ্ছে করে বেলমাথা হয়েছি। দেখছিস না, ডাক্তাররা কীসব কষ্ট আমাকে দেয়। মা বলেছে, একটু কষ্ট করলে আমার বুকের মধ্যে যে অসুখ রয়েছে, সেটা সেরে যাবে। তারপর খুব সুন্দর চুল হবে আমার, মা আমাকে অনেক চুলের ব্যান্ড কিনে দেবে। আর আমি যখন আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করব, তখন সেই ব্যান্ডগুলো পরব। চল দিভাই একটু খেলি।

না ভাই, উঠলে আমার খুব কষ্ট হয়। পরে খেলব। নিলয় অদ্রিজার হাত ধরে টানাটানি করে। অদ্রিজা ভাইয়ের আবদার রাখতে গিয়েও পারে না। মন খারাপ করে মাকে বলেÑ দেখেছ মা, দিভাই কেমন দুষ্টু হয়ে গেছে, আমাকে আর ভালোবাসে না। শুধু শুয়ে থাকে। খেলবে বাবা, দিভাইয়ের তো অসুখ, একটু ভালো হলেই খেলবে। আচ্ছা মা, দিভাই ভালো হলে আমরা একদিন কাশফুলের কাছে ঘুরতে যাবÑ মুখ গোমড়া করে বলে নিলয়।

আজ ওরা চারজনে মিলে বেড়াতে এসেছে কাশফুলের কাছে। দুই ভাইবোন কাশবনময় ছুটে বেড়ায়। দুহাতের মুঠোয় যত কাশফুল ধরে, তার সবটাই মায়ের খোঁপায় গুঁজে দেয় অদ্রিজা। নিলয়ও কাশফুল নিয়ে খেলে, হঠাৎই সে টুপিপরা অদ্রিজার কানের মধ্যে একরাশ কাশফুল গুঁজে দিয়ে খিলখিল করে হেসে ওঠে। বলে, দিভাই তুই এখন কাশকুমারী। কাশবনের রানি তুই। অদ্রিজা আদর মাখানো কণ্ঠে বলে, ভাই তাহলে তুই কাশকুমার। খুশি ধরে না ওদের। ওদের মন উড়ে বেড়ায় সাদা সাদা কাশতুলোর মতো। শুধু মা-বাবার মুখ বিষণœ। ওরা জানে অদ্রিজা ওদের মাঝে আর বেশিদিন নেই। তবু অতি আশ্চর্য বলে তো কিছু আছেÑ মা-বাবা সান্ত¡না খোঁজে!

আজ ভাইফোঁটা। গত বছর এই দিনে নিলয়কে ফোঁটা দিয়েছিল অদ্রিজা। মা বলেছে, আজ নিলয়ই অদ্রিজাকে ফোঁটা দেবে। বোনফোঁটা। অদ্রিজার ঘর আজ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। অনেক ফুল দিয়ে। সাদা সাদা ফুল। নিলয় বলে, মা দিভাই এখনো আসে না কেন। মা বলেÑ আসবে বাবা, তোমার বাপির সঙ্গে আসবে। বাবা আসে। তার হাতে বাঁধানো একটা ফটোÑ তাকে আঁকা রয়েছে কাশফুলের মাঝে থাকা অদ্রিজার মুখ। মা বলেÑ এই দেখো তোমার দিভাই এসেছে, এবার তুমি দিভাইকে ফোঁটা দাও। ঘরময় ধূপের গন্ধ। সকালের শিশির দিয়ে চন্দন বেঁটে রেখেছে মা। আঙুলের ডগায় চন্দন নিয়ে দিভাইয়ের কপালে পরিয়ে দেয় নিলয়। অদ্রিজা হেসে ওঠে। নিলয়ও। নিলয় ঠিক দেখতে পায় দিভাইয়ের হাসিমাখা মুখ!

হ অলংকরণ : শাহীনূর আলম শাহীন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে