ছড়াকার ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

  নজরুল ইসলাম নঈম

২৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘মহৎ যে হয় তার সাধু-ব্যবহার।

উপকার বিনা নাহি জানে অপকার।।

দেখহ কুঠার করে চন্দন ছেদন।

চন্দন সুবাস তারে করে বিতরণ।।’

বন্ধুরা, এই কবিতাটি যিনি লিখেছেন, তার নাম ঈশ^রচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ছিলেন একজন কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। ‘খল ও নিন্দুক’ শিরোনামের এ কবিতাটি তারই লেখা। মজার বিষয় হলো, ঈশ^রচন্দ্র গুপ্ত ছোটবেলা থেকেই মুখে মুখে ছড়া কাটতে পারতেন। তার জন্ম ১৮১২ সালের ৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের উপকণ্ঠে কাঁচড়াপাড়ার শিয়ালডাঙ্গায়। বাবার নাম হরিনারায়ণ দাশগুপ্ত আর মায়ের নাম শ্রীমতী দেবী। কবি শুধু ছড়া-কবিতা লিখতেনÑ তা নয়, তিনি হাফ আখড়াই দলের জন্য গানও রচনা করতেন। বাবার আয় ছিল কম। পরিবারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। মাত্র দশ বছর বয়সে মা চলে যান দূর পরবাসে। এরপর তিনি চলে আসেন কলকাতায় জোড়াসাঁকোয় মাতুতালয়ে। কলকাতায় এসে তিনি নিজের চেষ্টায় ইংরেজি, সংস্কৃত, বেদান্ত দর্শন ও তন্ত্রশাস্ত্রে পা-িত্য অর্জন করেন। তখনদার শিক্ষিত সমাজও তাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করে। ঈশ^রচন্দ্র গুপ্তের হাত ধরেই বাংলা কবিতা মধ্যযুগের গ-ি পেরিয়ে আধুনিকতার রূপ পেয়েছিল। তিনি ‘গুপ্ত কবি’ নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। এ ছাড়াও তার ছদ্মনাম ছিল ‘ভ্রমণকারী বন্ধু’। সামাজিক ও ব্যঙ্গকবিতার জন্য তার খ্যাতি ছিল সবচেয়ে বেশি। ঈশ^রচন্দ্র গুুপ্ত যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুর এবং প্রেমচান তর্কবাগিশের সহযোগিতায় ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ‘সংবাদ প্রভাকর’ প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে ১৪ জুন ১৮৩৯ সালে সাপ্তাহিক পত্রিকাটি দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ঈশ^রচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক। সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা ছাড়াও তিনি সম্পাদনা করেছেন সংবাদ রতœাবলী, সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সাপ্তাহিক পাষ-। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলোÑ বোধেন্দু-বিকাশ, প্রবোধ প্রভাকর, কালীকীর্তন, হিতপ্রভাকর, সত্যনারায়ণের ব্রতকথা প্রভৃতি। কবি ঈশ^রচন্দ্র গুপ্ত ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯ সালে আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে