উত্তম ধরের গল্প

একেই বলে ভাব

  অনলাইন ডেস্ক

০১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক কাক। খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় এদিক-ওদিক। কোথাও খাবার মেলে না। উড়ে উড়ে ডানা ভারী হয়ে গেছে। খুঁজতে খুঁজতে চোখ ব্যথা হয়ে গেছে। অবশেষে এক বাড়ির গাছে বসে। বসেই ঝিরিঝিরি বাতাসে একটু ঝিমায়। ক্লান্তি দূর হলে চোখ মেলেই অবাক। এত খাবার! খাবারের পাশেই এক কুকুর আর এক বিড়াল বসে আছে। কেউ খাবার খায় না। একটি আরেকটির দিকে তাকিয়ে আছে। যেন একটি আরেকটিকে মুখে তুলে খাইয়ে দেবে। এত খাবার দেখে কাকের খুব খাবার খেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু অত সাহস কোথায়! বিড়াল আর কুকুর বলে কথা। কাককে দেখলেই তাড়া করবে। ভয়ে গায়ের পালক খাড়া হয়ে গেছে। তাই কিছুক্ষণ ভাবনা; যাবে কিনা যাবে! ভেবে কোনো কূল পায় না। খিদের কাছে কোনো ভাবনাই ভাবনা না! উড়ে নিচে নামতে যাবে, এমন সময় দুই ভাইবোন। তারা স্কুলে যাবে। এই ফাঁকে দুজন দুই টুকরা খাবার হাতে নেয়। একজন বিড়ালকে, আরেকজন কুকুরকে খাবার দেয়। ওরা গবগব খায়। দুই ভাইবোন যেতে যেতে বলতে থাকে। কেউ হাতে না তুলে খাবে না। আদর পেয়ে পেয়ে খেতেও ভুলে গেছে!

কাক বুঝতে পারে, ওদের খাইয়ে দিলেই খাবার জুটবে। খিদে মিটবে। কিন্তু ওরা কি আমার ঠোঁটে খাবার খাবে? নাকি দেখেই তাড়া করবে! ভয়ে জড়োসড়ো! কিন্তু খিদের কাছে ভয় ছুটে যায়। আস্তে আস্তে উড়ে যায় খাবার পাত্রের কাছে। আর উড়ে আসে গাছের ডালে। আবার যায় খাবার পাত্রের কাছে। বিড়াল আর কুকুর যেন দেখেও দেখে না। কাক এবার এক টুকরো খাবার ঠোঁটে তুলে নেয়। তুলেই আবার রেখে দেয়। আবার উড়ে যায় গাছের ডালে। তবে একটু সাহস বেড়েছে। কাক ভাবে, যা হয় হবে! এবার খাবার ঠোঁটে তুলে বিড়ালকে খাওয়াবে। যদি বিড়াল তাড়া না করে তারপর কুকুরকে খাওয়াবে। তারপর নিজে খাবে।

কাক এবার সাহস করে নিচে যায়। ঠোঁটে এক টুকরো খাবার তুলে নেয়। আস্তে আস্তে বিড়ালের কাছে যায়। কাছে যেতেই ভয়ে খাবার ফেলে দিয়ে উড়ে আসে। দেখেও বিড়াল খাবার খায় না। সত্যিই তো আদর করে মুখে তুলে দিতে হবে! এবার কাক আবার যায়। খাবার ঠোঁটে তুলে বিড়ালের মুখের কাছে ধরতেই গবগব খেয়ে নেয়। সাহস আরও বাড়ে। এবার ঠোঁটে আরেকটা খাবার তুলে কুকুরের মুখে ধরতেই হা করে। কাক খাবার কুকুরের মুখে পুরে দেয়। অমনি গবগব করে কুকুর খাবার খেয়ে নেয়। এভাবে কাক একটি বিড়ালকে, আরেকটি কুকুরকে খাবার দেয়। কয়েকবার খাবার দেওয়ার পর বিড়াল আর কুকুর আর খায় না। বিড়ালও মুখ নাড়িয়ে না বলে, কুকুরও তাই বলে।

কাক বুঝতে পারে, ওরা তাকে খেতে বলছে। তাই কাক এবার এক টুকরো খাবার খায়। তাই দেখে বিড়াল আর কুকুর লেজ নাড়ে। কাকও ডানা ঝাপটায়। বিড়াল ডাকে মিউ মিউ। কুকুর ডাকে ঘেউ ঘেউ। কাক ডাকে কা কা। কাকের আর আনন্দ ধরে না। বিড়াল আর কুকুরেরও আনন্দ ধরে না। এখন আর খাবার নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। কাকেরও আর খাবার খুঁজতে হবে না। এই ভেবে কাক সমান ভাগে খাবার বিতরণ করে। একবার বিড়ালকে, আরেকবার কুকুরকে খাবার দেয়। আবার নিজে খাবার খায়।

প্রতিদিনের মতো দুই ভাইবোন স্কুল থেকে ফিরে তো অবাক! বিড়াল ও কুকুরের খাবারের পাত্র খালি। ভাবে, এ কী করে সম্ভব! এই অলস দুটো কী করে খাবার খেল! স্কুল থেকে ফিরে খেতে না দিলে ওরা খায় না! দুই ভাইবোন ভাবতে থাকে। দুই ভাইবোনের ভাবনা দেখে বিড়াল ও কুকুর হাসতে থাকে। কাকও গাছের ডাল থেকে কা কা করে হাসতে থাকে।

কাক গাছের ডালে বাসা বানায়। বিড়াল ও কুকুর খুশি হয়। এরপর থেকে কাক প্রতিদিন একই কাজ করে। খাবার খাইয়ে দেয় বিড়াল আর কুকুরকে। নিজেও খায়। কয়েক দিন পর দুই ভাইবোন দেখে এক কাক খাইয়ে দেয়। দেখে খুব খুশি হয়। অবাক হয় ওদের ভাব দেখে!

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে