মুরগির খাবার

  ফজল হাসান

০১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনা গল্প

আনুমানিক একশ বছর আগে চীন দেশে বাস করতেন একজন বিচারক। তার নাম ছিল ডুয়ান গুয়াংচিং। নিরপেক্ষ বিচারের জন্য তার যথেষ্ট সুনাম ছিল।

একদিন বিচারক বাজারের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি একটা হাঁস-মুরগির দোকানের সামনে ভিড় দেখতে পেলেন। তিনি উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে একজন কৃষক তার মাথার ভারী বোঝা একটা মুরগির ওপর ফেলে দিয়েছে এবং চাপা পড়ে মুরগিটি মারা গেছে। বাচ্চা মুরগি ছিল এবং তার মূল্য হবে মাত্র পাঁচ মুদ্রা। কিন্তু দোকানদার সেই কৃষকের টুঁটি চেপে ধরে এবং একশ মুদ্রা দাবি করে। তার যুক্তি ছিল, আগামী দুই বছরের মধ্যে মুরগি অনেক বড় হতো এবং সে যে পরিমাণ অর্থকড়ি দাবি করেছে, মুরগি তাকে সেই পরিমাণ দিতে পারত।

ভিড়ের মাঝে একজন লোক বিচারককে চিনে ফেলে এবং সামনে এগিয়ে আসার জন্য সবাই তাকে পথ তৈরি করে দেয়।

‘আপনি বিচার করুন, মহামান্য!’ বলল মুরগির দোকানদার।

বলেই সে কৃষকের সামনে গিয়ে বিচারকের দিকে আনুগত্যের ভঙ্গিতে মাথা নুইয়ে পুনরায় বলল, ‘এই লোকের অসাবধানতার জন্য আমার মুরগি মারা গেছে। আগামী দুই বছর পর মুরগি আমাকে অনায়াসে একশ মুদ্রা এনে দিতে পারত।’

ভয়ে কৃষকের কথা এলেমেলো এবং আটকে যাচ্ছিল। তার কথা উপস্থিত কেউ বুঝতে পারেনি।

‘মুরগির দাম ধার্য করা হয়েছে একশ মুদ্রা,’ বিচারক কৃষককে বললেন, ‘আমি বলছি, তুমি মুরগির মালিককে তা দিয়ে দাও।’

লোকজনের মাঝে কানাঘুষা শুরু হয়। সবাই আশা করেছিল, বিচারক কৃষকের পক্ষে রায় দেবেন।

বিচারকের রায় শুনে মুরগির মালিক অত্যন্ত আনন্দিত।

‘মাননীয় বিচারক, সবাই বলাবলি করছে আপনি নায্য বিচার করেন,’ মুরগির মালিক খুশিতে দুহাত কচলাতে কচলাতে বলল, ‘আমি এখন অনায়াসে বলতে পারি আপনার চেয়ে ভালো বিচারক কেউ নেই ।’

‘আইন সব সময় নিরপেক্ষ’, বিচারকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। ‘এবার বলো, এক বছরে একটা মুরগি কতটুকু পরিমাণ শস্যদানা খেতে পারে।’

‘প্রায় আধা বস্তা,’ বলল মুরগির দোকানদার।

‘সুতরাং যে মুরগি মারা গেছে, সে দুই বছরে এক বস্তা শস্যদানা খেত, তাই না?’ বললেন ডুয়ান গুয়াংচিং। ‘তুমি যে এক বস্তা শস্যদানা বাঁচিয়েছ, তা কৃষককে দিয়ে দাও।’

বিচারকের কথা শোনার পর মুরগির মালিকের চোখ-মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। এক বস্তা শস্যদানার মূল্য একশ মুদ্রার চেয়ে বেশি। জনতার ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপের ভয়ে সে ঘোষণা করে যে, কৃষকের কাছ থেকে কোনো মুদ্রা নেবে না। অবশেষে নিরাপত্তার জন্য সে তার দোকানের ভেতর ঢুকে যায়।

[গল্পসূত্র : ‘গুডকিডস.কম’ ওয়েব থেকে নেওয়া।]

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে