গল্প

একদিন তমাল

  ফেরদৌসী সুলতানা রুনা

১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টিয়া, টিয়া, টিয়া। পিয়া, পিয়া, পিয়া। টিট টুইট, টিটির টিট। পাখিদের কলগুঞ্জন, ভোরবেলা প্রতিদিন তমালের ঘুম ভাঙে পাখির কলকাকলিতে। তমালদের বাড়িটি ঢাকা শহরে হলেও ওদের বাড়ির উত্তরের প্রাকৃতিক পরিবেশ মুগ্ধ করার মতো। বাড়িটির উত্তরে খোলা বারান্দা। পাশে একটি ছোট খাল, তমালের কাছে মনে হয় ছোট খালটি আরও প্রশস্ত হতে পারত। কিন্তু খালের চারপাশ ঘিরে কিছু টিনশেড, কিছু বিল্ডিং। খালটির বড় হওয়ার উপায় নেই। আবার আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কলা, তেঁতুল, বরই ইত্যাদি গাছ খালটির চারপাশে রয়েছে, যা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে।

তমাল প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এই বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে গাছ-গাছালি, পাখি আর খালটি দেখার জন্য বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। খালটি ওর প্রিয়। মনে হয় ও যদি ওখানে সাঁতার কাটতে পারত। কিন্তু মা যা ভীতু, ভোরবেলার পরিবেশটাই অন্যরকম হালকা কুয়াশাঢাকা, ঝাপসা চারপাশ। নরম স্নিগ্ধ বাতাস চোখে-মুখে তাদের বুলিয়ে যায়। মনটাই ভালো হয়ে ওঠে। তমাল টিয়ার ডাক শুনে কিছুদিন ধরে ভাবছে, টিয়াপাখি কি এখানে আছে? ওর মা বলেছে টিয়া সহজে লোকালয়ে আসে না। মুক্ত টিয়া দেখার খুব শখ তমালের। কিন্তু ভোরে বারান্দায় এলে শালিক, চড়–ই কিছু মাছরাঙা দেখা যায়। আজ তমালের মন খারাপ। মা ওকে ভীষণ বকেছে, গতকাল ওর টিউটোরিয়াল পরীক্ষার খাতা দিয়েছে। অঙ্কে সাংঘাতিক রকমের কম নম্বর পেয়েছে। অঙ্কটা কে যে আবিষ্কার করেছে? অঙ্ক করতে ওর একটুও ভালো লাগে না। হঠাৎ মায়ের মিষ্টি গলার ডাক শোনেÑ কিরে তমাল তোর প্রকৃতি দেখা শেষ হলো/বেলা কত? নাশতা খেতে হবে না! পাঁচ মিনিটের মধ্যে খাবার টেবিলে আয়। তমাল কিছুক্ষণের মধ্যে নাশতা খেয়ে পড়ার টেবিলে আসে। পেছন পেছন ওর ছোট বোন ময়না এসে আদুরে গলায় বলেÑ ও তমাল ভাইয়া আমাকে একটা রাক্ষসের গল্প বলো না? তমাল ক্ষেপে উঠে চোখ দুটি বড় করে গম্ভীরভাবে বলেÑ গেলি এখান থেকে। ময়না কাঁদো কাঁদো স্বরে রিনরিনে গলায় বলে, ভাইয়া আমাকে বকা দিও না। একটা গল্প বলো প্লিজ। ওদিক থেকে মা উচ্চকণ্ঠে বলে, কিরে সকালবেলা লেখাপড়া বাদ দিয়ে তোরা ঝগড়া করছিস নাকি? দুজনেই চুপ। তমাল ভাবে মা যেদিন ওকে বকা দেয় তার পরের দিন একটু বেশি স্নেহ করে। এ সুযোগটাও কাজে লাগায়। আজ স্কুল বন্ধ। তমাল ওর প্রিয় বন্ধু রিয়াদকে মায়ের মোবাইলে ফুটবল খেলার প্রস্তাব দিয়ে মেসেজ পাঠায়। রিয়াদ যেন এই আশাতেই ছিল। দশ মিনিটের মধ্যে ওদের কলিংবেল বেজে ওঠে। তমাল দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখে রিয়াদ মধুর হাসিতে চোখ-মুখ ভরিয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রিয়াদ বিস্ময়মাখা গলায় বলে, কিরে তমাল অমনভাবে তাকিয়ে আমাকে কী দেখছিস? তমাল বলে, না ভাবছিলাম এত দ্রুত আমাদের বাসায় আসবি তা ভাবতেই পারিনি। ভালোই হলো তাড়াতাড়ি খেলা শুরু করা যাবে। মুন্না, রাজাদের খবর দিয়েছিস তো? তমাল বলে, হ্যাঁ, হ্যাঁ এখনই ওরা আসবে। আমরা রাজাদের বাসার সামনের আঙিনায় ফুটবল খেলব। রিয়াদ উচ্চকণ্ঠে বলে, নো চিন্তা, ডু ফুর্তি। ওদের চোখে-মুখে খুশির ঝলক।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে