প্রকৃতির রহস্য ফুটন্ত নদী

  প্রদীপ সাহা

১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ফুটন্ত নদী’ নামটা শুনেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে তোমাদের, তাই না? এটি আমাজন জঙ্গলের একটি রহস্যজনক নদী। নাম মায়ানতুইয়াসু। বলতে পারো এটি মৃত্যুফাঁদ। যে কোনো জীব পড়লে মুহূর্তের মধ্যে গলে যায়। শুধু কী তাই! নদীটির কাছাকাছি গেলেও হাড়মাংস ঝলসে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাই জঙ্গলের এ অংশে কোনো জীবজন্তু বাস করে না। পরিবেশ একেবারে নীরব থাকে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কিলোমিটার। পেরুতে আমাজন জঙ্গলের একেবারে গভীরে বয়ে চলেছে নদীটি। জল টগবগ করে ফুটছে অনবরত। নদীর পানি থেকে শুধু ধোঁয়া উঠছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, নদীটির আশপাশে বা বহুদূরের অঞ্চলে কোনো সুপ্ত বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি নেই! নদীটি আবিষ্কার করেছেন আন্দ্রে রুজো নামে এক তরুণ ভূবিজ্ঞানী। তিনি জানান, ‘খুব ছোটবেলায় দাদুর মুখে রূপকথার গল্প শুনতাম। একবার তিনি এই ফুটন্ত নদীটির গল্প বলেন। মেক্সিকো ও পেরুর স্পেনীয় সৈন্যরা শেষ ইনকা শাসককে হত্যা করার পর সেনাপতির নেতৃত্বে আমাজনের জঙ্গলে ঢোকে সোনার খোঁজে। কোনোভাবে প্রাণ হাতে নিয়ে ফেরার পর সেনাপতি জানান জঙ্গলের মানুষখেকো সাপ, বিষাক্ত পানি ও ফুটন্ত নদীর অভিজ্ঞতা। একজন ভূবিজ্ঞানী হিসেবে ঠিক করে ফেলি, মায়ানতুইয়াসু নদী খুঁজে বের করবই।’ আন্দ্রে আরও বলেন, ‘গবেষণার সময় ওই নদীর বিষয়ে আমার সহগবেষক, বিভিন্ন খনি সংস্থার মানুষ বলে, এ রকম কোনো নদীর অস্তিত্ব নেই পৃথিবীতে। সবার বক্তব্য, ফুটন্ত নদীর জন্য কাছাকাছি আগ্নেয়গিরি থাকতে হয়। তাপের উৎস না থাকলে, পানি গরম হবে কী করে?’ সবার কথা শুনে আন্দ্রে নিজেই আমাজনের গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়েন। তিনি নিজের চোখে দেখেন সেই মরণফাঁদ। আন্দ্রের কথায়, ‘চারদিক ধোঁয়ায় ভরা। ছোট্ট নদীটি ক্রমে ফুটছে। পানি একটু ছুঁতেই যেন থার্ড ডিগ্রি লাগল। বুঝলাম, এটি সাক্ষাৎ মৃত্যুফাঁদ। একটি মরা ব্যাঙ ডুবিয়ে দেখলাম, এক সেকেন্ডে সিদ্ধ হয়ে গেল! এই তীব্র তাপের উৎস কী, তা বুঝতে পারছি না। তবে গবেষণা করছি।’ তিনি বলেন, ‘নদীর কাছাকাছি এলাকায় গাছ কাটা হচ্ছে। উপজাতিরা চাষের জন্য জমি তৈরি করছে। বিশ্বের অবাক করা এ ফুটন্ত নদীকে বাঁচাতে হবে। নইলে অচিরেই লুপ্ত হয়ে যাবে মায়ানতুইয়াসু। ফুটন্ত নদীর রহস্য রহস্যই থেকে যাবে সবার কাছে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে