প্রাচীন ভারতীয় উপকথা অবলম্বনে গল্প

চালাক সারস পাখি

  আহমেদ জসিম

১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক পুকুরের ধারে বাস করত একটি সারস পাখি। সে পুকুরটি থেকে মাছ, কাঁকড়া ও ব্যাঙ ধরে খেত। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্রমেই কমে যেতে লাগল। ফলে এক সময়ে সে আর পুকুরের জল থেকে মাছ শিকার করতে পারছিল না।

ক্ষুধার্ত সারসটি তার খাবারের জোগান ঠিক রাখার জন্য মনে মনে একটি ফন্দি আঁটল। একদিন সে মন খারাপের ভান করে পুকুরের জলের ধারে দীর্ঘ সময় ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। নানা রকমের মাছ ও কাঁকড়া তার সামনে দিয়ে অবাধে চলাফেরা করতে লাগল। সে বিমর্ষ হয়ে দাঁড়িয়েই রইল। এদিকে মাছ শিকার করতে না পারার কষ্টে তার চোখ দুটি জলে ভরে উঠল। তার অমন অবস্থা দেখে একটি মাছ সাহস করে এগিয়ে এসে তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘কী সারস ভাই, তুমি অমন মন খারাপ করে রয়েছ কেন? দেখে মনে হচ্ছে তোমার পেটে ভীষণ খিদে। দুদিন ধরে তোমাকে যে কিছুই খেতে দেখিনি।’

সারস বলল, ‘ঠিকই বলেছ ভাই। কয়েক বছর ধরেই তো এ পুকুরের ধারে বসবাস করছি। তাই খারাপ খবরটা শুনে আমি মনে ভারি কষ্ট পেয়েছি। শুনছি, এ পুকুরটি নাকি ভরাট করে ফেলা হবে। তা হলে যে তোমরা সবাই মারা পড়বে। অমন খারাপ খবর শুনে কার না মন খারাপ হয় বলো?’ সারসের কথায় পুকুরময় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। একটি মাছ সারসকে বলল, ‘আমাদের জীবন বাঁচানোর কোনো উপায় কি নেই ভাই?’ সারস জবার দিল, ‘আমার পক্ষে যা সম্ভব তা হলো তোমাদের সবাইকে একে একে অন্য একটি বড় পুকুরে নিয়ে রেখে আসা। এটি ছাড়া তোমাদের বাঁচানোর অন্য কোনো পথ যে আমার কাছে জানা নেই।’

‘তা হলে আমাদের সাহায্য করো’Ñ সব মাছ, কাঁকড়া ও ব্যাং একসঙ্গে বলে উঠল। সারস রাজি হলো। সে প্রতি দফায় একটি করে জলজীবকে ঠোঁটে নিয়ে অদূরের একটি বড় পুকুরের উদ্দেশে উড়াল দিতে লাগল। অন্যরা অপেক্ষা করতে লাগল যার যার পালার জন্য। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ দফায় এ কাজ চলছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সারসের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এলো। অবশেষে একদিন পুকুরের সর্বশেষ প্রাণী বড় কাঁকড়াটির পালা এলো। সে পুকুর বদলের সুযোগ পেয়ে মহাখুশি।

সারসটি বড় কাঁকড়াটিকে দুই ঠোঁটের মাঝে আটকে নিয়ে বড় পুকুরটির দিকে উড়াল দিল। ওড়ার পথে নিচে একটি ছোট টিলার মাথায় চোখ পড়তেই কাঁকড়া আঁতকে উঠল। সে দেখতে পেল সেখানে মাছেদের রাশি-রাশি হাড়গোড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। কাজেই জীবন বাঁচানোর নাম করে সারসটি সাথীদের মতো তাকেও যে সাবাড় করার জন্য নিয়ে আসছে তা বুঝতে বাকি রইল না কাঁকড়াটির।

কাঁকড়া মোটেই সময় নষ্ট করল না। সে চট করে তার দুপাশের নখযুক্ত চওড়া থাবা দিয়ে জোরেশোরে সারসটির গলা পেঁচিয়ে ধরল। তাতে ক্রমে সারসের শ^াস বন্ধ হয়ে আসছিল। সারস অনেক অনুনয়-বিনয় করল গলার বাঁধন আলগা করার জন্য। কাঁকড়া কিছুতেই রাজি হলো না। অবশেষে শ^াস বন্ধ হয়ে সারসটি মারা গেল।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে