‘মোছ আঁখি’ কবিতার কবি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ

  নজরুল ইসলাম নঈম

১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোছ আঁখি, মনে কর এ বিশ্ব সংসার

কাঁদিবার নহে শুধু বিশাল প্রাঙ্গণ।

রাবণের চিতাসম যদিও আমার

জ্বলিছে জ্বলুক প্রাণ, কেন গো ক্রন্দন?

‘মোছ আঁখি’ শিরোনামের কবিতাটি লিখেছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। কি একটু অবাক লাগছে! অবাক হওয়ার কিছু নেই। চিত্তরঞ্জন দাশ পেশায় আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হলেও তিনি কবিতাও লিখেছেন। চিত্তরঞ্জন দাশের জন্ম ৫ নভেম্বর ১৮৭০ সালে। বাবা ভুবনমোহন দাশ ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের অ্যাটর্নি। মায়ের নাম নিস্তারিণী দেবী। তার পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুরের তেলিরবাগ গ্রামে।

চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৮৬ সালে ভবানীপুর লন্ডন মিশনারি স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। তার পর প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। এ কলেজ থেকে ১৮৯০ সালে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য লন্ডন যান। এ পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হয়ে মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে আসেন ১৮৯৩ সালে। এ সময় ভারত সরকার কর্তৃক প্রখ্যাত মিউনিশন্স বোর্ডঘটিত মোকদ্দমায় প্রচলিত নিয়ম উপেক্ষা করে শে^তাঙ্গ অ্যাডভোকেট জেনারেলের অপেক্ষা অধিক পারিশ্রমিক দিতে স্বীকৃত হয়ে তাকে সরকারি কৌঁসুলি নিযুক্ত করা হয়। অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় এ দায়িত্ব পরিত্যাগ করেন। এ অসামান্য ত্যাগের জন্য বাংলার জনসাধারণ তাকে ‘দেশবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে।

চাকরির ক্ষেত্রে অবহেলিত মুসলমানদের অধিক হারে চাকরিদানের নীতি গ্রহণ করেন। চিত্তরঞ্জন দাশ একজন ক্ষণজন্মা রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য ও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অর্জন ছিল তার রাজনীতির মূল দর্শন। এ দেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

চিত্তরঞ্জন দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো মালঞ্চ, মালা, সাগর সঙ্গীত, অন্তর্যামী ও কিশোর-কিশোরী। তার পতœী বাসন্তী দেবীর সহযোগিতায় ‘বাঙালার কথা’ (১৯২১-১৯২২) নামক সাপ্তাহিক পত্র প্রকাশ করেন তিনি। ১৬ জুন ১৯২৫ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে